মালদায় চূড়ান্ত বিপদসীমায় গঙ্গার জলস্তর, ভাঙন বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে বিধায়ক-প্রশাসন
মানিকচকে চরম বিপদসীমায় গঙ্গার জলস্তর ৷ জারি কমলা সতর্কতা ৷ মানিকচক, ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক-3 ব্লকে বাড়ছে ভাঙন ৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন বিধায়ক-প্রশাসনের কর্তারা ৷

Published : September 1, 2026 at 5:44 PM IST
মালদা, 1 সেপ্টেম্বর: চরম বিপদসীমায় পৌঁছে গেল গঙ্গা ৷ রাজ্য সেচ দফতরের পোর্টাল অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল আটটায় মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর 25.30 মিটার রেকর্ড করা হয়েছে ৷ জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা ৷ এদিকে রতুয়া 1 নম্বর ব্লকের পাশাপাশি মানিকচক, ইংরেজবাজার ও কালিয়াচক 3 নম্বর ব্লকেও গঙ্গা ভাঙনের দাপট বাড়ছে ৷ এদিন দুই বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তারা ভাঙন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন ৷ কালিয়াচক 2 নম্বর ব্লকেও ভাঙন প্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনিক কর্তারা ৷
উত্তর ভারতে ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ের বরফ গলা জল দ্রুতগতিতে গঙ্গা বেয়ে নেমে আসছে ৷ এদিন ঋষিকেশে গঙ্গার জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে ৷ সেই ছবি ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ৷ মালদা জেলাতেও কয়েকদিন ধরে জলস্তর বৃদ্ধি হচ্ছে গঙ্গার ৷ সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের দাপট ৷ এদিনই কালিয়াচক 3 নম্বর ব্লকের পারদেওনাপুর শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলাপ মণ্ডল পাড়ায় গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে সাতটি বাড়ি ৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বিধায়ক রাজু কর্মকার এবং বিডিও বাপি হালদার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন ৷

বিধায়ক রাজু কর্মকার বলেন, ‘‘গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধিতে আপ স্ট্রিমের সঙ্গে এবার ডাউন স্ট্রিমেও ভাঙন শুরু হয়েছে ৷ আজ আমরা গোলাপ মণ্ডল পাড়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছি ৷ দুর্গত মানুষজনের হাতে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন ৷ তবে এখন গঙ্গার জলস্তর যে জায়গায় রয়েছে, তাতে ভাঙন রোধের কাজ করা অত্যন্ত দুষ্কর ৷ গোটা বিষয়টি সেচ দফতরের ইঞ্জিনিয়রদের জানাচ্ছি ৷ আপাতত অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজ করা যায় কি না, দেখা হচ্ছে ৷’’

এদিন সেচ দফতরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শুভঙ্কর গুড়িয়া এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে মানিকচকের গোপালপুর এবং ইংরেজবাজারের খাসকোল এলাকায় গঙ্গা ভাঙনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলও ৷ তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন ৷ তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন ৷ বিধায়ককে কাছে পেয়ে সেচ দফতরের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন দুর্গতরাও ৷ তাঁদের অভিযোগ, শুখা মরশুমে সেচ দফতর ভাঙন রোধের কোনও কাজ করে না ৷ গঙ্গার তাণ্ডব রুখতে বোল্ডার পিচিং কিংবা কংক্রিট দিয়ে পাড় বাঁধাই করা হয় না ৷ শুভঙ্করবাবু তাঁদের আশ্বাস দেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ৷

গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘‘খাসকোলে গঙ্গার ভঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে 48টি দুস্থ পরিবার ৷ এসব পরিবারের সদস্যরা এখন খাসকোল হাইস্কুলে কষ্টের সঙ্গে দিন যাপন করছেন ৷ আজ তাঁদের হাতে আমরা মশারি, ত্রাণের কিট, শুকনো খাবার-সহ বেশ কিছু সামগ্রী তুলে দিয়েছে ৷ দুর্যোগের দিনে অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য ৷ গঙ্গার জল অনেক জায়গায় পাড় উপচে গিয়েছে ৷ সঙ্গে ভাঙনও চলছে ৷ তবে গঙ্গায় এখন প্রচুর জল ৷ এখন বালির বস্তা ফেলা ছাড়া অন্য কোনও কাজ করা সম্ভব নয় ৷ সেচ দফতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৈরি আছে ৷’’

এদিন কালিয়াচক 2 নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুর এলাকায় গঙ্গা ভাঙনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্তারা৷ তাঁরা পঞ্চানন্দপুর ঘাট ও ছেতরুটোলা এলাকায় সেচ দফতরের তিনটি কাজও খতিয়ে দেখেন ৷ কথা বলেন স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে ৷ এলাকার মানুষজন ভাঙন রোধের বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রশাসনিক কর্তাদের জানান ৷

অতিরিক্ত জেলাশাসক গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার মানুষজনকে সতর্ক করে জানান, তাঁরা যেন আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যান ৷ দুর্যোগের সময় সবাই যেন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলেন ৷ তাঁরা আশ্বস্ত করেন, গঙ্গা ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠাবেন তাঁরা ৷ সেই রিপোর্টে স্থানীয়দের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে ৷

জেলা সেচ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আজ সকালে মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর 25.30 মিটার রেকর্ড করা হয়েছে ৷ অর্থাৎ গঙ্গা আজ চূড়ান্ত বিপদসীমায় পৌঁছে গিয়েছে ৷ আপাতত নদীর জলস্তর স্থিতিশীল রয়েছে ৷ তবে আগামী কয়েকদিন জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৷ আজ থেকে ফুলহরের জলস্তর কমতে শুরু করেছে ৷ সকালে ওই নদীর জলস্তর ছিল 26.91 মিটার ৷ বিপদসীমা 27.43 মিটার থেকে 52 সেন্টিমিটার নিচু দিয়ে বইছে ফুলহর ৷ আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলেছি ৷ যেখানে যা পদক্ষেপ করা প্রয়োজন, তা করা হচ্ছে ৷’’

