ETV Bharat / state

6জি-র মানচিত্রে ভারতের ছাপ ! প্রযুক্তিতে গতি আনতে TEC-IIT খড়গপুরের মউ স্বাক্ষর

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম মান নির্ধারণে দেশীয় দক্ষতা বাড়লে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে ।

IIT Kharagpur
TEC-IIT Kharagpur মউ চুক্তি (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 27, 2026 at 7:29 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

খড়গপুর, 27 ফেব্রুয়ারি: যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে বড় পদক্ষেপ । টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ক্ষেত্রে জাতীয় মান নির্ধারণ, গবেষণা ও উদ্ভাবন জোরদার করতে টেলিযোগাযোগ দফতরের টেলিযোগাযোগ প্রকৌশল কেন্দ্র (TEC) এবং Indian Institute of Technology Kharagpur-এর মধ্যে মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হল। 6জি-র প্রস্তুতিপর্বে এই চুক্তিকে কৌশলগত অগ্রগতি বলেই মনে করছে প্রযুক্তি মহল ।

সমঝোতা স্মারকে সই করেন টিইসি-র ডিডিজি (এফএ) কমল কুমার অগ্রওয়াল এবং আইআইটি খড়গপুরের সহযোগী ডিন (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক দেবদীপ মুখোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়গপুরের পরিচালক অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, অধ্যাপক গৌতম দাস, অধ্যাপক দেবারতি সেন এবং টিইসি-র ডিডিজি সৌভিক কুমার দাস।

এই অংশীদারিত্ব 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া', 'আত্মনির্ভর ভারত' এবং 'ভারত 6 জি ভিশন'-এর মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে উঠেছে । দেশের টেলিকম ক্ষেত্রে মান, স্পেসিফিকেশন, পরীক্ষা পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা টিইসি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে—বিশেষত আইটিইউ-টি ও আইটিইউ-আর মঞ্চে । ফলে এই জোটের প্রভাব গবেষণাগার ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মান নির্ধারণের পরিসরেও বিস্তৃত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে ।

যৌথ সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে উন্নত অ্যান্টেনা সিস্টেম ও এমআইএমও প্রযুক্তি—5জি এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের জন্য যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন ও মান নির্ধারণের উদ্যোগ । পাশাপাশি প্যাসিভ অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক (PON) প্রযুক্তির স্থাপত্য, স্থাপনার মডেল এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন নিয়েও যৌথ কাজ হবে ।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইএমএফ মনিটরিং এবং স্মার্ট আইওটি সমাধান । কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমর্থিত আইওটি সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে জননিরাপত্তা জোরদার ও নিয়ন্ত্রক মান রক্ষা—এই লক্ষ্যেই উন্নত নিরাপত্তা ল্যাব প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে । এর পাশাপাশি উদীয়মান টেলিকম ও আইসিটি ক্ষেত্রেও পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করবে দুই সংস্থা ।

আইআইটি খড়গপুরের তরফে জানানো হয়েছে, গবেষণাকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করাই এই চুক্তির মূল সুর । প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যেন সরাসরি জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগে—এই লক্ষ্যেই উদ্যোগ । বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম মান নির্ধারণে দেশীয় দক্ষতা বাড়লে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে ।

6জি-র দৌড়ে বিশ্ব যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন খড়গপুর থেকে উঠে আসা এই সমঝোতা ভারতের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার পথে এক তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে ।

আরও পড়ুন: