বারুইপুরকাণ্ডে চতুর্থ গ্রেফতারি, বসিরহাট থেকে ধরা পড়ল কবীর মোল্লা
বসিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় কবীর মোল্লাকে ৷ তদন্তকারীরা মনে করছেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।

Published : July 8, 2026 at 12:53 PM IST
বারুইপুর, 8 জুলাই: নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক ৷ বসিরহাট থেকে গ্রেফতার কবীর মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। এর ফলে বারুইপুরের ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল চার। এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং প্রভাস মণ্ডল নামে তিন অভিযুক্ত। তবে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের গুলিতে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয় ৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কবীরে খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। শেষমেশ বসিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বারুইপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে ধৃতকে। তাকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। তদন্তকারীদের অনুমান, কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসবে।
প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম রিকনস্ট্রাকশন) করতে সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রভাসকে। সেখানে ঘটনাস্থল দেখানোর সময় আচমকা সে এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে সেটি প্রভাসের গায়ে লাগে। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা প্রথমে আনন্দ সর্দার ও তারপরে দিবাকর সর্দারের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। সেই সূত্র ধরেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। তদন্ত যত এগোয়, ততই কবীর মোল্লার নাম উঠে আসে। এরপর থেকেই তার খোঁজে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। অবশেষে বসিরহাট থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার বারুইপুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাবালিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ, ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের কাজে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যেই 20 জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
পুলিশের বক্তব্য, যৌন নির্য়াতন ও খুনের মামলার পাশাপাশি গণহিংসা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনাগুলিও সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বারুইপুরে গিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীও বলে দিয়ে এসেছেন অপরাধ যারা করেছে সরকার তাদের ভোগাবে ৷ এদিকে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাতেও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজের খোলসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে।
বারুইপুরকাণ্ডে একের পর এক গ্রেফতার এবং তদন্তের অগ্রগতির ফলে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। বসিরহাট থেকে কবীর মোল্লার গ্রেফতারকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছে পুলিশ। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। পুলিশের দাবি, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য কারও ভূমিকা সামনে এলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।

