মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে অ্যাড-অন কোর্সে যুক্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠাতার ইতিহাস
কলেজ চায় ছাত্রছাত্রীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত ইতিহাস ও মূল্যবোধও আত্মস্থ করুক অ্যাড-অন কোর্সের মাধ্যমে ।

Published : November 30, 2025 at 5:29 PM IST
কলকাতা, 30 নভেম্বর: মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজে এবার নিয়মিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে উদ্যোগী কলেজ কর্তৃপক্ষ । কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাবনা, এবার থেকে কলেজের ইতিহাস এবং প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর জীবন ও কর্মকে অ্যাড-অন কোর্স হিসাবে পড়ানো হবে । তরুণ প্রজন্মকে তাঁদের প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত ঐতিহ্য, নবজাগরণের প্রভাব এবং প্রতিষ্ঠাতার মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও সচেতন করতেই এই পদক্ষেপ ।
মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের প্রতিষ্ঠা
1941 সালে কলকাতার শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড়ের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয় মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ । বাংলার নবজাগরণ কালে সংস্কারক ও সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী ছিলেন শিক্ষা প্রসারের অন্যতম পুরোধা ।
কলেজে প্রদর্শনশালার উদ্বোধন
তাঁর অবদানকে কেন্দ্র করে বুধবার কলেজের অন্দরে একটি প্রদর্শনশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য শশী পাঁজা । এই নতুন প্রদর্শনশালায় জন্ম থেকে মৃত্যু - মহারাজার জীবনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে । পাশাপাশি রাখা হয়েছে কিছু বিরল ছবি, যার নীচেই দেওয়া রয়েছে কিউআর কোড । ছাত্রছাত্রী বা দর্শনার্থীরা সেই কোড স্ক্যান করলেই আরও বিস্তৃত তথ্য সহজেই জানতে পারবেন ।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতার অবদান জানাতে উদ্যোগ
কলেজের সদ্যনিযুক্ত অধ্যক্ষ গৌতম ঘোষ জানান, "অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা সম্পর্কে অবগত নন । তাই ‘মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র অ্যান্ড ফ্যামিলি’ নামে এই জাদুঘর-স্থান তৈরি করা হয়েছে । শুধুমাত্র ছবি নয়, মহারাজার ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্রও শিগগিরই সেখানে রাখা হবে বলে জানান তিনি । এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠাতার জীবনযাত্রা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দানশীল মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন ।"
মণীন্দ্রচন্দ্রের জীবন
1860 সালের 29 মে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারে জন্মগ্রহণ করেন মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী । তাঁর মা ছিলেন কাশিমবাজার রাজবংশের কন্যা । মহারানি স্বপ্নময়ীর মৃত্যুর পর 1897 সালে রাজ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনিই কাশিমবাজারের মহারাজা হন । পরের বছর, 1898 সালে, তিনি ‘মহারাজা’ উপাধি পান এবং 1915 সালে ইংরেজ শাসনে সম্মানসূচক নাইটহুডে ভূষিত হন । শিক্ষা বিস্তারে তাঁর আগ্রহ থেকেই গড়ে ওঠে মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ । একই পরিবারের উদ্যোগে স্থাপিত মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ এবং সান্ধ্য শ্রীশচন্দ্র কলেজেও আজ পঠনপাঠন চলে ।
নতুন প্রদর্শনশালা এবং প্রস্তাবিত অ্যাড-অন কোর্স - উভয় উদ্যোগেই কলেজ চায় ছাত্রছাত্রীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত ইতিহাস ও মূল্যবোধও আত্মস্থ করুক ।

