ETV Bharat / state

প্রার্থী হতে চাই না, বিজেপি-তৃণমূলকে একযোগে তোপ জহর সরকারের

বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি ও তৃণমূলকে একযোগে তোপ জহর সরকারকে ৷ 'বাংলার পুনরুত্থান এবং বিকল্পের ভাবনা' বিষয়ক আলোচনাসভায় এমনটা বলেন জহর ৷

BUDDHADEB BHATTACHARJEE
জগদীশ চন্দ্র বসু রোডে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 2, 2026 at 3:18 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 মার্চ: বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করলেন জহর সরকার ৷ সেই সঙ্গে ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার জল্পনায় জল ঢাললেন ৷ শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও মুখ খুললেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ । তিনি বলেন, "রাজনীতি থেকে দূরে আছি বলব না। তবে, প্রার্থী হচ্ছি না। তবে, ফ্যাসিস্টিক রাজনীতির বিরুদ্ধে আছি ৷"

রবিবার ছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআই (এম) নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের 82তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে কলকাতায় 73 নম্বর আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোডে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সেখানে 'বাংলার পুনরুত্থান এবং বিকল্পের ভাবনা' বিষয়ক আলোচনাসভায় অংশ নেন জহর সরকার, অধ্যাপক রতন খাসনবিশ, ডাঃ অরুণ সিং, অনিতা অগ্নিহোত্রী এবং রঞ্জন প্রসাদ ৷

বিজেপি-তৃণমূলকে একযোগে তোপ জহর সরকারের (ইটিভি ভারত)

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জহর সরকার বলেন, "কিছু বিষয়ে একগুঁয়েমি ছিলেন। তিনি বিতর্ক করতেন, করতে দিতেন ৷ রাগারাগি হয়েছে অনেক সময়ে। পরদিন আবার নিজেই ডেকেছেন। এখন সেরকম বিতর্ক হলে সন্দেশখালি পাঠানো হত।"

ছাব্বিশের নির্বাচনে কিছু আশা করছেন, প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, "আশা করার মতো কিছু নেই ৷ তবে, মানুষের মনে ক্ষোভ আছে। না-হলে আরজি কর আন্দোলনের সময় এত মানুষ রাস্তায় নামতেন না। কিছু মানুষ আবার দূরে সরে যাচ্ছে। তাঁরা ভাবছে হয়তো এই সরকার চলে গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে ৷ যেটা ঠিক নয় ৷ এর আগে সরকারি পরিষেবা বন্ধ হয় না। তবে, দুর্নীতি দমনে প্রশাসনকে শক্ত হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে।"

আজকের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট বলেন, "এর আগে এপিডিআর-এর অনুষ্ঠানে গিয়েছি। নকশালদের প্রোগ্রামে গিয়েছি। কংগ্রেসের ডাকে গিয়েছি। যাঁরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, তাদের ডাকে যাব।" এরপরেই তাঁর প্রার্থী হওয়ার জল্পনায় জল ঢেলে তিনি বলেন, "আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যাব না। কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হব না। এমনকী, নিরপেক্ষ প্রার্থী হব না। আমি সংসদীয় রাজনীতিতে আমি নেই। তবে, রাজনীতিতে জড়িয়ে আছি ৷"

বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, "আজকে বুদ্ধবাবুর জন্মদিনে ঘোষণা করা হয়েছে এখানে একটা সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা থাকবে। সুযোগ গড়ে তুলতে হবে। সেন্টার ফর কালচার গড়ে তুলতে হবে।" বিশেষ নিবিড় সমীক্ষায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সোচ্চার হওয়ার বিষয়ে জোর দেন। একইভাবে বেকার সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, "অনেকে ডিগ্রিধারী হয়েও নিম্নস্তরের চাকরিতে আবেদন করেছেন। তারপরও চাকরি পাচ্ছেন না। চাকরির বাজার ভয়াবহ। স্কুল উঠে যাচ্ছে ৷ অফিসের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না ৷ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ৷ চাকরির বাজারে হাহাকার। এই আমাদের বাংলায় ৷ ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রচারে কথা হবে ৷"

অন্যদিকে, সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন বাংলাকে শিল্পোন্নত রাজ্যে পরিণত করতে ৷ শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে জ্যোতি বসুর চিন্তার মাধ্যমে বাংলাকে অনেকটা এগিয়ে নিয়েগেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আজকে পিছনের দিকে হাঁটছি ৷ সেই পিছনের দিকে হাঁটা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সামনের দিকে হাঁটতে হবে ৷"

আজ প্রমোদ দাশগুপ্ত ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ কারণ, পশ্চিমবঙ্গকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নকে তুলে ধরে বাংলায় বামপন্থার পুনরুত্থানের লড়াইকে জোরদার করতে চায়ছে সিপিআই(এম)-সহ বামপন্থীরা।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "আমরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রগতিশীল চিন্তাবিদদের যুক্ত করতে চায় এই লড়াইতে ৷ নতুন প্রজন্মের আশা-আকাঙ্খাকে মর্যাদা দিয়ে বাংলার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা ধ্বংস করেছে তৃণমূল এবং বিজেপি। শিল্পায়নের সম্ভাবনা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে তারা বাংলার যুবদের স্বপ্নভঙ্গ করেছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাংলায় মাথা তুলতে না-দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন, তৃণমূল ও বিজেপি সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র করে তুলেছে বাংলাকে ৷ এখন বাংলাকে বাঁচাতে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের পুনর্নির্মাণ করতে, বামপন্থার পুনরুত্থানের ঘটাতে হবে।"