এটা লজ্জার ! নাকে নল লাগিয়ে SIR শুনানিতে এসে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি কর্মী
শান্তিনিকেতনের বৃদ্ধ দীর্ঘদিন মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন ৷ বর্তমানে তিনি খুবই অসুস্থ ৷ এই অবস্থাতেই তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে হল এসআইআর শুনানিতে ৷


Published : December 30, 2025 at 5:06 PM IST
বোলপুর, 30 ডিসেম্বর: তিনি প্রাক্তন মার্চেন্ট নেভি কর্মী ৷ সম্প্রতি অপারেশন হয়েছে ৷ নাকে এখনও লাগানো রয়েছে নল ৷ এই অবস্থাতেই এসআইআর-এর শুনানিতে হাজিরা দিতে হল এক বৃদ্ধকে ৷ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝরে পড়ল তাঁর গলায় ৷ বললেন, "আমার দুর্ভাগ্য যে, আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে আমি ভারতীয় ৷"
রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর-এর শুনানিপর্ব । প্রতিদিন 'নো ম্যাপিং' ভোটারদের ডেকে তথ্য ও নথি সংগ্রহ করছে নির্বাচন কমিশন । তবে অনেকেরই অভিযোগ, শুনানিপর্বে ভোটারদের নানা রকম ঝক্কি সামলাতে হচ্ছে । রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধরা পড়েছে মানুষের হয়রানির ছবি ৷ কোথাও পাঁজাকোলা করে শুনানি কেন্দ্রে বৃদ্ধাকে নিয়ে যেতে হয়েছে ৷ আবার কোথাও প্রসবের দিনই শুনানিতে হাজিরা দিতে হয়েছে গর্ভবতী ৷ এই নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে উঠেছে হেনস্তার অভিযোগ ৷ এরকমই আরও এক ছবি এবার ধরা পড়ল বীরভূমে ৷

শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা সজল বাগ ৷ বয়স 65 ৷ দীর্ঘদিন মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন ৷ বর্তমানে তিনি বেশ অসুস্থ ৷ অথচ এই অবস্থাতেই তাঁকে কাগজপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে হল এসআইআর শুনানিতে ৷ এতেই তিনি গর্জে ওঠেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ।

মঙ্গলবার বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লক অফিসে চলছিল এসআইআর-এর শুনানি । তাতেই লম্বা লাইন পড়ে ৷ সেখানেই দেখা যায়, নাকে নল লাগিয়ে এক বৃদ্ধ সেই শুনানিতে হাজির হয়েছেন ৷ তাঁর কাছ থেকে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন তিনি মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত ছিলেন ৷ 2002 সালে কর্মসূত্রে হয়তো রাজ্যের বাইরে ছিলেন ৷ সেই কারণে তৎকালীন এসআইআর-এ তাঁর অংশ নেওয়া হয়নি ৷ তবে তাঁর কাছে ভারত সরকারের যাবতীয় নথি থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ও বেতনের যাবতীয় তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধ ।

সম্প্রতি তাঁর মুখের একটি সমস্যার জন্য তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে । এখনও তাঁর নাকে নল লাগানো ৷ চিকিৎসক তাঁকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে বলেছেন বলে জানালেন তিনি ৷ কিন্তু এসআইআর-এর শুনানিতে তাঁকে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে ৷ তাই এই অবস্থাতেও অবসরপ্রাপ্ত নৌসেনা কর্মীকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করতে হচ্ছে তিনি ভারতীয় । এদিন পরিজনের সঙ্গে টোটোয় চড়ে বোলপুর বিডিও অফিসে হাজিরা দেন সজল বাগ ৷ তবে ক্ষোভ ধরা পড়েছে তাঁর গলায় ৷
তিনি জানান, এত বছর মার্চেন্ট নেভিতে চাকরি করেছেন । কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত নথি তাঁর রয়েছে । তাও এত বছর পর তাঁকে প্রমাণ করতে হচ্ছে তিনি ভারতীয় ৷ সজল বাগের কথায়, "আমার দুর্ভাগ্য যে, এত বছর পর আমাকে প্রমাণ করতে হচ্ছে আমি ভারতীয় । এর থেকে দুঃখের আর কী আছে ৷ কষ্ট সহ্য করা আমার অভ্যাস আছে । তবে আমার লজ্জা করছে, ঘৃণা হচ্ছে ৷ এমন দেশে থাকি যে বুড়ো বয়সে আমাকে প্রমাণ করতে হয় আমি এই দেশে থাকতাম ।"
এই ঘটনায় নিন্দা করছেন এলাকার অন্যান্যরাও ৷ যদিও, নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, 85 বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক, শয্যাশায়ী বা বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং গর্ভবতীদের এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে না ৷ হয় ভার্চুয়ালি, নয়তো কমিশনের লোক তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নথি খতিয়ে দেখবেন ৷ সোমবারই এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কমিশন ৷ কিন্তু, রাজ্যের দিকে দিকে ধরা পড়ছে অন্য ছবি ৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ৷

