অযোধ্যার বাবরি মসজিদের ইট হুমায়ুনের হাতে তুলে দেবেন প্রাক্তন জওয়ান
সেই ইটে নাকি আঁকা আছে চাঁদ তারা ৷ এতদিন গ্রামের মসজিদে রাখা ছিল ইটটি ৷

Published : December 8, 2025 at 2:48 PM IST
ডোমকল, 8 ডিসেম্বর: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ গড়তে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ৷ আর তার জন্য আযোধ্যায় বাবরি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে কুড়িয়ে আনা ইট হুমায়ুন কবীরের হাতে তুলে দেবেন ডোমকলের প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান । তিনি হলেন ডোমকল ব্লকের বাজিতপুরের বাসিন্দা আলাউদ্দিন খান ৷
তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন অযোধ্যায় ডিউটিতে ছিলেন তিনি । স্মৃতি হিসেবে সেখান থেকে নিজের ব্যাগে ভরে একটি ইট বাড়িতে এনেছিলেন । গত শনিবার ছেতিয়ানিতে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর । তাঁর হাতে প্রাক্তন সিআরপিএফ জওয়ান তুলে দিতে চান বাবরি মসজিদের সংরক্ষিত সেই ইটটি । আলাউদ্দিন খানের প্রতিবেশীরাও চাইছেন, অযোধ্যার বাবরি মসজিদের ইট কাজে লাগুক মুর্শিদাবাদের বাবরি মসজিদে ।
আলাউদ্দিন খান বলেন, "বাবরি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি ইট এনেছিলাম । খান পাড়ার মসজিদে রাখা ছিল । আমি এটি বেলডাঙার বাবরি মসজিদের জন্য মুক্তহস্তে দান করতে চাই । আমার মনে হয় এটা খুবই পুণ্যের কাজ হবে ।"
আলাউদ্দিনের দাবি, 1992 সালের 6 ডিসেম্বর অযোধ্যায় রাম জন্মভূমিতে তৈরি বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল । তার একমাস আগে ফৈজাবাদ ক্যাম্প থেকে তাঁদের তুলে এনে অযোধ্যায় মোতায়েন করা হয়েছিল । কার্যত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্র সরকার আঁটোসাটো ব্যবস্থা রেখেছিল । 6 ডিসেম্বর ভাঙা হয় বাবরি মসজিদ । কিন্তু তখনও আলাউদ্দিন খানদের কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি । 7 ডিসেম্বর তাঁদের ব্যাটেলিয়ানদের পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামানো হয় ।
আলাউদ্দিনের কথায়, "সেখানে গিয়ে দেখি, বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । ইট যে যা পেরেছে নিয়ে গিয়েছে । ধ্বংসস্তূপ থেকে চাঁদ তারা চিহ্নিত একটি ইট আমি ব্যাগে ভরে নিয়ে এসেছিলাম । গ্রামবাসীদের অনুরোধে সেই ইটটি গ্রামের জামা মসজিদে রাখা ছিল এতদিন ।"
গ্রামবাসীদের দাবি, বাবরি মসজিদের স্মৃতি বহন করে আসছে আলাউদ্দিনের সংরক্ষিত ইটটি । হুমায়ুন কবীর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরির স্বপ্ন নিয়ে শিলান্যাস করেছেন । তার জন্য সৌদি আরব থেকে আনা হয় দুই মুসলিম ধর্মগুরুকে । 12 নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয় । কেউ মাথায় করে ইট আনেন । কেউ সিমেন্ট, কেউ লোহার রড ।
প্রস্তাবিত জমিতে ইট, সিমেন্ট, রডের পাহাড় তৈরি হয়েছে । দান পেটিতে জমা পড়েছে কোটি কোটি টাকা । তার মাঝে আলাউদ্দিন খানের দান সব থেকে মহৎ বলেই মনে করছেন তাঁর প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়রা । তাঁদের দাবি, এই ইটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে আসল বাবরি মসজিদের স্মৃতি । বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ হলে তার গায়ে লেগে থাকবে আসল বাবরি মসজিদের চাঁদ-তারা খোদাই করা ইট ।
আলাউদ্দিন খানের আত্মীয় আবদুর রুফ বলেন, "ও সম্পর্কে আমাদের ভাগনে হয় ৷ 1992 সালে যখন অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয় তখন ও সেখানে সিআরপিএফের ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সে কর্মরত ছিল ৷ তখন ওখান থেকে একটা ইট নিয়ে এসেছিল ও ৷ আমরা ওকে বাবরি মসজিদের স্মৃতি স্বরূপ ইটটা মসজিদে রাখতে বলি ৷"
প্রতিবেশী মহম্মদ সাইদুর ইসলাম খান বলেন, "উনি যখন ইটটা নিজে আসেন আমরা সেটাকে কোথাও ফেলতে বারণ করেছিলাম ৷ স্মৃতি স্বরূপ ইটটা আমরা মসজিদে রেখে দিয়েছিলাম ৷ আজকে হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ তৈরি করছে ৷ তাই আলাউদ্দিন খানকে ইটটা দিয়ে আসতে বললাম সেখানে ৷ হুমায়ুন কবীর যে আমলাদের তোয়াক্কা না-করে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ করছেন, তাঁর জন্য দোয়া কামনা করি ৷"

