প্রয়াত কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার ফলে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন ৷ ভোটের আগে বাবাকে হারালেন ইশা খান চৌধুরী ৷

Published : April 9, 2026 at 7:11 AM IST
কলকাতা, 9 এপ্রিল: মালদা কংগ্রেসে নক্ষত্রপতন ৷ প্রয়াত কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ ও বিধায়ক আবু হাসেম (ডালু) খান চৌধুরী । বুধবার রাত 9টা 50 মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর ৷ বয়স হয়েছিল 88 ।
বেশ কিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন আবু হাসেম খান চৌধুরী । 26 ফেব্রুয়ারি থেকে দক্ষিণ কলকাতার একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন তিনি । বুধবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় ৷ বরকত গনি খান চৌধুরীর ভাই ডালু অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে ইদানিং দূরেই ছিলেন । গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হননি । তাঁর মালদা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছেন ছেলে ইশা খান চৌধুরী । ভাগ্নী মৌসম বেনজির নূরও এবার মালতীপুর বিধানসভা থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন ।
জানা গিয়েছে, আবু হাসেম খান চৌধুরীর দেহ বৃহস্পতিবার মালদা নিয়ে যাওয়া হবে ৷ সেখানে কোতোয়ালি ভবনে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে । প্রাক্তন সাংসদ ও মালদা জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতির প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, "মালদা জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরীর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত । জনকল্যাণমূলক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড তিনি আক্ষরিক অর্থেই প্রয়াত জননেতা গণিখান চৌধুরীর উত্তরাধিকারী হিসাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন । ডালু বাবুর প্রয়াণ কংগ্রেসের পরিবারের কাছে এক অপূরণীয় ক্ষতি । আমার সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের । ব্যক্তিগত জীবনেও আমি একজন শুভানুধ্যায়ীকে হারালাম । আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ এবং তাঁর অগণিত কর্মী-সমর্থকদের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা ।"
গনিখানের জীবদ্দশাতেই 1996 সালে কালিয়াচক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরীর । 2001 সালের বিধানসভা ভোটেও ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তিনি । 2006 সালে বড় দাদার প্রয়াণের পর মালদা লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে যান তিনি । এরপর থেকে 2024 সাল পর্যন্ত টানা মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন ।
ইউপিএ-2 সরকারের আমলে তিনি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন । ডালুর আর এক দাদা আবু নাসের খান চৌধুরী 2011 সালে রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট সরকারের মন্ত্রীও হয়েছিলেন ।

