'সাহস থাকলে প্রমাণ দিন, না-হলে নাকে খত দিতে হবে', বিধানসভার বই-বিতর্কে জবাব মমতার
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়ে ফেরত দেননি ৷ টিএমসিপি'র প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে এই অভিযোগের জবাব দিলেন দলনেত্রী ৷

Published : August 28, 2026 at 6:09 PM IST
কলকাতা, 28 অগস্ট: বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে রবীন্দ্ররচনাবলীর কয়েকটি খণ্ড নিয়ে তা আর ফেরত না-দেওয়ার যে অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উঠেছে, তার প্রমাণ চাইলেন দলনেত্রী ৷ শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, "আমাকে বলছে আমি নাকি বই চুরি করেছি ৷ সাহস থাকে তো, প্রমাণ দিন, তা না-হলে নাকে খত দিতে হবে ৷"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বই নিয়ে গ্রন্থাগারে ফেরত না-দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ ৷ এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ খাতায়কলমে একে সরাসরি 'চুরি' না বলা হলেও, বিরোধীদের ইঙ্গিতে সেই সুরই স্পষ্ট ৷
সম্প্রতি রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ দাবি করেন, বিধানসভার লাইব্রেরি থেকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট 19টি বই নিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলীর 18টি খণ্ড এবং একটি সঞ্চয়িতা ৷
অভিযোগ, বইগুলি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা আর গ্রন্থাগারে জমা পড়েনি ৷ এই বিষয়ে বিধানসভার গ্রন্থাগারের কর্মীরা তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন বলে দাবি মন্ত্রীর ৷ তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওই বইগুলি তাঁর ব্যক্তিগত জিম্মায় বা বাড়িতে নেই ৷ বইগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারেই রাখা আছে ৷
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিধানসভার ওই নির্দিষ্ট কক্ষটি এখন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে রয়েছে ৷ কিন্তু বিধানসভার গ্রন্থাগারের নিয়ম অনুযায়ী, বইগুলি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে থাকলেও খাতায়কলমে সেগুলি ততক্ষণ 'ফেরত' বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না তা বাস্তবে লাইব্রেরিতে ফিরে আসছে ৷
এই প্রেক্ষাপটে গ্রন্থাগার মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, "আইন সবার জন্য সমান ৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিশিষ্টজন বলে আইন আলাদা হবে তা নয় ৷ তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ আমাদের সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে ৷ তাই সবার ক্ষেত্রেই আইন সমান ৷ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বই নিয়ে গিয়ে যদি ফেরত না-দেন, একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যা ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এই ক্ষেত্রেও তাই হবে ৷"
রাজ্যের মন্ত্রীর অভিযোগের পর ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে বিরোধীদের এই প্রচারের কড়া সমালোচনা করেন তিনি ৷ বই চুরির এই পরোক্ষ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বলেন, "আমাকে বলছে আমি নাকি বলি চুরি করেছি ৷ সাহস থাকে তো প্রমাণ দিন, তা না হলে নাকে খত দিতে হবে ৷" বইয়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত অনুরাগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "সেই সময় আসবে। এমন কোনও লেখক নেই যাঁর বই আমার বাড়িতে নেই ৷"
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বই বিতর্কে বিরোধীরা যে পরোক্ষভাবে তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছে, তা বুঝেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ তাই ছাত্র সমাবেশের মতো বড় মঞ্চকে ব্যবহার করে তিনি এই অভিযোগের সরাসরি ও কড়া জবাব দিলেন ৷ একদিকে যখন গ্রন্থাগার মন্ত্রী সাধারণ পাঠকের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন, তখন তৃণমূল নেত্রীও প্রমাণ দেওয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন ৷

