সীমানা লঙ্ঘনে 2 বছর ধরে বন্দি, পাক জেলে মৃত্যু কাঁথির মৎস্যজীবীর
প্রায় বছর দু'য়েক আগে গুজরাতে ট্রলারে মাছ ধরার কাজে গিয়ে পাকিস্তানে বন্দি হন বাংলার মৎস্যজীবী ৷ তারপর হঠাৎ তাঁর মৃত্যুর খবর ৷

Published : November 30, 2025 at 10:51 AM IST
কাঁথি, 30 নভেম্বর: মাছ ধরতে গিয়ে ভারতীয় জলসীমা পেরিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানে ঢুকে যাওয়ায় বন্দি হয়েছিলেন কাঁথির মৎস্যজীবী স্বপন রানা ৷ শুক্রবার পরিবারের কাছে খবর আসে সেখানকার জেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে । দু'বছর বন্দি থাকার পর হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে হতভম্ভ পরিবার ৷
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার বামুনিয়া অঞ্চলের পাইকবার গ্রামের বাসিন্দা স্বপন ছিলেন পেশায় মৎস্যজীবী ৷ দু'বছর আগে গুজরাতে একটি ট্রলারে কাজ করতে গিয়েছিলেন । সেখানকার সমুদ্রে মাছ ধরার সময় অজান্তেই জলসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন । ট্রলারে থাকা স্বপন-সহ 7 জনকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান পুলিশ ৷
চলতি বছরের 1 জুলাই পাকিস্তান থেকে ভারত সরকারকে একটি লিস্ট পাঠানো হয় । তাতে স্বপন রানার নাম রয়েছে বলে পরিবারের দাবি ৷ কিন্তু তারপর হঠাৎ এর মধ্যে পাকিস্তানের জেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর পান স্বপনের পরিবার । মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী ও অন্যান্যরা ৷ তাঁদের সকলের একটাই প্রশ্ন, দেড় বছর আটকে থাকার পরও কেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হল না দেশে ?
পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, স্বপন রানার মৃত্যুর কারণ এখনও পরিষ্কার নয় । বন্দিদশায় তাঁর চিকিৎসা, নিরাপত্তা কোনও দিকেই স্পষ্ট তথ্য নেই । ফলে মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন । মৃত স্বপনের স্ত্রী বলেন, "প্রায় দু'বছর আগে গুজরাতের ট্রলার মালিকের হয়ে মাছ ধরার জন্য গিয়েছিলেন । সেখানে পাকিস্তান পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে । খবর এসেছে এখন তিনি পাকিস্তান জেলের মধ্যে মারা গিয়েছেন ।" প্রতিবেশীদের কথায়, "পরিশ্রমী, শান্ত মানুষ ছিলেন স্বপন । এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুসংবাদ মানা যাচ্ছে না ।"

এদিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয় । প্রশাসন আরও জানিয়েছে, সরকারি উদ্যোগে মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিক পথেই দেহ ফেরানোর চেষ্টা চলছে ।
মৎস্যজীবীর মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মৎস্যজীবী উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান আমিন সোহেল । তিনি স্বপন রানার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সাহায্য ও সর্বতোভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন ।
এই বিষয়ে আমিন বলেন, "মৎস্যজীবী নেতা হিসাবে স্বপন রানা যেহেতু মৎস্যজীবী ছিলেন তাই আমি তার পরিবারের পাশে রয়েছি এবং সরকারের তরফ থেকে যা যা করার আমি সব রকম চেষ্টা করছি । 3 ডিসেম্বর ওনার পরিবারের লোক প্রশাসনের সঙ্গে যাবেন 4 তারিখ স্বপন রানার দেহ ফিরিয়ে আনা হবে ৷"

