দিনেদুপুরে ব্যাঙ্কে চলল গুলি ! আহত 5 জন, আটক নিরাপত্তরক্ষী
দিনেদুপুরে ভিড়ে ঠাসা এক ব্যাঙ্কে চলল গুলি ৷ ঘটনায় আহত এক নাবালিকা-সহ 5 জন ৷ ঘটনায় ব্যাঙ্কের নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করা হয়েছে ৷

Published : January 6, 2026 at 5:50 PM IST
দার্জিলিং, 6 জানুয়ারি: দিনে দুপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভিতরে চললো গুলি । নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুকের গুলিতে আহত এক নাবালিক-সহ 5 জন ৷ শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর এলাকার ঘটনা ৷ ঘটনায় ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কের নিরাপত্তারক্ষী মানিক রায়কে আটক করা হয়েছে ৷
নকশালবাড়ির এসডিপিও সৌম্যজিৎ রায় বলেন, "ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন । তাঁদের চিকিৎসা চলছে । তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তদন্তের জন্য ব্যাঙ্কের সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখা হচ্ছে । পাশাপাশি, ব্যাঙ্কের কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।" এদিন খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধাননগর ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা ৷
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে 11টা-12টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে ৷ মাসের প্রথম সপ্তাহ হওয়ায় ব্যাঙ্কের ভিতরে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল ৷ টাকা জমা দেওয়া ও তোলার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বহু মানুষ । প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঠিক সেই সময়ই ব্যাঙ্কের ভিতরে গুলি চলার আওয়াজ হয় । মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় গ্রাহকদের মধ্যে। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন 5 জন । আহতদের মধ্যে 2 জন মহিলা, 2 জন পুরুষ এবং এক নাবালিকা রয়েছে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে আহতরা হলেন, মেরি নাগ বয়স 37 বছর, মহম্মদ নুরুল হক, বয়স 35 বছর, সঞ্জীতা পাহান, বয়স 41 এবং বিপ্লব সিংহ বয়স 30 বছর এবং নাবালিকা সোনালি নাগ ৷ তার বয়স 14 বছর ৷ আহতদের প্রথমে বিধাননগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখান থেকে তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় । হাসপাতাল থেকে পরে তাঁদের শহরের একটি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয় ।

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থের নিরাপত্তারক্ষীর বন্দুকে গুলি ভর্তি ছিল ৷ ক্যাশ কাউন্টারে এক ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান নিরাপত্তারক্ষী ৷ কাঁধের থেকে বন্দুকটি নামিয়ে মাটিতে দাঁড় করিয়ে রেখে এগিয়ে গেলে, বন্দুকটি বেসামাল হয়ে পরে যায় । সঙ্গে সঙ্গে কার্তুজ ভর্তি বন্দুকটি থেকে আচমকা গুলি বেরিয়ে আসে । তাতেই আহত হন 5 জন ৷ ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগর এলাকায় ৷ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ৷
ঘটনা প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক কর্মী ফেডারেশনের সহকারি সভাপতি লক্ষ্মী মাহাতো বলেন, "এটা খুবই উদ্বেগের ঘটনা। ওই ব্যাঙ্কের নিরাপত্তারক্ষীকে একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে দায়িত্বে রাখা হয়েছিল ৷ ব্যাঙ্কগুলিকে বেসরকারিকরণ করায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে ।" আহত গ্রাহক নরুল হকের বাবা মহম্মদ মোস্তাফা বলেন, "আমার বউ আর ছেলে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন । পরে শুনি ছেলের বাঁ-হাতে গুলি লেগেছে । আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন ।" যদিও এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

