আতঙ্কের প্রহরে ইতি! মদিনা থেকে ফিরলেন ফিরহাদ-কন্যা, দোলে মাতল নাতনি
যুদ্ধের দূরবর্তী গর্জন মুহূর্তের জন্য ছায়া ফেলেছিল চেতলার আকাশে। ভোরের উড়ান সেই ছায়া সরিয়ে এনেছে স্বস্তির বার্তা - অশান্তির মাঝেও জীবনের উৎসব থেমে থাকে না!

Published : March 3, 2026 at 4:44 PM IST
কলকাতা, 3 মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন, মিসাইলের ঝলকানি । ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের উত্তাপে যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সরগরম, ঠিক তখনই উদ্বেগে দিন কাটছিল রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পরিবারের । পবিত্র রমজান মাসে প্রথমবার উমরাও হজ করতে গিয়ে মদিনায় আটকে পড়েছিলেন তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী, সঙ্গে তাঁর মেয়ে ও স্ত্রী । অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে কলকাতায় ফিরলেন তাঁরা । আতঙ্কের প্রহরে ইতি, সেই সঙ্গে চেতলা জুড়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ।
প্রতি বছর দোলের এই দিনটি চেতলায় যেন এক মিলনমেলা । ধর্ম-বর্ণের ভেদরেখা মুছে আট থেকে আশি—সবাই হাজির হন পাড়ার মাঠে । লাল, নীল, সবুজ, গোলাপি আবিরে রাঙিয়ে ওঠে চারদিক । মেয়র নন, পাড়ার 'দাদা' হিসেবেই এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফিরহাদ হাকিম । তবে এ বছর রমজান চলায় তিনি সরাসরি মাঠে নামেননি । কিছু সময়ের জন্য মাঠ সংলগ্ন বহুতলের ছাদে দাঁড়িয়ে বাসিন্দাদের উদ্দেশে হাত নেড়েছেন, উপভোগ করেছেন আনন্দের মুহূর্ত ।
মঙ্গলবার ভোরে পরিবারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরেই রঙের উৎসবে যোগ দেয় ফিরহাদের নাতনি তথা প্রিয়দর্শিনীর মেয়ে । তাকে দেখা যায় সমবয়সীদের সঙ্গে রঙের চৌবাচ্চায় ঝাঁপিয়ে পড়তে । যুদ্ধের আবহে আটকে থাকার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি প্রিয়দর্শিনী বা ফিরহাদ হাকিম । তবে পরিবারের মুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ।
এলাকার বাসিন্দা শ্রীকান্ত বসাক বলেন, " প্রতি বছর আমরা সকলে মিলে এই দোল উৎসব পালন করি । দাদাও (ফিরহাদ) অন্য বছর শামিল হন । এ বার রমজান চলছে, তাই মাঠে আসেননি । তবে ছাদ থেকে আমাদের আনন্দ দেখেছেন । নাতনিকে হাত নেড়ে উৎসাহ দিয়েছেন । ক্লাবের এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তিনিই। সকাল থেকে রঙ খেলা, তারপর রেইন ড্যান্স, মাঝেমধ্যেই খাওয়াদাওয়া—সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ । প্রিয়দর্শিনীরা আটকে পড়ায় প্রথমে একটু আতঙ্ক ছিল, কিন্তু ওরা নিরাপদে ফিরতেই আবার আগের মতো আনন্দে ফিরেছে পাড়া ।"
আর এক বাসিন্দা রঞ্জনা ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা যেখানেই থাকি না কেন, এই দিনটায় মাঠে হাজির হই । আড্ডা, নাচ, গান—এক অন্যরকম আবহ । বাচ্চাদের জন্য রঙের আলাদা চৌবাচ্চা করা হয়েছে । কচিকাঁচাদের উচ্ছ্বাস দেখলে মন ভরে যায় । ফিরহাদের নাতনিও সেই আনন্দে যোগ দিয়েছে ।"
চেতলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও সকাল থেকেই আবির আর ফুলের রঙে দোল উৎসব পালিত হয়েছে । খোল-করতালের তালে গান, নাচে মেতে উঠেছেন অনেকে । রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সমাজের নানা স্তরের মানুষ—সবাই যেন একসূত্রে বাঁধা রঙের বন্ধনে।
যুদ্ধের দূরবর্তী গর্জন মুহূর্তের জন্য ছায়া ফেলেছিল চেতলার আকাশে । কিন্তু ভোরের উড়ান সেই ছায়া সরিয়ে এনে দিয়েছে স্বস্তি । রঙের দিনে তাই বার্তা একটাই—অশান্তির মাঝেও জীবনের উৎসব থেমে থাকে না !
আরও পড়ুন:

