আদালতের নির্দেশ অমান্য ও পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগ, মমতার বিরুদ্ধে FIR
টিএমসিপি'র প্রতিষ্ঠা দিবসে আদালতের নির্দেশ অবমাননা করেছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আয়োজক সংস্থা ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ ৷

Published : August 29, 2026 at 2:44 PM IST
কলকাতা, 29 অগস্ট: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংগঠনের আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের হল এফআইআর ৷ এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হেস্টিংস থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে ৷
পুলিশের অভিযোগ, মমতা-পন্থী তৃণমূল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কর্মসূচি চালিয়ে গিয়েছে ৷ ক্যাথিড্রাল রোডে টিএমসিপি'র এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জমায়েতের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে দেয় ৷ কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ক্যাথিড্রাল রোডের একাংশে যান চলাচল ব্যাহত হয় ৷
গত 25 অগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মমতা বা ঋতব্রত কোনও পক্ষকেই মেয়ো রোডে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেননি ৷ তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল গোষ্ঠীকে রানি রাসমনি রোডে টিএমসিপি'র প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের অনুমতি দেন ৷ আর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বে কালীঘাট তৃণমূলের জন্য ক্যাথিড্রাল রোড নির্দিষ্ট করে দেন ৷ দুই তরফকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কোথাও রাস্তা আটকে অনুষ্ঠান করা যাবে না ৷
আদালতের শর্ত-
- 1 হাজার 500 জনের বেশি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত থাকতে পারবেন না ৷
- পুলিশকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না-হয় ৷
- বেলা 12-3 টের মধ্যে এই অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে ৷
- দুই গোষ্ঠী 15 জন করে স্বেচ্ছাসেবকের নাম কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনারকে জানাবে ।
- ক্যাথিড্রাল রোড ও রানি রাসমনি রোডের একটা করে দিক খুলে রাখতে হবে ৷
- সভা শেষে দ্রুত জায়গা খালি করে দিতে হবে ৷
- সভা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে হবে ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে 28 অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ক্যাথিড্রাল রোডে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল ৷ কিন্তু কর্মসূচির সময়সীমা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের নির্দেশ মানেননি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সভা চলতে থাকে ৷
এই ঘটনায় হেস্টিংস থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আয়োজক পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন হেস্টিংস থানার সাব-ইনস্পেক্টর অপু বৈদ্য ৷ তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে 28 অগস্ট হেস্টিংস থানায় বিএনএস-এর 61(2) (অপরাধজনক ষড়যন্ত্র), 223 ধারা (সরকারি/ক্ষমতাপ্রাপ্ত আধিকারিকের জারি করা আইনসম্মত নির্দেশ অমান্য করা), 125(a) ধারা (এমন বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত কাজ, যাতে অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়), 132 ধারা (সরকারি কর্মী/আধিকারিককে তাঁর কর্তব্য পালন থেকে বাধা দিতে হামলা বা বলপ্রয়োগ), 285 ধারা (জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বা জলপথে বিপদ, বাধা বা প্রতিবন্ধকতা) মামলা রুজু হয় ৷
অভিযোগে জানানো হয়েছে, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও কর্মী ক্যাথিড্রাল রোডে জমায়েত করেন ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল এবং ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু কর্মসূচি চলাকালীন ভিড়ের চাপে ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয় ৷ কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও বচসার পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে পুলিশের দাবি ৷
এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি অংশে যান চলাচল ব্যাহত হয় ৷ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় ৷ অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি এবং নির্ধারিত সময়ের পরও অনুষ্ঠান চলতে থাকে ৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মসূচির আয়োজকদেরও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে পুলিশ ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য, বেআইনি জমায়েতের পরিস্থিতি তৈরি, সরকারি কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে ৷
ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই মামলা শুরু করেছে হেস্টিংস থানার পুলিশ ৷ কর্মসূচির সময়ের ভিডিয়ো ফুটেজ, পুলিশের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷ ব্যারিকেড সরানো এবং পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় কারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তা-ও তদন্ত করে দেখা হবে ৷ তবে বর্তমানে মামলাটি অভিযোগের ভিত্তিতে রুজু হয়েছে ৷ অভিযোগের সত্যতা এবং কারও নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে ৷ কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ চেক করছি ৷ এই ঘটানায় যাবতীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ৷"

