ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, রাজ্যের হলফনামা তলব হাইকোর্টের
জমি অধিগ্রহণের টাকা কেন্দ্র সরকার দিয়ে দিলেও কেন জমি হস্তান্তর হয়নি, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া মামলায় রাজ্যের হলফনামা তলব করল হাইকোর্ট ৷

Published : December 11, 2025 at 5:59 PM IST
কলকাতা, 11 ডিসেম্বর: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দিতে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের ।
কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী 181 কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের টাকা কেন্দ্র ইতিমধ্যে দিয়ে দিলেও সেই জমি কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে হস্তান্তর করা হচ্ছে না, তা জানাতে হবে রাজ্যকে । রাজ্যের হলফনামার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রেরও যদি পালটা কোন বক্তব্য থাকে, তারা তা জানাতে পারবে আদালতে । আগামী 22 ডিসেম্বর এই মামলার ফের শুনানি।
মামলাকারীর দাবি, রাজ্যের ভারত -বাংলাদেশ সীমান্তে 2,216 কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে 378 কিলোমিটারে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি ৷ এর মধ্যে 229 কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে । 181 কিলোমিটারের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যে টাকা দিয়ে দিয়েছে । রাজ্যের তৎপরতার অভাবে বকেয়া কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না । মামলাকারী ডঃ সুব্রত সাহার আইনজীবী আদালতে জানান, রাজ্যসভায় একাধিকবার (10 ফেব্রুয়ারি, 2021, 17 মার্চ 2021, 31 মার্চ 2022 ও 28 অগস্ট 2025 ) বিতর্ক হয়েছে এই বিষয়ে ৷
ভারত-বাংলাদেশ মোট 4 হাজার কিলোমিটারের বেশি জায়গার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের 2,216 কিলোমিটারে বেআইনি অনুপ্রবেশ, জাল নোটপাচার, বেআইনি চোরাচালানের জায়গা ৷ মালদা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা-সহ একাধিক জেলা রয়েছে এখানে ৷ এটা একটা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় ৷ জমি রাজ্যের হাতে রয়েছে ৷ কেন্দ্রকে হস্তান্তর করলেই কাজ হয়ে যায় ৷
কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী বলেন, "কেন্দ্রের বিশেষ ক্ষমতা আছে এই ধরনের কাজে । কারণ এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত । কেন্দ্র টাকা দিয়েছে । রাজ্য জমি অধিগ্রহণ করার কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি । সেই জমি হস্তান্তর করছে না কেন্দ্রকে । 181.63 কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ এবং টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে । তার সত্ত্বেও জমি হস্তান্তর করা হয়নি।"
রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মোট 9টি জেলা রয়েছে । 31 মার্চ, 2020-এর পর উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জমি দাতারা এখনও টাকা পায়নি। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর মামলায় যুক্ত থাকলেও জমি অধিগ্রহণ দফতরকে মামলায় যুক্ত করতে হবে । ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টকে না-যুক্ত করলে সম্পূর্ণ বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।"
তারপরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে মামলায় যুক্ত করতে হবে । 181 কিলোমিটার অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হস্তান্তর করা উচিত । এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে হবে । 22 ডিসেম্বর ফের শুনানি।

