পরকীয়ার জের ! কোয়ার্টারে মহিলা হোমগার্ডের ঝুলন্ত দেহ, খুনের অভিযোগ SI-এর বিরুদ্ধে
এসআই-এর বিরুদ্ধে হোমগার্ডের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ ৷ জানাজানি হওয়ায় খুনের অভিযোগ ৷

Published : December 28, 2025 at 6:06 PM IST
ক্যানিং, 28 ডিসেম্বর: ক্যানিং থানার এক মহিলা হোমগার্ডের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ৷ থানার কোয়ার্টারে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে শনিবার রাতে ৷ যে ঘটনায় ক্যানিং থানায় সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে মৃত হোমগার্ডের পরিবার ৷ অভিযোগ, এসআই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওই হোমগার্ডের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন ৷ বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় হোমগার্ডকে খুন করেছেন তিনি ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত হোমগার্ডের নাম গুলজান পারভিন মোল্লা ওরফে রেশমি (22) ৷ তাঁর বাড়ি ক্যানিংয়ের জীবনতলা থানার উত্তর মৌখালী এলাকায় ৷ দু’বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভাঙড়ে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হয় গুলজানের বাবা তথা তৃণমূল কর্মী রশিদ মোল্লার ৷ সেই সময় রশিদের বড় মেয়ে গুলজানকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে ৷
গুলজান বর্তমানে ক্যানিং থানায় কর্মরত ছিলেন ৷ শুক্রবার ডিউটির মাঝেই থানার পিছনে কোয়ার্টারের দিকে গিয়েছিলেন তিনি ৷ এরপর থেকে গুলজানের আর কোনও হদিশ মেলেনি ৷ এমনকি তাঁর বাড়ির লোকজন ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও, তাঁকে পায়নি ৷ দিদির কোনও খোঁজ না-পেয়ে গুলজানের বোন রুকসানা খাতুন ক্যানিং থানায় আসেন ৷ সেখানেও দিদির খোঁজ না-পেয়ে থানার পিছনে গুলজানের কোয়ার্টারে যান তিনি ৷ কোয়ার্টারের ঘরের দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতে রুকসানা দেখেন সিলিংয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় গুলজানের দেহ ঝুলছে ৷
দিদির ঝুলন্ত দেহ দেখে চিৎকার করতেই কোয়ার্টারের অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা সেখানে চলে আসেন ৷ তাঁরাই গুলজানের দেহ নিচে নামান ৷ ক্যানিং থানার পুলিশ ওই হোমগার্ডের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে ৷ তবে রুকসানা অভিযোগ করেছেন, গুলজানকে খুন করা হয়েছে ৷ আর তা করেছেন থানার এসআই সায়ন ভট্টাচার্য ৷
রুকসানার অভিযোগ, সায়ন বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গুলজানের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন ৷ সেই কথা তাঁর দিদির কাছেই জেনেছিলেন রুকসানা ৷ বিষয়টি জানাজানি হওয়াতেই এসআই সায়ন ভট্টাচার্য গুলজানকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দিয়েছেন ৷ এসআই-এর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে মৃত হোমগার্ডের পরিবার ৷
যদিও, পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে ৷ এ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না-করলেও ক্যানিং মহকুমার পুলিশ আধিকারিক রামকুমার মণ্ডল বলেন, "মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷ রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে ৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷"
(আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয় ৷ যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।)

