'ধান ভেজা', কুইন্টালে 10 কেজি বাদ দিচ্ছে সমবায় ! রাস্তা আটকে বিক্ষোভ কৃষকের
ওজন কমানো হয়নি, ভেজা ধান নিতে অস্বীকার করা হয় ৷ কৃষকের অভিযোগ খারিজ করে দাবি সমবায় সমিতির সভাপতির ৷

Published : November 30, 2025 at 5:38 PM IST
চন্দ্রকোণা, 30 নভেম্বর: রাস্তায় ধানের বস্তা ফেলে বিক্ষোভ এক কৃষকের ৷ 'ধান ভেজা' এই দাবিতে প্রতি কুইন্টাল 10 কেজি ওজন কমানোর অভিযোগ ন্যায্য মূল্যে সরকারি ধান বিক্রয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ৷ ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোনার কৃষ্ণপুর দুবরাজগঞ্জ কৃষি সমবায় সমিতির অফিসে ৷ তবে, বিক্ষোভকারী কৃষকের অভিযোগ খারিজ করলেন সমবায় সমিতির সভাপতি ৷ ওজন নয়, ভেজা ধান কিনতে অস্বীকার করা হয় বলে দাবি তাঁর ৷
উল্লেখ্য, কৃষক কুচন মল্লিক অভিযোগ করেন, সমবায় সমিতির ম্যানেজার তাঁর প্রত্যেক বস্তা অর্থাৎ, প্রতি কুইন্টাল ধানে 8 থেকে 10 কেজি ওজন কমিয়ে দিয়েছে ৷ তাঁর ধান ভেজা রয়েছে, এই অভিযোগে ওজনে-কাটা হয়েছে ৷ আর তারই প্রতিবাদে রাস্তায় ধানের বস্তা ফেলে বিক্ষোভ দেখান তিনি ৷ যার জেরে সমবায় সমিতির বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয় ৷
ওই কৃষক অভিযোগ করেছেন, চাষিদের থেকে ধান কেনার বদলে, ফড়েদের থেকে কম দামে ধান কিনে কোটা পূরণ করছে সমবায় সমিতি ৷ সরকারি ন্যায্য মূল্যের ধান বিক্রয় কেন্দ্রে কৃষকদের ঠকানোর অভিযোগ তোলেন তিনি ৷

কৃষক কুচন মল্লিক বলেন, "আমরা গাড়ি ভাড়া করে হাজার টাকা দিয়ে ধান নিয়ে এসেছি ৷ কিন্তু, এখানে ধান দিতে গিয়ে দেখি ওরা কুইন্টালে আট থেকে দশ কেজি ধান বাদ দিয়ে দিচ্ছে ৷ তাই আমাদের প্রতিবাদ ৷ ওরা ফড়েদের কাছ থেকে ধান কিনছে ৷ কিন্তু, আমাদের কাছ থেকে এইভাবে অনৈতিকভাবে বাদ দিয়ে দিচ্ছে ৷ যার প্রতিবাদ আমাদের ৷"

তবে, কৃষকের অভিযোগ খারিজ করেছেন কৃষ্ণপুর দুবরাজগঞ্জ কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি আসিফ ইকবাল ৷ তিনি দাবি করেছেন, ওই কৃষকের ধান সমবায় সমিতিতে আনার সময় ড্রেনে পড়ে যায় ৷ তাই ভেজা ধান আলাদা করে দিতে বলা হয় ৷ কিন্তু, তা মানতে চাননি তিনি ৷ আর সেই সুযোগে কেউ বা কারা ওই কৃষককে উস্কেছেন বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ৷

তিনি বলেন, "এই অভিযোগ সত্যি নয় ৷ চাষিদের ধান কোনওভাবেই বাদ দেওয়া হচ্ছে না ৷ এক চাষির ধান আনতে গিয়ে নালায় পড়ে ভিজে যায় ৷ তাঁকে নিয়ে সামান্য সমস্যা হয়েছে ৷ বাকি কাজ চাষিরা নিজেরাই করছে ৷ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ৷ কেউ ভুল বুঝিয়েছে ওই কৃষকে ৷ আর আমরা বাইরে থেকে ধান কিনতে পারি না ৷ একমাত্র রেজিস্টার্ড কৃষকদের থেকে ধান কিনতে পারব ৷ আঙুলের ডিজিটাল ছাপ নিয়ে ধান কিনতে হয় ৷ আর টাকাও কৃষকের অ্যাকাউন্টে যায় ৷ কীভাবে দুর্নীতি সম্ভব ৷ চাষিদের কেউ বা কারা সমবায় সম্পর্কে ভুল বোঝাচ্ছে ৷"
তবে, রাস্তায় বস্তা ফেলে বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় ৷ দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ থাকায় যানজট তৈরি হয় ৷ পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় ৷ কৃষকের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে, তিনি বিক্ষোভ তুলে নেন ৷

