ETV Bharat / state

সিইও-সাক্ষাৎ খড়গ্রামের মৃত বিএলও-র পরিবারের, দাবিপূরণ না-হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মৃত বিএলও-র পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস ৷ চাকরির জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রকে সুপারিশের আশ্বাস দিয়েছে সিইও দফতর, দাবি পরিবারের ৷

BLO PROTEST AT CEO OFFICE
সিইও দফতরে খড়গ্রামের মৃত বিএলও-র পরিবারের সদস্যরা ৷ (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 29, 2025 at 9:21 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 29 নভেম্বর: সিইও-র সঙ্গে দেখা করতে মুর্শিদাবাদের মৃত বিএলও জাকির হোসেনের পরিবার ৷ ডেপুটি সিইও-র সঙ্গে দেখা করলেন মৃতের স্ত্রী, ভাই এবং ছেলে-সহ সাতজন ৷ কমিশনের কাছে মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আবেদন জানানো হয় ৷ তবে, কমিশন জানিয়ে দেয়, তাদের চাকরি দেওয়ার এক্তিয়ার নেই ৷ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে তাঁরা চিঠি লিখে সুপারিশ করতে পারেন ৷ তবে, এর জন্য জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অর্থাৎ, জেলাশাসকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে ৷

এই নিয়ে মৃত বিএলও জাকির হোসেনের ভাই জোসেফ হোসেন বলেন, "আমরা জানিয়েছি, তিনিই (জাকির হোসেন) আমাদের পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিলেন ৷ তাই তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের জন্য কমিশনকে কিছু করতে হবে ৷ ওঁরা জানিয়েছেন, আর্থিক সাহায্যের বিষয়টা তাঁরা নিশ্চিত করবেন ৷ তবে, আমাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল চাকরি ৷ সেটা নিয়ে কমিশন জানিয়েছে, তাদের চাকরি দেওয়ার এক্তিয়ার নেই ৷ তবে, কমিশন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে ৷ এর জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, জেলাশাসকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে ৷ তবেই কমিশন সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে ৷"

সিইও দফতরে খড়গ্রামের মৃত বিএলও-র পরিবারের সদস্যরা ৷ (নিজস্ব ভিডিয়ো)

তবে, কমিশন যে আশ্বাস দিয়েছেন, তা পূরণ না-হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মৃতের পরিবার ৷ আগামী সোমবার তাঁরা মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির আবেদন করবেন ৷ সেখানে জেলাশাসক কী বলেন এবং তাঁর মনোভাব বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন বলে জানিয়েছেন, মৃতের পরিবারের সদস্যরা ৷

উল্লেখ্য, এসআইআর-এর কাজের চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন জাকরি হোসেনের পরিবার ৷ তিনি মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম বিধানসভার 14 নম্বর বুথের দায়িত্বে ছিলেন ৷ মৃত জাকিরের ছেলে এমদাদুল হোসেন, স্ত্রী ফিরদৌসি বেগম, ভাই জোসেফ হোসেন এবং এক আত্মীয় মমতাজ খাতুন সিইও-র সঙ্গে দেখা করার জন্য কলকাতায় আসেন ৷

এদিন দুপুরের পর বিএলও অধিকার রক্ষা মঞ্চের সদস্যদের সঙ্গে কলকাতায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বাইরে পৌঁছায় মৃত জাকির হোসেনের পরিবার ৷ তবে, সিইও দফতরের বাইরে পুলিশের তরফে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় ৷ আর তার জেরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় সেখানে ৷ জানা গিয়েছে, সেই সময় সিইও একটি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন ৷ ফলে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় ৷ বাধা পেয়ে পুলিশের সঙ্গে এক প্রস্থ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন বিএলও অধিকার মঞ্চের সদস্যরা ৷ যার জেরে কয়েকজন বিএলও আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে ৷ তবে, বিকেলে মৃত বিএলও-র পরিবার-সহ সাত জনকে ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় সিইও দফতর থেকে ৷

মৃত বিএলও জাকির হোসেন আত্মীয় অভিযোগ করেছেন, "আমার দাদা বিএলও-র কাজ করতেন ৷ এত কাজের চাপ ছিল যে, রাতে ঘুমতে পারত না ৷ ঘনঘন ফোন করে ডিসটার্ব করা হতো ৷ মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেত ৷ এই মানসিক চাপ আর নিতে পারেনি দাদা ৷ শেষে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর ৷ আমরা সিইও-র সঙ্গে দেখা করতে এসেছি ৷ ওঁরা জানে আসব ৷ এখন বলছে দেখা করা যাবে না ৷ আমরা দেখা না-করে যাব না ৷"

অন্যদিকে, পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে সিকে সিং নামে বিএলও অধিকার মঞ্চের এক সদস্য আহত হন ৷ তাঁর হাতে আঁচড় লেগেছে বলে অভিযোগ করেন ৷ পাশাপাশি, কোমড়ে মারার অভিযোগ করেছেন তিনি ৷ পুলিশের বাধা দেওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য, "আমরা ন্যায্য দাবি করায় আমাদের পুরস্কার দিয়েছে ৷ 2 বছরের কাজ আমাদের দু’মাসে করতে বলা হচ্ছে ৷ সেটা বলেছিলাম বলে আমাকে বিএলও-র দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ কিন্তু, আমি বিএলও-র অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তুলতে এসেছি ৷"