ভোটার লিস্টে নাম বিভ্রাট ! প্রতিবেশীদের অনুপ্রবেশ গঞ্জনায় চরম সিদ্ধান্ত যুবকের
এসআইআর আতঙ্কে বিষ খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মালদায় ৷ ভোটার তালিকায় বাবার নামে ভুল ধরা পড়ার পর এই ঘটনা বলে জানা গিয়েছে ৷

Published : November 8, 2025 at 12:32 PM IST
মালদা, 8 নভেম্বর: আবার এসআইআর আতঙ্কে জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মালদায় ৷ পরিবারের দাবি, নির্বাচন কমিশনের জন্যই তাঁদের পরিবারের এক সদস্য চরম সিদ্ধান্ত নেয় ৷ এনিয়ে ইতিমধ্যে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল ৷
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর 1 নম্বর ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরপুর গ্রামে ৷ ওই যুবক বর্তমানে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ নাম রাজেশ আলি (27) ৷ পেশায় শ্রমিক ৷ পরিবারের লোকজন জানাচ্ছে, 2002 সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর বাবার নাম রয়েছে ৷ এনিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না ৷ গোল বাধে নতুন ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নামে ভুল ধরা পড়ায় ৷ এনিয়ে কয়েকদিন ধরে চিন্তিত ছিলেন রাজেশ ৷ এলাকার লোকজনও তাঁকে ভুল বোঝাতে শুরু করে ৷ শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে নেন ৷
রাজেশের এক আত্মীয় তফিজুল ইসলাম বলেন, "আধার ও ভোটার কার্ডে ওর নাম রাজেশ আলি রয়েছে ৷ সেখানে ওর বাবার নাম রয়েছে আদিল মহম্মদ ৷ 2002 সালের ভোটার তালিকাতেও সেটাই রয়েছে ৷ কিন্তু নতুন ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বাগমারা গ্রামের 165 নম্বর বুথে রাজেশের নাম রাজেশ আলি আছে ৷ কিন্তু তাঁর বাবার নামও রাজেশ আলি বলে উল্লেখ রয়েছে ৷ এমনিতেই গ্রামের লোকজন এসআইআর নিয়ে ভয়ে রয়েছে ৷ তার মধ্যে ভোটার তালিকায় থাকা এই ভুল রাজেশের মনে আতঙ্ক তৈরি করে ৷ এর মধ্যে গ্রামের কিছু লোক এই নিয়ে বলত বাংলাদেশে চলে যেতে হবে ৷ শেষ পর্যন্ত বিষ খায় ৷ ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে তার দায় নির্বাচন কমিশনের ৷"
ঘটনার খবর পেয়ে অনেকটা রাতে হাসপাতালে আসেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন ৷ তিনি বলেন, "বিজেপি সরকার এসআইআর নিয়ে যে চক্রান্ত করেছে তার জন্য পশ্চিমবঙ্গে অনেক লোক মারা গিয়েছে ৷ এবার হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নাজিরপুর গ্রামের রাজেশও নিজেকে শেষ করার চেষ্টা করেছে ৷ নতুন ভোটার তালিকায় ওর নাম ঠিক থাকলেও বাবার নামের জায়গায় আদিল মহম্মদের পরিবর্তে রাজেশ আলিই উল্লেখ রয়েছে ৷ এসআইআর নিয়ে আমরা গ্রামের মানুষজনকে সচেতন করার জন্য অনেকবার প্রশিক্ষণ দিয়েছি ৷ কিন্তু তারপরেও মানুষের আতঙ্ক দূর হচ্ছে না ৷ এসআইআর আতঙ্কেই রাজেশ বিষ খেয়েছে ৷"
তজমুল সাহেবের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গাজোল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন বলেন, "শুনলাম, হরিশ্চন্দ্রপুরের নাজিরপুর গ্রামের রাজেশ আলি কোনও কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ৷ কিন্তু তজমুল সাহেব যা বলছেন তাতে আমি হতবাক ৷ রাজ্যের একজন প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন ৷ তাঁর বক্তব্যে প্রমাণিত, তিনিও এসআইআর আতঙ্কে ভুগছেন ৷ কারণ, ছাব্বিশের নির্বাচনে তাঁর ভোট ব্যাঙ্ক কোথাও না কোথাও নষ্ট হতে চলেছে ৷ তাই পশ্চিমবঙ্গে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে তার প্রতিটিকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং তজমুল সাহেব এসআইআর আতঙ্ক বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন ৷ তাঁরা ভাবছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বিজেপির সিদ্ধান্ত ৷ শুধুমাত্র নিজের কিংবা বাবার নাম ভুল থাকার জন্য কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন বলে আমি মনে করি না ৷ যাতে একটা ভুলবিহীন স্বচ্ছ ভোটার তালিকা দেশবাসী পায় তার জন্যই তো এসআইআর ৷"

