ETV Bharat / state

সিনেমার 'জলি' নয়, এ বার বাস্তবের আদালতে 'জালি এলএলবি' ! ধরা পড়তেই গণধোলাই

পর্দায় 'জলি এলএলবি' আদালতের গল্পে হাসিয়েছে, বাস্তবের 'জালি এলএলবি' কাণ্ডে হাসির আড়ালে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন, এভাবে কতজনকে ঠকিয়েছে আবেদ ?

Mathabhanga court
জালি এলএলবি (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 28, 2026 at 7:20 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মাথাভাঙা, 28 অগস্ট: বলিউডের জনপ্রিয় কোর্টরুম ফ্র্যাঞ্চাইজি 'জলি এলএলবি' । 2013-তে আরশাদ ওয়ার্সিকে নিয়ে শুরু, 2017-তে অক্ষয় কুমারের হাত ধরে দ্বিতীয় পর্ব, আর 2025 সালে তৃতীয় ছবিতে একই আদালতে মুখোমুখি দুই 'জলি' । ব্যঙ্গ, হাসি আর আদালতের টানটান নাটকীয়তায় দর্শককে বার বার বিনোদন দিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি । কিন্তু সিনেমার সেই 'জলি' নয়, এ বার বাস্তবের আদালতে দেখা মিলল এক 'জালি এলএলবি'-র !

ঘটনাস্থল কোচবিহারের মাথাভাঙা মহকুমা আদালত । পরনে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, গায়ে কালো কোট । পরিচয়—আইনজীবী । দাবি, বিএসসি, এলএলবি ডিগ্রিধারী । অভিযোগ, সেই পরিচয়েই আদালত চত্বরে ঘোরাফেরা করছিলেন, এমনকি বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকাও তুলছিলেন । কিন্তু শুক্রবার আইনজীবীদের সন্দেহের মুখে পড়তেই বদলে গেল গোটা ছবিটা ।

ধরা পড়তেই গণধোলাই (ইটিভি ভারত)

নাম আবেদ আলি । মাথাভাঙা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের দাবি, বেশ কিছু দিন ধরেই আদালত চত্বরে কয়েক জন ব্যক্তি আইনজীবীর পোশাক পরে ঘোরাফেরা করছিলেন । বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং ভুল পথে পরিচালিত করার অভিযোগও উঠেছিল তাঁদের বিরুদ্ধে । সেই খবর পেয়েই সতর্ক হয়েছিল বার অ্যাসোসিয়েশন । সদস্যদের জানানো হয়েছিল, সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দিতে ।

শুক্রবার আবেদের গতিবিধি নজরে আসে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের । আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই চাওয়া হয় শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আইনজীবী হিসেবে কাজ করার প্রয়োজনীয় নথি । অভিযোগ, কোনও উপযুক্ত নথি দেখাতে পারেননি আবেদ । তাঁর কাছে থাকা কয়েকটি পরিচয়পত্র নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয় ।

এর পরেই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় । অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে পড়ে আবেদ আদালত চত্বর থেকে দৌড়ে মাথাভাঙা থানায় ঢুকে পড়েন । কিন্তু থানাতেও রেহাই মেলেনি । আইনজীবী ও মুহুরিদের একাংশ থানায় গিয়ে তাঁকে বের করে আদালত চত্বরে নিয়ে আসেন । সেখানে ফের শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ । সেই সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে আবেদকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ।

মাথাভাঙা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক ভদ্রের দাবি, "বেশ কিছু দিন ধরেই কোর্ট চত্বরে কিছু লোক সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট ও কোট পরে নিজেদের আইনজীবী বলে পরিচয় দিচ্ছিলেন । বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও পেয়েছিলাম । তাই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল ।"

তাঁর বক্তব্য, শুক্রবার আবেদকে আইনজীবীর পরিচয় দিয়ে টাকা তুলতে দেখা যায় । তাঁকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে আইনজীবী পরিচয় দেন । পরে থানায় চলে যান । সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে এসে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা পুলিশের হাতে তুলে দেন । তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সভাপতি ।

Mathabhanga court
জালি এলএলবিকে মারধর (ইটিভি ভারত)

তবে কাহিনির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ আসে জিজ্ঞাসাবাদের শেষে । আবেদ নিজেই জানান, তিনি আইনজীবী নন । তাঁর কাছে আইনজীবীর পরিচয়পত্র কী ভাবে এল ? জবাব, "ল-ক্লার্কের কার্ড বানাতে গিয়ে ভুল হয়ে গিয়েছে !" তা হলে পরিচয়পত্রে বিএসসি, এলএলবি লেখা কেন ? এ বার আরও বিস্ফোরক দাবি । নির্লিপ্ত কণ্ঠে আবেদ জানান, তাঁর কোনও পড়াশোনাই নেই । এমনকি অষ্টম শ্রেণিও পাশ করেননি ।

তাঁর দাবি, গত পাঁচ-ছ'বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় কাজ করছেন ! অর্থাৎ যে ব্যক্তি কিছু ক্ষণ আগেও আদালত চত্বরে বিএসসি, এলএলবি ডিগ্রিধারী আইনজীবীর পরিচয়ে ঘুরছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তাঁরই দাবি, তিনি অষ্টম শ্রেণি পাশ করেননি !

এখন পুলিশের তদন্তে খতিয়ে দেখার বিষয়, আবেদের কাছে থাকা পরিচয়পত্রগুলি কী ভাবে তৈরি হল, আদালত চত্বরে তিনি কী করতেন এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটা ।

পর্দায় 'জলি এলএলবি' আদালতের গল্পে হাসিয়েছে । আর মাথাভাঙায় বাস্তবের 'জালি এলএলবি' কাণ্ডে হাসির আড়ালে সামনে এনেছে আরও গুরুতর প্রশ্ন, আইনজীবীর কালো কোট গায়ে দিয়ে কত দিন ধরে আদালত চত্বরে ঘুরছিলেন আবেদ ? আবেদই একা নাকি তাঁর মতো আরও অনেকে আছে !