ETV Bharat / state

কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য স্কুল দখল, পঠন-পাঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা

শিক্ষকদের মতে, যদি এপ্রিলে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয় তাহলে নিয়মিত ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়বে । এরপর মে মাসে গরমের ছুটি রয়েছে ৷

central force
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 28, 2026 at 6:18 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 28 ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে এখনও বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি । তার আগেই কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় 240 কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে । বাহিনীর থাকার জন্য বিভিন্ন স্কুল ভবন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । প্রধান শিক্ষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় স্কুল স্বাভাবিকভাবে চালানো সম্ভব নাও হতে পারে ।

ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন স্কুল থেকে 15 থেকে 30 জন পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিএলও'র কাজে যুক্ত করা হয়েছিল । তার ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিকস্তর পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হয় । সেই পরিস্থিতি কাটার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য স্কুল নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষার ক্ষতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা ।

নারায়ণ দাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, "শিক্ষক কম থাকায় পড়াশোনার ক্ষতি আগেই হয়েছে । তার উপর দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে । তাঁর কথায়, স্কুলের বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের হওয়ায় অনলাইন ক্লাস চালানো বাস্তবে সম্ভব নয় । এদিকে এপ্রিল মাসে সামিটিভ পরীক্ষা রয়েছে, তার প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ।"

শিক্ষকদের মতে, যদি এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে নিয়মিত ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়বে । এরপর মে মাসে গরমের ছুটি শুরু হলে দীর্ঘ সময় পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু স্কুল বিকল্প পথের সন্ধান করছে । যেসব স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে না, তাদের অতিরিক্ত কক্ষ ভাড়া নিয়ে সীমিত পরিসরে ক্লাস চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।

দমদম সর্বোদয় বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকা স্নিগ্ধা সেন মণ্ডল বলেন, "পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দু’টি ঘর ব্যবহার করা হচ্ছে । তবে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে অনেক পড়ুয়া অন্যত্র চলে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে ।"

এদিকে, নির্বাচনজনিত কারণে পড়াশোনা ব্যাহত না করার দাবি জানিয়ে একাধিক শিক্ষক সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে । শিক্ষানুরাগী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জন্য বিকল্প সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতো না । দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে তার প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা শিক্ষামহলের ।