সাদা খাতা জমা দিয়েই চাকরি ! পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য CBI চার্জশিটে
সিবিআইয়ের পেশ করা চূড়ান্ত চার্জশিটে রাজ্যের আটটি পুরসভার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে । অভিযোগ, 600-রও বেশি বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে ।

Published : January 5, 2026 at 6:47 PM IST
কলকাতা, 5 জানুয়ারি: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই ৷ আর ওই চার্জশিটে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷
সিবিআইয়ের দাবি, নিয়ম ভেঙে এবং যোগ্যতা যাচাই না-করেই শতাধিক প্রার্থীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় । এমনকি অনেক ক্ষেত্রে 'সাদা খাতা' জমা দিয়েই নিয়োগ করা হয়েছে প্রার্থীদের ৷ সিবিআইয়ের চার্জশিটে এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর ।
সিবিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা চূড়ান্ত চার্জশিটে রাজ্যের আটটি পুরসভার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে । এই পুরসভাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি ও বরানগর পুরসভা । পাশাপাশি চার্জশিটে নাম রয়েছে টিটাগড়, রানাঘাট, হালিশহর এবং বনগাঁ পুরসভার ।
সিবিআইয়ের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, এই আটটি পুরসভায় 600-রও বেশি বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে । অভিযোগ, নিয়োগের সময় নিয়ম মানা হয়নি ৷ বহু ক্ষেত্রে মেধাতালিকা বা পরীক্ষার ফল উপেক্ষা করে প্রার্থীদের নিয়োগ করা হয়েছে । কোথাও আবার একটি পদের জন্য আবেদন করেও অন্য পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ বিধির পরিপন্থী বলে দাবি তদন্তকারীদের ।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি । পরীক্ষার খাতা যাচাই না-করেই অথবা ফাঁকা খাতা জমা নেওয়ার পরেও নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ । এই গোটা প্রক্রিয়ার পিছনে একটি সুসংগঠিত দুর্নীতিচক্র কাজ করেছে বলেই সিবিআইয়ের দাবি ।
প্রসঙ্গত, পুর-নিয়োগ কাণ্ডে আগেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছেন অয়ন শীল । তাঁর থেকে পাওয়া একাধিক নথি এবং তথ্য-প্রমাণ থেকেই একাধিক ব্যক্তির যোগ পান ইডির তদন্তকারীরা । এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির নাম সামনে এসেছে ৷ তার মধ্যে ছিলেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুও ।
কয়েক দিন আগেই দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অফিস, তাঁর মালিকানাধীন রেস্তরাঁ এবং বেশকিছু সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি । সেই তল্লাশিতেই মিলেছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরি, ডিজিটাল ডেটা, লেনদেনের নথি এবং সন্দেহভাজন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য । এরপর ওই নথিগুলি বিশদে খতিয়ে দেখে মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় । এবার চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ হওয়ার পর মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী ।

