IPAC-মামলা: সিঙ্গল বেঞ্চের অর্ডারে হস্তক্ষেপ নয়, জানালেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নথি নিয়ে গিয়েছেন, তা ফেরত চেয়ে এবং পুরো ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে আদালতে মামলা করেছে ইডি৷

Published : January 9, 2026 at 2:27 PM IST
কলকাতা, 9 জানুয়ারি: আইপ্যাকের মামলা নিয়ে দিনভর টানাপোড়েন চলল কলকাতা হাইকোর্টে৷ এজলাসে হট্টগোলের জেরে প্রথমে এই মামলার শুনানি মুলতুবি করে দেন হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ৷ জানিয়েদেন, আগামী বুধবার (14 জানুয়ারি) মামলার শুনানি হবে৷
কিন্তু জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দ্বারস্থ হয় ইডি৷ কিন্তু তিনিও এই মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না বলে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন৷
ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
বৃহস্পতিবার কয়লাপাচার সংক্রান্ত আর্থিক তছরূপ মামলায় দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের দশটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি৷ পশ্চিমবঙ্গের ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় ইডির তরফে৷ এর মধ্যে একটি ছিল কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে অ্যাইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আরেকটি ছিল সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস৷

তল্লাশি চলাকালীন দু’টি জায়গাতেই হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ পরে একটি প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইডি জানায় যে দুই জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সঙ্গে থাকা লোকেরা এবং রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা তল্লাশিতে বাধা দিয়েছে৷ ঘটনাস্থল থেকে কিছু ফাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোর করে নিয়ে আসার অভিযোগও তোলা হয় ইডির তরফে৷
কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ইডির
সেই অভিযোগ নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি৷ আদালতের সামনে বেশ কয়েকটি আবেদন পেশ করে তারা৷ সেখানে তারা পুরো ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানায়৷ তারা আবেদন করে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিক আদালত। সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করুক।

পাশাপাশি তারা অভিযোগ করে, তদন্তের ক্ষেত্রে যে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা অসাংবিধানিক৷ যে সমস্ত নথি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে হস্তান্তরের নির্দেশও আদালত দিক, এমন আবেদনও করা হয় ইডির তরফে৷ একই সঙ্গে তারা জানায়, অবিলম্বে ইডি-র থেকে হাতিয়ে নেওয়া সিজার করা নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস ও সংবাদমাধ্যমের ভিডিয়ো সিজ করে ফরেনসিকে পাঠানো হোক। তাছাড়া সিসিটিভি ফুটেজও আদালতে জমা করার নির্দেশ দিক আদালত।
মামলা না-শুনেই এজলাস ছাড়লেন বিচারপতি
শুক্রবার দুপুরের পর এই মামলার শুনানির সময় নির্ধারিত হয়েছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে৷ কিন্তু ইডি-র আবেদনও শোনা হল না৷ মামলা না-শুনেই এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি ঘোষ৷ কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি হল? কেন বিচারপতি মামলা না-শুনেই চলে গেলেন এজলাস ছেড়ে?

আদালত সূত্রে খবর, হাইকোর্টের পাঁচ নম্বর কোর্ট রুমে এদিনের শুনানি ছিল৷ সেই ঘরটি অত্যন্ত ছোট৷ সেখানে এদিন অতিরিক্ত ভিড় হয়ে যায়৷ হইচই-চেঁচামেচি শুরু হয়৷ চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে বিচারপতি প্রথমে অনুরোধ করেন, যাঁরা মামলার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরা যেন এজলাসে না-থাকেন৷ বাইরে চলে যান৷ তার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি৷ বরং ভিড় থেকে যায় একইরকম৷ এতে বিরক্ত হন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ৷ তিনি মামলা না-শোনার হুঁশিয়ারি দেন৷ তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি৷
এর পরেই এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান বিচারপতি ঘোষ৷ পরে জানানো হয় যে এদিন মামলার শুনানি হবে না৷ পরবর্তী শুনানি হবে আগামী 14 জানুয়ারি (আগামী বুধবার)৷
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হস্তক্ষেপ করলেন না সিঙ্গল বেঞ্চের অর্ডারে
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চ পরবর্তী শুনানির দিন জানিয়ে দিতেই ইডির তরফে এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়৷ আবেদন করা হয়, এই মামলায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করা হোক৷ প্রধান বিচারপতি বিষয়টি ইমেল করে আবেদন জানাতে বলেন৷ তার পর ইডির তরফে আবেদন জানানো হয়৷

আদালত সূত্রে খবর, এর পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল মৌখিকভাবে দু’পক্ষের আইনজীবীকে জানান, জুডিশিয়াল অর্ডারে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না৷ অর্থাৎ 14 জানুয়ারিই শুনানি হবে মামলার।
আইনজীবীদের বক্তব্য
রাজ্যের আইনজীবী অর্ক নাগ বলেন, ‘‘তৃণমূল কংগ্রেস যে আবেদন করেছিল, তার পালটা মামলা দায়ের করে ইডি৷ সেই মামলার শুনানি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুপুর আড়াইটের সময় হবে বলে নির্ধারণ করা হয়৷ শুনানির আগে কয়েকজন আইনজীবী এজলাসে এসে কিছু বলার আবেদন জানান৷ তাঁরা নিজেদের ‘মেম্বার অফ পাবলিক’-এর প্রতিনিধি বলে জানান৷ তাঁদেরও দুপুর আড়াইটের সময় আসতে বলা হয়৷ শুনানির সময় এজলাসে অনেক ভিড় ছিল৷ এর ফলে মামলার আইনজীবীরা পোডিয়াম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘বিচারপতির অনুমতি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন যে যাঁরা মামলার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁরা যেন এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান৷ কিন্তু এত গোলমাল হয় যে বিচারপতি উঠে চলে যান এবং জানান যে আগামী 14 জানুয়ারি এই শুনানি হবে৷ তার পর ইডি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করে৷ কিন্তু অর্ডার হয়ে যাওয়ায় প্রধান বিচারপতি হস্তক্ষেপ করেননি৷ ফলে দু’টো মামলার শুনানিই আগামী বুধবার হবে৷’’

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আজ দুপুর আড়াইটের সময় মামলার শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছিল৷ এজলাসে প্রচুর ভিড় হয়ে যায়৷ বিচারপতি আইনজীবীদের একাংশকে বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করেন৷ একটু হইহই হচ্ছিল৷ সেই কারণে বিচারপতি মামলা শুনলেন না৷ তিনি বললেন, এভাবে আমি মামলা শুনি না৷’’
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এদিন যা হয়েছে, তা নিয়ে তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিশৃঙ্খলা, নাকি শৃঙ্খলা এটা আমি বলতে পারব না৷ কারণ, আইনজীবীরাও এই মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকতে উদগ্রীব ছিল৷ বিচারপতি শুনতে চাননি, সেটাই বললাম৷ এবার এটা বিশৃঙ্খলা, নাকি শৃঙ্খলা সেটা বিচারপতি ঠিক করবেন৷’’

