আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট জমা নির্বাচন কমিশনে
প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার রিপোর্ট জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে ৷ ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ৷

Published : January 5, 2026 at 4:15 PM IST
কলকাতা, 5 জানুয়ারি: আজ থেকে প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে । এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
আগামী 14 ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এখন রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের শুনানি পর্ব। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ ৷ তারপরেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা ।
এসআইআর-এর পাশাপাশি শুরু হয়ে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের অনান্য প্রস্তুতি পর্ব ৷ রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রিপোর্ট এবার পাঠাতে হবে প্রতি সপ্তাহে । ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সব জেলা শাসকদের।

আজ থেকে প্রতি সপ্তাহে সব জেলা শাসকরা রিপোর্ট পাঠাবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ৷ তারপর সেই রিপোর্ট পাঠানো হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে । অর্থাৎ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর অনেক আগে থেকেই নজর রাখতে চাইছে কমিশন । পাশাপাশি ভোটের আগে নিয়োগ করা হয়েছে 15টি নোডাল এজেন্সি ৷ তারাও কাজ শুরু করে দিয়েছে । এই নিয়ে প্রত্যেক জেলায় জেলা শাসকের নেতৃত্বে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে ৷
অন্যদিকে, রাজ্যে বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন । পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে পাঠানো এক নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, দুর্গম এলাকা, বনাঞ্চল, ছড়িয়ে থাকা বসতি এবং যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যের 12টি জেলায় মোট 160টি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি কেন্দ্রে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত শুনানি হবে। এই জেলাগুলি হল- দার্জিলিং, ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, নদিয়া, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং জলপাইগুড়ি । কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলায় সর্বাধিক ঊনচল্লিশটি এবং আলিপুরদুয়ারে 38টি বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি কেন্দ্রের প্রস্তাব করা হয়েছে । সবমিলিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রস্তাবিত মোট বিকেন্দ্রীকৃত শুনানি কেন্দ্রর সংখ্যা 160টি ৷
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সমস্ত বিকেন্দ্রীকৃত কেন্দ্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে শুনানি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলপূর্বভাবে করা যায়। পাশাপাশি কোনও রকম বহিরাগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে শুনানি চালানোর উপর জোর দিয়েছে কমিশন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধি এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে ।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুনানির দিনক্ষণ ও কেন্দ্রগুলির অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সব পক্ষকে আগাম জানাতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনকে এই নির্দেশাবলির বাস্তবায়নকরার ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে নজরদারির চালাতে হবে। এছাড়াও দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় বসবাসকারী ভোটারদের যাতে অযথা দূরত্ব পাড়ি দিয়ে শুনানিতে আসতে না-হয় সেই লক্ষ্যেই এই বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত।
বিকেন্দ্রীকৃত শুনানিকেন্দ্র চালু হলে প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ ও অসঙ্গতি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মেটাতেই এই পদক্ষেপ।

