রাজ্যের থেকে ক্ষমতা ডিইও'কে হস্তান্তর, সাসপেন্ড 5 জনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে FIR-এর নির্দেশ
অগস্টে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ওই পাঁচজন এসআইআর-এর কাজে যুক্ত আধিকারিককে ৷ এবার তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷

Published : January 3, 2026 at 2:34 PM IST
কলকাতা, 3 জানুয়ারি: রাজ্যের থেকে ক্ষমতা নিয়ে জেলার ইলেকশন অফিসার (ডিইও)'কে হস্তান্তর করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন ৷ অগস্টে সাসপেন্ড হওয়া 5 জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ রাজ্য এফআইআর না-করায় এবার সেই দায়িত্বই দেওয়া হল ডিইও'কে ৷
রাজ্যে চলছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) । আর এরই মাঝে গত বছর 5 অগস্ট ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম তোলা এবং একাধিক গরমিল করার অভিযোগ উঠেছিল ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ মোট পাঁচজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে । রিপোর্ট পাওয়ার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁদের কাজ থেকে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছিল ৷

সাসপেন্ড হওয়া ওই পাঁচজন হলেন দক্ষিণ 24 পরগনার 137 বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) দেবত্তম দত্ত চৌধুরী ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তথাগত মণ্ডল ৷ অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের 206 ময়না বিধানসভার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বিপ্লব সরকার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার সুদীপ্ত দাস এবং 137 বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদার ৷
পাশাপাশি এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন । রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েওছিল নির্বাচন কমিশন । মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে লেখা চিঠিতে ইসি জানিয়েছিল যে, সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকরা ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী অনিয়মে জড়িত থাকার জন্য দোষী । জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন এবং সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত আধিকারিকরা যতদিন নিযুক্ত থাকবেন; ততদিনের জন্য তাঁরা কমিশনে ডেপুটেশনে রয়েছেন বলে গণ্য হবেন ।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছিল যে, ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন, বা সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত বা সেই তালিকা থেকে কোনও নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অনিয়মকারী আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে । সরকারি কর্তব্য লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ বা ব্যর্থতার জন্য, একজন আধিকারিক তিন মাসের বেশি থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানায় দণ্ডনীয় হবেন ।
কিন্তু নির্দেশ মতো তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না-হওয়ায় রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে ডেকেও পাঠানো হয়েছিল । সেই তলবে সাড়া দিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন মুখ্যসচিব ৷ এরপরে গত 20 অগস্ট ওই পাঁচজন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয় ৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়নি রাজ্য সরকারের তরফে ৷ তাই এবার তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই জেলার ইলেকশন অফিসার (ডিইও)-কে । পাশাপাশি এফআইআর-এর পর সেই রিপোর্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এবং দিল্লিতে পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ।

