ETV Bharat / state

নির্ণায়ক হতে চলেছে শুনানি! 16745911 ভোটারের তথ্য যাচাই করবে কমিশন

এসআইআর-এর এন্যুমারেশন পর্ব শেষ হয়েছে৷ 16 ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা৷ তার পরই শুরু হবে তথ্য যাচাই৷

Election Commission of India
নির্বাচন কমিশন (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : December 12, 2025 at 9:29 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 12 ডিসেম্বর: ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-এর কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে চেকিং ও ভেরিফিকেশনের কাজ। এবার 1 কোটি 67 লক্ষ 45 হাজার 911 ভোটারের তথ্য যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন। এমনটাই জানা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে।

বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই তথ্য যাচাই করবেন। তবে তারপরেও সেই নামগুলি নিয়ে সন্দেহ থাকলে শুনানির জন্য তাঁদের ডেকে পাঠানো হবে। অর্থাৎ শুনানি বা হিয়ারিং পর্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ হিয়ারিং-এ ডাক পড়ার সংখ্যা বাড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

SIR Hearing in West Bengal
কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিএলও-দের বিক্ষোভ৷ (নিজস্ব ছবি)

সংখ্যাটা কেন এত বেশি হতে চলেছে? নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই আবেদনগুলিতে বিভিন্ন ভুলভ্রান্তির বিষয় ইতিমধ্যেই নজরে পড়েছে৷ এই মোট সংখ্যার মধ্যে 85 লক্ষ ভোটারের বাবার নামে ভুল রয়েছে। আবার দেখা যাচ্ছে যে মোট নামের মধ্যে সাড়ে তেরো লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম বাবা ও মায়ের নাম হিসেবে দেখাচ্ছে। অর্থাৎ পরিবারে একজনের ক্ষেত্রে বাবার নাম ওই পরিবারে আরেকজনের ক্ষেত্রে মায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে৷

অন্যদিকে 11 লক্ষ 95 হাজার 230 ভোটারের বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য 15 বছরের কম। আবার দেখা যাচ্ছে যে ছয়জন ভোটারের দাদু বা বাবার নাম এক। এই রকম ভোটারের সংখ্যা 24 লক্ষ 21 হাজার 133। আবার দেখা যাচ্ছে যে একজন ভোটারের সঙ্গে তাঁর ঠাকুর্দার বয়সের পার্থক্য 40 বছরের কম। এমন ভোটারের সংখ্যা 3 লক্ষ 29 হাজার 152। জেন্ডার মিস-ম্যাচ হয়েছে 13 লক্ষ ভোটারের। এছাড়া রাজ্যে ম্যাপিং হয়নি বা আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা 30 লক্ষ।

SIR Hearing in West Bengal
কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিএলও-দের বিক্ষোভ৷ (নিজস্ব ছবি)

সব মিলিয়ে 1 কোটি 67 লক্ষ 45 হাজার 911 জন৷ এতজনকে হিয়ারিং-এ ডাকা হবে। তবে এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে৷ কারণ পরে যদি আর কারও আবেদন দেখে সন্দেহজনক মনে হয়, তাঁকেও হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে৷

এদিকে নির্বাচন কমিশন যখন ব্যস্ত এসআইআর-এর পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা নিয়ে, সেই সময় শুক্রবার বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা বিক্ষোভ দেখান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে৷ তাঁদের প্রশ্ন, এন্যুমারেশন পর্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কেন বিএলও অ্যাপে নতুন অপশন যুক্ত করা হচ্ছে? এই বিক্ষোভ হয়েছে বিএলও অধিকার মঞ্চের ব্যানারে৷ তাঁদের অভিযোগ, কমিশন অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে৷

SIR Hearing in West Bengal
কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে বিএলও-দের বিক্ষোভ৷ (নিজস্ব ছবি)

অন্যদিকে এদিন মতুয়া সমাজের স্বার্থরক্ষার দাবি নিয়ে এক প্রতিনিধি দল মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যায়৷ মতুয়া সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী৷ তাঁরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং স্পেশাল রোল অবজারভার সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে দেখা করেন৷

সুজন চক্রবর্তী বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট কয়েকদিন আগে একটা নির্দেশ দিয়েছে যে যেখানে যাঁরা সিএএ-তে আবেদন করেছেন, তাঁদের সিটিজেনশিপ কনফার্মেশনের সাপেক্ষে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। কারণ, তাঁরা তো ঘোষণা করেছেন যে তাঁরা বাংলাদেশের মানুষ৷ তাঁরা নাগরিকত্ব যদি না-পান, তাহলে তাঁরা ভোটার হবেন না। সেটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। যাঁরা বলছেন ভোটার তালিকায় নাম ওঠা এবং নাগরিকত্ব হয়ে যাওয়া, তাঁরা কার্যত মানুষকে প্রতারিত করেছেন। মতুয়া সমাজের মানুষকে প্রতারিত করেছেন এবং তাঁদের অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছেন।" সিপিআইএম-এর এই নেতার দাবি, মতুয়াদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে৷

আরও পড়ুন -

  1. 'অমানবিক মানসিক অত্যাচার, আর কাজ করব না !' জানাল বিএলও'রা
  2. 31 ডিসেম্বরের মধ্যে বহুতলে বুথ করা নিয়ে প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ কমিশনের