SIR-এর কাজে অনিয়মের অভিযোগ, 3 বিএলও-সহ পাঁচজনকে শোকজ নির্বাচন কমিশনের
বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকার ঘটনা৷ তিনজন বিএলও ছাড়াও ইআরও এবং এইআরও-কে শোকজ করা হয়েছে৷

Published : December 11, 2025 at 3:46 PM IST
বারুইপুর (দক্ষিণ 24 পরগনা), 11 ডিসেম্বর: নিয়ম না-মেনে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর-এর কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ 24 পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকায়৷ অভিযোগ, প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যাকে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অন্য একজনকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়৷ কিন্তু তাঁর বদলে তাঁর এক আত্মীয় এসআইআর-এর কাজ করে দিয়েছেন৷
এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলও-দের শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে ইআরও এবং এইআরও-কেও৷ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর৷ বিজেপির অভিযোগ, ওই এলাকায় তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দলের বিএলএ-রা কাজ করতে পারেননি৷ অন্যদিকে তৃণমূল সব দায় নির্বাচন কমিশনের ঘাড়েই ঠেলেছে৷ আর সিপিআইএম এই পরিস্থিতিতে তোপ দেগেছে বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই৷
বারুইপুরে বিএলও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য
হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত৷ দক্ষিণ 24 পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ছে এই গ্রাম পঞ্চায়েত৷ সেখানেই একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কাজ করেন সোমা সেন৷ তিনি পার্শ্ববর্তী রামনগর-2 গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য৷ তাঁকে হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের 94 নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷
সোমা সেন বলেন, ‘‘আমার বাড়ি রামনগর৷ কিন্তু আমি হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী হিসেবে কাজ করি৷ তাই এখানে আমাকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ দায়িত্ব দেওয়া হবে, এই কথা শোনামাত্রই আমি বিডিও অফিসে যাই৷ সেখানে জানাই যে রামনগর থেকে এখানে এসে কাজ করা আমার পক্ষে অসুবিধাজনক এবং রামনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য৷’’
তাঁর দাবি, ‘‘কিন্তু আমার কথার কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি৷ বরং বলা হয়েছে, ‘কোনও অসুবিধা নেই৷ আপনাকে করতে হবে’৷ রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকেও জানাই৷ তিনি বিডিও-র সঙ্গে কথা বলেন৷ বিডিও তাঁকেও বলেন যে কোনও সমস্যা হবে না৷ তার পর 25 দিন ধরে নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছি৷’’

এসআইআর-এর কাজ শুরু হয়েছে গত 4 নভেম্বর৷ সেই সময়ই তিনি কাজ শুরু করেন৷ ইতিমধ্যে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসে৷ তখন সেই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ে৷ অভিযোগ খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন সোমা সেনকে বিএলও-র দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়৷ তার পর তাঁকে শোকজ করা হল৷
যদিও সোমা সেনের দাবি, ‘‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এল৷ সেটাও হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের জানাই৷ তাঁরাও বিষয়টিতে কর্ণপাত করেননি৷ তবে সবটাই মৌখিকভাবে বলেছি৷ কোথাও লিখিত কিছু জানাইনি৷ শো-কজের চিঠি এখনও পাইনি৷ পেলে আমার এই বক্তব্যগুলোই নির্বাচন কমিশনকে জানাবো৷’’
বিএলও একজন, কাজ করছেন অন্যজন
সোমা সেনকে সরিয়ে দেবী হালদারকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ৷ সেই কারণে 94 নম্বর বুথে এসআইআর-এর কাজ সামলে দেন দেবী হালদারের জা রমা হালদার৷ তিনি আবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের 96 নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন৷ ফলে এই নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়৷ কিন্তু রমা হালদারের দাবি অনুযায়ী, তাঁকে দিয়ে কাজ করানো হবে, সেটাই আগেই বলা হয়েছিল৷ শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিএলও করা হয় দেবী হালদারকে৷
রমা হালদার বলেন, ‘‘আমি দেবী হালদারের জা, সেই হিসেবেই ওকে সাহায্য করেছি৷ 94 নম্বর বুথের বিএলও সোমা সেনের নামে অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ায়৷ তখন দেবী হালদারকে বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়৷ তবে ওই কাজ আমাকে করতে বলা হয়৷ উনি এই বিষয় বোঝেন না এবং অসুস্থ, সেই কারণেই আমি তাঁর হয়ে কাজ করেছি৷’’
এদিকে দেবী হালদার নিজেও স্বীকার করছেন, "আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল৷ কিন্তু আমি কাজ করিনি। আমি অসুস্থ৷ রমা আমার জা হন।"
পাঁচজনকে শোকজ
এই ঘটনায় পাঁচজনকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ এর মধ্যে তিনজন বিএলও - সোমা সেন, দেবী হালদার ও রমা হালদার রয়েছেন৷ এছাড়া শোকজ করা হয়েছে ইআরও এবং এইআরও-কে৷ প্রশাসন সূত্রে খবর, 48 ঘণ্টার মধ্যে এই নিয়ে জবাব দিতে হবে৷
বারুইপুরের বিডিও পন্না দে বলেন, ‘‘আমি কোনও মন্তব্য করব না। যাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁরা ওই শোকজের চিঠির যথাযথ উত্তর দেবেন।’’
বিএলও-বিভ্রাটে রাজনৈতিক তরজা
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ বিজেপি এই নিয়ে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে৷ বিজেপির যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি দিলীপ হালদার বলেন, ‘‘বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার হাড়দহ অঞ্চলের 94 নম্বর বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও ছিলেন সোমা সেন৷ তিনি তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ায় দেবী হালদারকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ দেবী হালদার অসুস্থ ছিলেন৷ তাই ওই কাজ করেন তাঁর আত্মীয় রমা হালদার৷ ওই মহিলা আবার 96 নম্বর বুথের বিএলও৷ ওই বুথে বিজেপির বিএলএ-রা কাজ করতে পারেননি৷ তাহলে আমলারা কি এসআইআর প্রক্রিয়া ভন্ডুল করতেই এই তৃণমূল ক্যাডারদের নিয়োগ করেছিলেন জেনেশুনেই?
সিপিআইএম নেতা লাহেক আলি বলেন, ‘‘এসআইআর-এর প্রক্রিয়া যখন থেকে শুরু হয়, তখন আমাদের নির্দিষ্ট দাবি ছিল মৃত ও ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দিতে হবে৷ এই নিয়ে একাধিক তালিকা জমা দিয়েছি৷ তার পরও কোনও নাম বাদ যায়নি৷ বিজেপি চাইছিল প্রকৃত ভোটার বাদ দিয়ে গোলোযোগ তৈরি করা৷ আর তৃণমূল চাইছিল মৃত ও ভুয়ো ভোটারের নাম রেখে দিতে৷ সেই উদ্দেশ্যে এসআইআর-কে কাজে লাগানো হয়েছে৷ পঞ্চায়েত সদস্যাদের বিএলও করা হয়েছে৷ একজন বিএলও-কে বদলে অসুস্থ ব্যক্তিদের বিএলও করা হয়েছে৷ বিএলও-দের দিয়ে তৃণমূল জোর করে দুর্নীতি করাচ্ছে৷’’
অন্যদিকে বারুইপুর ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের৷ রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের যে সদস্যকে বিএলও করা হয়েছে, তিনি বারবার জানিয়েছেন৷ তার পরও তৎকালীন বিডিও তাড়াতাড়ি কাজ দেখানোর জন্য কোনও আপত্তির তোয়াক্কা করেননি৷ তাই সোমা সেন ওখানে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন৷ আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি জানাবো৷ এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া নয়, প্রকৃত ভোটার বাদ দেওয়া৷’’

