মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থামিয়ে বার্ধক্য ভাতার আবেদন, আশ্বাস পেয়ে আশীর্বাদ বৃদ্ধার
মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় গতি বাড়ানোর আগেই ভিড়ের মধ্যে থেকে 'বাবা দাঁড়াও, বাবা দাঁড়াও' বলতে বলতে তিনি কনভয়ের দিকে এগোতে থাকেন ।

Published : September 1, 2026 at 2:05 PM IST
মধ্যমগ্রাম, 31 অগস্ট: মেলেনি বার্ধক্য ভাতা । নিদারুণ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে আর পেরে উঠছেন না । ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাবেন । মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে আশ্বাস পেয়ে সব অভিযোগের ইতি । শুভেন্দু অধিকারীর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন উত্তর 24 পরগনার মধ্যমগ্রামের বৃদ্ধা স্বপ্না দাস । মুখ্যমন্ত্রী দলের জেলা সভাপতিকে বৃদ্ধার সমস্ত কাগজপত্র তাঁর দফতরে পাঠাতে বলেছেন ।
একটি অনুষ্ঠান শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় মঙ্গলবার সকালে সবে যশোর রোডে উঠেছে । ঠিক তখন বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীদের ভিড়ের জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন 68 বছরের বৃদ্ধা স্বপ্না দাস । মধ্যমগ্রামের শ্রীনগর এলাকায় এক কামরার ভাড়া বাড়িতে তাঁর বাস । মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় গতি বাড়ানোর আগেই ওই ভিড়ের মধ্যে থেকে 'বাবা দাঁড়াও, বাবা দাঁড়াও' বলতে বলতে তিনি কনভয়ের দিকে এগোতে থাকেন । তাঁর ডাক শুনে গাড়ি থামিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী । জানলার কাচ নামতেই বৃদ্ধা গাড়ির কাছে পৌঁছে গেলেন ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে 'মা' সম্বোধন করে বলেন, 'মা বলুন আপনি আমাকে কী বলতে চান?' বৃদ্ধা বললেন, 'আমি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাই না'৷ জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আপনি তো অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না । আমি আপনার বার্ধক্য ভাতার সমস্ত ব্যবস্থা করে দেব ।' শুনে বৃদ্ধা আরও এগিয়ে গেলেন । মুখ্যমন্ত্রীর মাথা ছুঁয়ে আশীর্বাদ করলেন । তারপর বললেন, 'আমি টাকা পাই না-পাই, বাবা তোমাকে কাছে পেয়েছি, আমার মন জুড়িয়ে গিয়েছে ।'
মুখ্যমন্ত্রী তখন কাছে দাঁড়িয়ে থাকা বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দারকে নির্দেশ দেন, ওই বৃদ্ধার বার্ধক্যভাতা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিতে । মাথা নেড়ে রাজীববাবু তাতে সম্মতি জানান । মুখ্যমন্ত্রীর মাথা ছুঁয়ে আশীর্বাদ করতে পেরে বৃদ্ধার চোখে মুখে তখন হাসির ঝলক দেখা গেল ।
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীনগরের হাট সংলগ্ন এলাকাতেই থাকেন 68 বছরের বৃদ্ধা স্বপ্না দাস । 12 বছর আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন । একমাত্র ছেলে শুভজিৎ দাস (31)। এমএ পাশ করেও কোনও চাকরি পাননি । কিন্তু বর্তমানে শুভজিৎ খুব অসুস্থ । একেবারে শয্যাশায়ী । স্বপ্নার এক আত্মীয় তাঁদের কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেন । তাতে কোনওরকমে মা-ছেলের দিন কাটে । আশা করেছিলেন বার্ধক্য ভাতা পেলে কিছুটা সুরাহা হবে । কিন্তু পুরসভায় বারবার আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি । বার্ধক্য ভাতা পাননি বৃদ্ধা । তাঁকে জানানো হয়েছিল, বার্ধক্য ভাতা পেতে আরও কয়েক মাস লেগে যাবে ৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মধ্যমগ্রামে আসছেন শুনেই ওই বৃদ্ধা সেখানে এসে হাজির হন । মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর অসহায়তার কথা জানাবেন বলে সভাস্থল থেকে বেরোনোর পথের মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন । অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র না-থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেননি । শেষে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় বের হতেই ওই জটলার মধ্যে থেকে হাত তুলে 'বাবা দাঁড়াও, বাবা দাঁড়াও' বলতে বলতে ওই বৃদ্ধা এগিয়ে যেতে থাকেন ।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর কথা শুনে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়ায় খুশি বৃদ্ধা ৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীকে আমি বার্ধক্যভাতার কথা বলেছি । তিনি আমাকে ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন । তাঁকে আশীর্বাদ করতে পেরেছি । তাতেই আমি আপ্লুত । আশা করছি, মুখ্যমন্ত্রী আরও ভালো কাজ করবেন ।"

