ETV Bharat / state

SIR আতঙ্কে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ মহিলার, বিজেপি-নির্বাচন কমিশনকে দুষলেন মন্ত্রী

খসড়া তালিকায় ফুলবালা পালের স্বামী ও ছেলের নাম থাকলেও তাঁর নাম আসেনি। এর জেরেই মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছিলেন বলে দাবি পরিবারের ৷

panic over SIR
মৃত ফুলমালা পালের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মন্ত্রী (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 3, 2026 at 11:17 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বর্ধমান, 3 জানুয়ারি: ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ ! পূর্ব বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর-2 পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনা। মৃতের নাম ফুলমালা পাল (57) ৷ SIR আতঙ্কে শুক্রবার তিনি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন বলে দাবি পরিবারের ৷

সন্ধ্যায় মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করেছেন মন্ত্রী ৷ যদিও বিজেপির দাবি, পারিবারিক সমস্য়ার কারণে নিজেকে শেষ করেছেন ফুলমালা ৷

panic over SIR
পরিবারের সদস্য়দের পাশে থাকার আশ্বাস মন্ত্রীর (ইটিভি ভারত)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরের খসড়া তালিকায় স্বামী ও ছেলের নাম থাকলেও ফুলমালার নাম আসেনি। ফলে তিনি কয়েকদিন ধরেই মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছিলেন ৷ শুনানির জন্য তাঁর কাছে নির্বাচন কমিশনের নোটিশও আসে। এই নোটিশ পাওয়ার পরে তাঁর চিন্তা আরও বেড়ে যায় ৷ পরিবারের লোকজন বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাঁর আতঙ্ক কাটেনি। শুক্রবার সকালে স্বামী কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন ৷ পরে জিআরপি তাঁর দেহ উদ্ধার করে। তৃণমূলের অভিযোগ, এভাবে একের পর এক মৃত্যুর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি।

স্বামী সুনীল পাল বলেন, "সকালে আমরা কাজে চলে গিয়েছিলাম। এসে শুনছি আমার স্ত্রী নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। অনেক বুঝিয়েছি যে এই এলাকার অনেকেরই কাগজপত্র নেই। সুতরাং ভয়ের কোনও কারণ নেই ৷ কিন্তু কারও কথা কানে তোলেননি। তাঁকে আমরা আশ্বস্ত করতে পারেনি। ওঁর ভিতরে ভয় কাজ করত।"

পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, "ফুলমালা পাল নোটিশ পাওয়ার পরে ভয়ে পাঁচদিন না খেয়ে ছিলেন। এরপর নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। এর জন্য একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন দায়ী অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনকে যারা পরিচালনা করছে সেই বিজেপি সরকারও দায়ী। যাঁর মৃত্যু হল তিনি গত লোকসভা নির্বাচন ও বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। আজ আতঙ্কে এমন একটা পদক্ষেপ করলেন। এই এলাকায় প্রায় 300 জন বাসিন্দার কাছে নোটিশ এসেছে। তাঁরা সকলেই বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেব না। আমরা ভোটরক্ষা শিবিরও করেছি।"

অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "ফুলমালার নাম তালিকায় আসেনি। অথচ তাঁর স্বামী ও অন্যান্য সদস্যদের নাম তালিকায় আছে। তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এই আতঙ্কে তিনি নিজেকে শেষ করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু এটা মিথ্যা কথা। আসলে তাঁর ছেলের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন বলে তিনি মানসিক যন্ত্রনায় ছিলেন। তাঁর জামাই তৃণমূলের পঞ্চায়েতের সদস্য। তাই রাজনীতি করার জন্য এটাকে এসআইআরের কারণে মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা চলছে।"

রাজ্যের মন্ত্রীর আরও দাবি, বিজেপি বারবার রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা বলে চারপাশে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করছে। তাঁর কথায়, "বিজেপি বলছিল হিন্দুদের কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না। এই এলাকায় যাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে তাঁরা সকলেই হিন্দু। বিজেপির একটাই লক্ষ্য তৃণমূলকে হারাতে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। এটা একটা ষড়যন্ত্র। তারই স্বীকার হলেন ফুলমালা পাল। আমাদের দল স্বজনহারা পরিবারের পাশে আছে। এই ঘটনার জন্য ওদের নামে FIR করা উচিত।"