জলে তলিয়ে যাওয়া বাড়ির BPL মিটারে বিদ্যুতের বিল 3 লাখ ! ঘুম উড়েছে বৃদ্ধের
একাধিক বার বিদ্যুৎ দফতরে দরবার করলেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ । উলটে তাঁকে সব টাকা নাকি জমা করে দিতে বলেছেন আধিকারিকরা ৷

Published : December 11, 2025 at 6:25 PM IST
চন্দ্রকোনা, 11 ডিসেম্বর: নদীর জলে ভেসে গিয়েছে বাড়ি ৷ দিনমজুর বৃদ্ধ ঠাঁই নিয়েছেন মেয়ের বাড়িতে । পুরনো বাড়ির বিপিএল মিটারটা মেয়ের বাড়িতেই লাগানো হয়েছিল ৷ সেই মিটারেই বিল এসেছে প্রায় তিন লক্ষ টাকা । স্বাভাবিকভাবেই ঘুম উড়েছে বৃদ্ধের । তিনি চাইছেন সমস্যার সমাধান করে এর থেকে অব্যাহতি দিক বিদ্যুৎ দফতর ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা দু'নম্বর ব্লকের ধাইখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা গোলাম নবী খান । তাঁর বাড়িতে বিপিএল মিটারের বিল এসেছে 2 লক্ষ 83 হাজার টাকা ৷ ফলে প্রবল আতঙ্কে এই বিপুল পরিমাণ বিল মকুবের দাবিতে বিদ্যুৎ দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন বৃদ্ধ ৷ তবে একাধিক বার বিদ্যুৎ দফতরে এই নিয়ে দরবার করলেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ । উলটে তাঁকে এই টাকা নাকি জমা করে দিতে বলেছেন আধিকারিকরা ৷ তবে এলাকাবাসীরা বলছেন, "এই বিল অবিশ্বাস্য বিল ৷ এটা কখনওই হতে পারে না ৷"
বৃদ্ধ ও স্থানীয়রা প্রত্যেকে দাবি করেছেন যে, এলাকার শিলাবতী নদীর গর্ভে বেশ কয়েক বছর আগেই তলিয়ে গিয়েছে গোলামের একমাত্র বসতবাড়ি । তার পর থেকে গ্রামের মেয়ের বাড়িতে উঠেছেন তিনি । বেশ কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎ দফতর থেকে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ নিয়েছিলেন । কিন্তু হঠাৎ করে কয়েক বছর আগে গোলামের প্রথম বিদ্যুৎ দফতরের বিল আসে 1 লক্ষ 93 হাজার টাকা । সেই বিল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি ৷ সেই সময় বিদ্যুৎ দফতরে যোগাযোগ করেছিলেন ৷ লিখিত আবেদনও করেছিলেন । তবে এরপর ফের দিন কয়েক আগে হঠাৎ আরও একটি বিদ্যুতের বিল পান গোলাম ৷ এবার টাকার অঙ্ক 2 লক্ষ 83 হাজার টাকা ।
এই বিল দেখেই চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বৃদ্ধ । ইতিমধ্যেই একাধিকবার বিদ্যুৎ দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন ৷ তিনি বলেন, "বাড়িতে আমার মাত্র একটি আলো এবং একটি ফ্যান চলে । না আছে এসি, না আছে ফ্রিজ । তারপরও বিদ্যুতের বিল দেখি প্রায় তিন লক্ষ টাকা । আমি আতঙ্কিত ৷ এই সমস্যার সমাধান এবং এর থেকে অব্যাহতি চাইছি । কারণ আমার মতো খেটে খাওয়া মজুরের পক্ষে এত টাকা কারেন্টের বিল দেওয়া সম্ভব না ।"
গোলামকে এই বিষয়ে ভরসা জোগাচ্ছেন গ্রামের মানুষজন । এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য শক্তিপদ রায় বলেন, "এই বৃদ্ধের একটি বাড়ি ছিল ৷ কিন্তু তা নদী গর্ভে চলে যায় । এরপর ও পাগলের মতো ঘুরতে থাকে । পরে ওই বাড়ির পাশেই ওর মেয়ের বাড়িতে কোনওক্রমে দিন কাটানো শুরু করে ।সেখানেই ওর পুরনো বাড়ির মিটারটা এনে লাগানো হয়, যা হচ্ছে বিপিএল মিটার । বছর পাঁচেক আগেই এরকম এক ধরনের ভুতূড়ে বিল এসেছিল ।এরপর ও ইলেকট্রিক অফিসের দ্বারস্থ হয়েছিল ৷ কিন্তু ওর ইলেকট্রিকও কাটেনি, সমস্যার সমাধানও করেনি । ওর বাড়িতে না আছে ফ্রিজ, না আছে এসি, না আছে অন্য কিছু ৷ তারপরও আবার প্রায় তিন লক্ষ টাকার বিল পাঠিয়েছে দফতর । খেটে খাওয়া দিনমজুর এই বৃদ্ধের পক্ষে এত টাকা বিল মেটানো সম্ভব নয় । আমরা চাই এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হোক বিদ্যুৎ দফতর ।"
চন্দ্রকোনা বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, 2010 সাল থেকে কোনও বিদ্যুৎ বিল মেটাননি ওই বৃদ্ধ । এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেদিনীপুরের এক বিদ্যুৎ আধিকারিক বলেন, "ঘটনাটা এক দিনের না । দীর্ঘ 2010 সাল থেকে উনি কারেন্টের বিল দিচ্ছেন না । এই নিয়ে আমরা ওঁর কারেন্ট ডিসকানেক্ট করে দিয়েছিলাম । তারপর উনি আবার কিছুদিন পর লাইনটা যোগ করে নিয়েছিলেন । পরবর্তীকালে তাঁকে বিল পাঠানো হয়েছিল ৷ কিন্তু তারপরও তিনি বিল দেননি । 2018 সালে দুয়ারে সরকার বসেছিল ৷ সেখানেও আমরা মাইকিং গাড়ি নিয়ে ঘুরেছিলাম ৷ তখনও তিনি বিল এডজাস্টমেন্ট করতে আসেননি । আমাদের মনে হয়, তিনি শুধু টিউব জ্বালাতেন তা নয়, এমন কিছু করতেন যার জন্যই কারেন্টের বিল বেড়েছে । তবে তাঁর জন্য পথ এখনও খোলা আছে । তিনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা অবশ্যই বিষয়টা ভেবে দেখব ।"

