ETV Bharat / state

ইংরেজবাজারে গলা কেটে জোড়া খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য

একটি ঘটনায় বৃদ্ধকে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে গলা কাটার অভিযোগ ৷ অন্য ঘটনায় স্ত্রী’কে খুন করে ভিনরাজ্যে পালানোর চেষ্টা স্বামীর !

English Bazar Double Murder
প্রতীকী ছবি ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 28, 2026 at 7:42 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

মালদা, 28 অগস্ট: একই দিনে জোড়া খুনের ঘটনায় উত্তেজনা মালদা জেলার ইংরেজবাজার এলাকায় ৷ দু’টি ঘটনাতেই নৃশংসভাবে গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ৷ দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে ৷ একটি ঘটনায় শুক্রবার সকালে মালদা শহরের দুই নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকায় বাড়ির ভিতর থেকে বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় ৷ মৃতের নাম অর্ণব সেন (60) ৷ ওই বৃদ্ধকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের ৷ অপর ঘটনাটি ঘটেছে সাট্টারি এলাকার ৷ সেখানে শীলা খাতুন (25) নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ৷ মৃতের স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে খুনের অভিযোগ উঠেছে ৷

মালদা শহরের দুই নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির ঘটনায় বাড়িতে একাই ছিলেন 60 বছরের অর্ণব সেন ৷ সকালে বৃদ্ধের ভাই পিন্টু সেন বাড়িতে এসে দেখেন দরজা খোলা ৷ ভিতরে ঢুকতেই তিনি দেখেন ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ৷ আর বিছানায় মুখে বালিশ চাপা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন অর্ণব সেন ৷ বালিশ সরাতেই তাঁর গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান পিন্টু ৷ তিনিই প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং তারপর পুলিশে খবর দেওয়া হয় ৷

গলা কেটে জোড়া খুন (ইটিভি ভারত)

এনিয়ে ডেপুটি পুলিশ সুপার লেওয়াং তামাং বলেন, "ধারাল কোনও অস্ত্র দিয়ে গলা কাটা হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, খুব সকালে খুন করা হয়েছে ৷ ঘটনাস্থল থেকে খুনে ব্যবহার হওয়া অস্ত্র পাওয়া যায়নি ৷ ঘরের ভিতরে ও বাথরুমে রক্ত পাওয়া গিয়েছে ৷ ঘর থেকে দু’টি চায়ের কাপও পেয়েছি আমরা ৷ খুনের কারণ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয় ৷ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে ৷ তদন্তের জন্য ফরেন্সিক টিম আনা হচ্ছে ৷"

মৃতের ভাই পিণ্টু সেন বলেন, "ঘরে ঢুকে দেখি, পুরো ঘর ওলটপালট হয়ে আছে ৷ দাদার মুখে বালিশ চাপা দেওয়া ৷ বালিশ সরাতেই দেখি দাদার গলা কেটে দেওয়া হয়েছে ৷ কী কারণে খুন করা হয়েছে, কিছুই বুঝতে পারছি না ৷ দাদা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না ৷ ক্লাবেও যাতায়াত ছিল না ৷ কারও সঙ্গে টাকা পয়সারও কোনও বিষয় নেই ৷ ঘরে টাকা পয়সা ছিল না, সোনাদানা কিছু থাকতে পারে ৷ আমাদের অনুমান, যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে দাদার পরিচিত ৷ দাদা নিজেই হয়তো গেট খুলে দিয়েছিল ৷ চায়ের দু’টো কাপ পাওয়া গেছে ৷ ইনডাকশন অন ছিল ৷ হয়তো দাদা চা করে খাইয়েছে ৷ ওঁর হাতে রাখি রয়েছে ৷ হয়তো কোনও মহিলাও এসেছিলেন ৷"

অন্যদিকে, ইংরেজবাজারের সাট্টারি এলাকায় গৃহবধূ শীলা খাতুন খুনের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ৷ এনিয়ে পুলিশ সুপার লেওয়াং তামাং বলেন "আমরা দেহ উদ্ধার করেছি ৷ গলার ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ৷ মৃতের স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ৷"

জানা গিয়েছে, সন্ধে থেকে শীলার কোনও খোঁজ মিলছিল না ৷ তাঁর দিদি নাসিমা খাতুন অনেকবার ফোন করেন ৷ কিন্তু, তিনি ধরেননি ৷ তাই বোনের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান ৷ কিন্তু, সেখানে তালা দেওয়া ছিল ৷

নাসিমা পুলিশকে জানিয়েছেন, শীলার স্বামী তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভিনরাজ্যে যাওয়ার জন্য স্টেশনের দিকে রওনা দিয়েছিলেন ৷ তাঁকে ফোন করে স্টেশন থেকে ডেকে পাঠানো হয় ৷ কিন্তু, অনেক দেরি করতে দেখে শীলার দুই জামাইবাবু স্টেশনে গিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে ৷ এরপর রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বাড়িতে গিয়ে তালা খুলে ঘরে ঢুকে মেঝেতে রক্ত পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা ৷ এরপর খাটের তলা থেকে শীলার গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয় ৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে ৷ এই ঘটনায়

অন্যদিকে, শীলার স্বামীর সঙ্গে তাঁর বউদি’র বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃতের গ্রামের পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ আলিমুল ৷ তিনি বলেন, "খবর পাই বোনকে (শীলা) ওঁর স্বামী আর বউদি মিলে খুন করেছে ৷ মর্গে এসে বোনের ছোটো ছেলের থেকে জানতে পারি, ওর বাবা দশ টাকা আর মোবাইল দিয়েছিল ৷ সেই সময় ওই বাচ্চাটা দোকানে গিয়েছিল ৷ দোকান থেকে এসে কিছু শব্দ শুনে বাচ্চাটি ঘরে যায় ৷ ও দেখে, ওর বাবা রক্ত লাগা বালতি নিয়ে এদিক ওদিক করছে ৷ প্যান্টেও রক্ত লেগে ছিল ৷ এমনকি ওই বাচ্চাটি ওর মাকে খাটের তলায় ঢোকাতে দেখেছে বলে আমাদের জানিয়েছে ৷ আমাদের ধারণা পরিকল্পনা করেই এই খুন করা হয়েছে ৷"