পারিবারিক বিবাদে শান্তিপুরে বিষপান বৃদ্ধ দম্পতির ! রুজু অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা
ছেলে-বৌমাদের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ৷ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ৷

Published : December 7, 2025 at 7:54 PM IST
শান্তিপুর (নদিয়া), 7 ডিসেম্বর: বৃদ্ধ দম্পতির দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ৷ বৌমার সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে বৃদ্ধ প্রথমে অসুস্থ স্ত্রীকে বিষ খাওয়ান ৷ পরে নিজে বিষ পান করেন বলে অভিযোগ ৷ শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর পুরসভার 23 নম্বর ওয়ার্ডের বিবাদী পল্লিতে ৷ প্রাণ গিয়েছে নারায়ণ সিংহ (85) এবং রিনা সিংহের (70) ৷
পুলিশকে ছেলে জানিয়েছেন তাঁর মা প্রায় এক বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ছিলেন ৷ যার জেরে চলাফেরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ৷ স্বামী, ছেলে এবং বৌমার ভরসায় থাকতে হতো তাঁকে ৷ স্ত্রী’র এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন নারায়ণ সিংহ ৷ ছেলের দাবি, নারায়ণ স্বভাবে মেজাজি ছিলেন ৷ স্ত্রী’র অসুস্থতার পর আরও খিটখিটে হয়ে যান তিনি ৷ সামান্য বিষয়ে মেজাজ হারাতেন বলে অভিযোগ ৷ এমনকী রিনা সিংহ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার আগেও, দু’জনে ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বড় ছেলে ৷
রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশিস মৈজ্য বলেন, "মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে রানাঘাট মহাকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে ৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে স্পষ্ট হবে কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে ৷ এখনও পরিবারের তরফে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি ৷ তদন্ত চলছে ৷"
জানা গিয়েছে, মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন বিষয়ে ছেলে এবং বৌমাদের সঙ্গে বৃদ্ধের কথা কাটাকাটি হত ৷ সেভাবে শনিবারও কোনও একটি বিষয়ে ছেলে-বৌমাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন নারায়ণ সিংহ ৷ আর তারপর তিনি প্রথমে অসুস্থ স্ত্রীকে বিষ খাওয়ান ৷ পরে নিজে বিষ পান করেন বলে অভিযোগ ৷ সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় দু’জনকে ৷
হাসপাতাল সূত্রে খবর, রবিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে রিনা সিংহ এবং পরে নারায়ণ সিংহের মৃত্যু হয় ৷ এরপর হাসপাতাল থেকেই শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়া হয় ৷ পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় ৷ এই ঘটনায় পুলিশের তরফে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে ৷
এই ঘটনা নিয়ে মৃত দম্পতির ছেলে আরও বলেন, "বাবা একটুতেই রেগে যেতেন ৷ মায়ের অসুস্থতার পর আরও খিটখিটে হয়ে যান ৷ মায়ের অধিকাংশ কাজ বাবা করে দিতেন ৷ মাঝে মধ্যে আমার স্ত্রী’র সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা কাটাকাটি হত ৷ বাবার দাবি ছিল, উনি আমাদের কথা শুনে চলবেন না ৷ আমরা দুই ভাই বোঝানোর চেষ্টা করলেও শোনেনি ৷ আমার বাবার আগে মুদিখানা দোকান ছিল ৷ প্রায় 20 বছর হল উনি আর উপার্জন করেন না ৷ তখন থেকেই মেজাজ হারাতেন ৷ আমাদের কথা শুনতে চাইতেন না ৷"
(আত্মহত্যা কোনও সমাধান নয় ৷ যদি আপনার মধ্যে কখনও আত্মহত্যার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।)

