ETV Bharat / state

বালি পাচার মামলা: 145 কোটির দুর্নীতিতে চার্জশিট পেশ ইডির, সোমে শুনানি

ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, এই মামলায় মোট 18 জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । এর মধ্যে 14টি সংস্থা রয়েছে ।

sand smuggling case
বালি পাচার মামলায় চার্জশিট পেশ ইডির (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 5, 2026 at 2:48 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 5 জানুযারি: বালি পাচারকাণ্ডে অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল তদন্ত । শনিবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতে (বিচারভবন) বালি পাচার মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) । মুখ্য বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে এই হাই-প্রোফাইল মামলার চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা । প্রাথমিক তদন্তে প্রায় 145 কোটি টাকার দুর্নীতির হদিশ মিলেছে বলে ইডির দাবি ।

ইডির চার্জশিট অনুযায়ী, এই মামলায় মোট 18 জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে 14টি সংস্থা এবং প্রধান অভিযুক্ত ব্যবসায়ী অরুণ সরাফ ও তাঁর তিন কর্মচারী । আদালতে পেশ করা চার্জশিটের সঙ্গে প্রায় 4700 পাতার নথিপত্র জমা দিয়েছে ইডি, যা এই মামলার ব্যাপকতা ও গুরুত্বকে স্পষ্ট করে । আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার অর্থাৎ 5 জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে । এদিন অভিযুক্তদের হাতে চার্জশিট সংক্রান্ত সমস্ত নথির প্রতিলিপি তুলে দেওয়ার কথা আদালতের ।

তদন্তের পটভূমি

ইডি সূত্রে খবর, বালি পাচার চক্রের তদন্তে নেমে গত বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী অরুণ সরাফকে । প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় 78 কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে । গ্রেফতারের পর তাঁর সল্টলেকের অফিস-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি । সেই তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র উদ্ধার হয়, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ।

চার্জশিটে ইডির অভিযোগ, অরুণ সরাফ নিজের নামে কোনও নিয়মিত হিসেবপত্র রাখতেন না । বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মচারীদের মাধ্যমে ঘুরপথে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা চালানো হত । তদন্তে তাঁর একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেনের হদিশ মিলেছে । পাশাপাশি ব্যবসায়িক হিসেব, চালান ও নথিপত্রে ব্যাপক গরমিল ধরা পড়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের ।

রাজস্ব ফাঁকি ও বেআইনি খননের অভিযোগ

ইডির চার্জশিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অরুণ সরাফ ও তাঁর সংস্থাগুলি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে । আইন অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি বালি খনন এবং সেই বালি বাজারে বিক্রির মাধ্যমেই এই আর্থিক দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে ইডির দাবি । এই অবৈধ কার্যকলাপের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি ও সরকারি কোষাগারের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে । আগামিদিনে এই মামলার শুনানি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর ।