নারীপাচার-কাণ্ডে 1 কোটি নগদ-সহ বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত ইডির
টানা 30 ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি অভিযান৷ কলকাতা ও রাজ্যের সাতটি জায়গায় এই অভিযান হয়৷

Published : November 8, 2025 at 9:26 PM IST
কলকাতা, 7 নভেম্বর: রাজ্যে হোটেল ও পানশালা ব্যবসার আড়ালে চলা নারীপাচার চক্রের জাল এবার আরও বড় আকারে ফাঁস হতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র তল্লাশিতে সামনে এসেছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও বিলাসবহুল সম্পত্তির তথ্য।
সূত্রের খবর, শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় 30 ঘণ্টা ধরে কলকাতা ও রাজ্যের মোট সাতটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই অভিযানের ফলেই এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা নগদ অর্থ৷ পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই অর্থ নারীপাচার ও বেআইনি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রাজ্যের একাধিক হোটেল ও পানশালা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। তদন্তে উঠে এসেছে, সেই সব জায়গাগুলিকেই আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হতো নারী পাচারের জন্য। মূলত, বিভিন্ন জেলার দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারের তরুণীদের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আনা হতো শহরে। এরপর তাঁদের বাধ্য করা হতো যৌনপেশায় নামতে। এই গোটা চক্রের পেছনে রয়েছে একটি সংগঠিত চক্র৷ যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ইডি সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় বিপুল নগদ অর্থ এবং একাধিক আর্থিক নথি উদ্ধার হয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েকটি ডিজিটাল ডিভাইসও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে নারী পাচারের লেনদেনের সূত্র মিলতে পারে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, উদ্ধার হওয়া টাকা পাচার হয়ে যাওয়া নারীদের ব্যবসার মাধ্যমেই অর্জিত। এই অর্থ হোটেল ব্যবসার মুনাফা হিসেবে দেখানো হতো।
ইডির তরফে আরও জানা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও প্রপার্টি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য খোঁজা হচ্ছে। তাঁর বিদেশে যোগাযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেসব হোটেলে এই বেআইনি কাজ চলত, সেখানকার কর্মচারী ও ম্যানেজারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ইডি ইতিমধ্যেই ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত আরও তিনজনকে তলব করেছে। তাঁদের আগামী সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।
ইডির মতে, এটি শুধুমাত্র একটি আর্থিক অপরাধ নয়, এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে মানবপাচারের ভয়ঙ্কর চক্র। সংস্থার তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের মাথারা দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ব্যবসার আড়ালে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। এখন সেই আর্থিক লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করাই ইডির মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে সেগুলির উৎস এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ইডি-র দাবি, এই অভিযান কেবল শুরু, সামনে আরও বড় নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

