কলকাতা-সহ ভিনরাজ্যের 14 জায়গায় একসঙ্গে ইডি'র তল্লাশি অভিযান
টোল আদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মানি লন্ডারিং মামলায় বুধবার একাধিক রাজ্যে মোট 14 জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।

Published : September 2, 2026 at 10:11 AM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-র বিভিন্ন টোল প্লাজায় প্রতারণা করে টোল আদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মানি লন্ডারিং মামলায় বুধবার একাধিক রাজ্যে মোট 14 জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। 'প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA), 2002'-এর আওতায় উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, জম্মু, মধ্যপ্রদেশ, ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন (NCR) এবং কলকাতায় বিভিন্ন স্থানে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে খবর।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে, এদিন ভোরে ইডি-র লখনউ জোনাল অফিস এই মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। যার মধ্যে ছিল কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি এলাকার একটি আবাসন ৷ সেখানে থাকা বিভিন্ন নথি, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে ইডির তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, 22 জানুয়ারি 2025-এর এফআইআর (FIR) এবং 19 মে 2025-এর এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট (ECIR)-এর উপর ভিত্তি করে এই তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, অনুমোদিত নয় এমন টোল রসিদ তৈরি এবং সরকারি হিসাবের বাইরে টোল আদায় করে টাকা সরিয়ে ফেলার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হয়েছিল। ইডি-র তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং এনএইচএআই (NHAI)-এর নথিপত্র থেকে এই ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। ইডির মতে, এই তল্লাশি অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল ও নথিপত্র-ভিত্তিক প্রমাণ উদ্ধার করা ৷ একই সঙ্গে, সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত এবং টাকার উৎস বা গতিপথ খুঁজে বের করা।
মঙ্গলবার একটি পৃথক ঘটনায়, ইডি 'অক্ষতা মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড' এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে চলা এক মামলায় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে 62,914.316 ইউনিট ব্যালেন্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ড বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৷ বর্তমানে এর বাজারমূল্য 3.31 কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে জারি করা একটি আদেশের প্রেক্ষিতে ইডি-র বেঙ্গালুরু জোনাল অফিস এই সম্পত্তিগুলি অ্যাটাচ করেছে। ইডি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর বেঙ্গালুরু শাখার দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। ওই এফআইআর-এ অক্ষতা মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড, এর ডিরেক্টর এবং অন্যদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং জাল নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইডি এক বিবৃতিতে বলেছে, "তদন্তে জানা গিয়েছে, আকরিক লোহার ব্যবসা ও রফতানির কাজে যুক্ত অক্ষতা মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড ছটি সম্পত্তির বিপরীতে 'ইকুইটেবল মর্টগেজ' তৈরি করে 'ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া' থেকে প্রায় 6 কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর জয়মহলে অবস্থিত সম্পত্তিগুলির মধ্যে একটিকে প্রয়াত লক্ষ্মম্মার মালিকানাধীন হিসেবে মিথ্যাভাবে দেখানো হয়েছিল। বন্ধক বা মর্টগেজ তৈরির জন্য ব্যাঙ্কে জাল ও বানোয়াট 'খাতা' রেকর্ড, ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ, বেটারমেন্ট চার্জ-এর রসিদ এবং অন্যান্য রাজস্ব সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।"
ইডি জানিয়েছে, পরবর্তীকালে বিভিন্ন এইচডিএফসি মিউচুয়াল ফান্ড স্কিমের মাধ্যমে ওই টাকা বিনিয়োগ ও পুনঃবিনিয়োগ করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি জানিয়েছে, এই ইউনিটগুলির মূল্য বেড়ে মূল 1 কোটি টাকা থেকে বর্তমানে 3.31 কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে ৷ এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত বেআইনি টাকার বর্ধিত অংশ। এর আগে, ইডি বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালতে একটি 'প্রসিকিউশন কমপ্লেন' বা অভিযোগপত্রও দাখিল করেছিল।

