বুধের পর বৃহস্পতিতেও তল্লাশি ইডির, কলকাতা-হাওড়ার 11 জায়গায় চলছে অভিযান
ব্যাঙ্ক জালিয়াতি-আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তল্লাশি চলছে জায়গায় জায়গায় ৷ বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই আর্থিক লেনদেন কোথায়-কোথায় হয়েছিল, তা জানতে চলছে ইডির অভিযান ৷

Published : September 3, 2026 at 12:29 PM IST
কলকাতা, 3 সেপ্টেম্বর: জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা ও হাওড়ার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়া মিলিয়ে অন্তত 11টি জায়গায় একসঙ্গে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে হাওড়ার বালির কেম্প কুমার স্ট্রিটের একটি আবাসনও। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্রপাত। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডে 66 মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য একটি সংস্থা প্রায় 290 কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। কিন্তু সেই বিপুল অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্পের কাজে ব্যবহার না-করে বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে ওই বিপুল টাকার লেনদেন ঘিরেই অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।
কোন কোন সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা সরানো হয়েছিল, সেই টাকা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং ওই লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, ঋণের টাকা প্রকল্পের কাজে ব্যবহার না-করে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি একাধিক সংস্থা ও ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই আজ কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
বালির ফ্ল্যাটেও তল্লাশি- এদিনের অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল হাওড়ার বালির কেম্প কুমার স্ট্রিটের একটি আবাসন। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন ইডির আধিকারিকরা। ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তল্লাশির সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কাগজপত্র, ডিজিটাল ডিভাইস বা অন্য কোনও তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, শুধু বালিই নয়, কলকাতা ও হাওড়ার আরও একাধিক ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। মোট 11টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির পরিচালক ও আধিকারিকদের গতিবিধি, তাঁদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক লেনদেন এবং বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে অর্থের আদানপ্রদান। ঋণের টাকা কীভাবে একাধিক অ্যাকাউন্টে ঘুরেছে, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পিত আর্থিক কারচুপি হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কয়েকজন ডিরেক্টর ও আধিকারিকের গতিবিধি এবং তাঁদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাড়ি ও বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকল্পের টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ, তদন্তের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, 66 মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির জন্য নেওয়া প্রায় 290 কোটি টাকার ঋণের কতটা প্রকল্পে খরচ হয়েছিল এবং কতটা অন্যত্র সরানো হয়েছিল।
যদি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ঋণের টাকা অন্য কোম্পানির অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে স্থানান্তর করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে । ইডি সূত্রে খবর, বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকার লেনদেনের বিষয়টি খোঁজা হচ্ছে। কোথা থেকে টাকা এসেছিল, কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, সেই পুরো আর্থিক লেনদেনের দিকটি খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
এদিনের তল্লাশি অভিযানের মাধ্যমে মূলত নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করাই তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পরই এই মামলায় আর কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে ৷

