ETV Bharat / state

আরও বিপাকে দেবরাজ; আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি, বেআইনি অর্থের উৎস খুঁজতে FIR ইডির

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজরে এবার রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ইডি।

ex-TMC councillor Debraj Chakraborty
আরও বিপাকে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 2, 2026 at 11:01 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 2 জুলাই: রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এবার নতুন করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নজরে এলেন রাজারহাট-নিউটাউন এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। আয়ের বহির্ভূত সম্পত্তি, বিপুল অর্থের উৎস এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলার মাধ্যমে দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।

ইডি সূত্রে খবর, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রস্তুতি অনেক দিন ধরেই চলছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তকারীদের নজরে ছিল তাঁর বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ এবং সেই সম্পদের উৎস। প্রশ্ন উঠেছিল, একজন কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করে কীভাবে তিনি এত বড় অঙ্কের সম্পত্তির মালিক হলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাঁর ঘোষিত আয় ও সম্পত্তির সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের প্রকৃত সম্পত্তির তুলনায় অনেক কম সম্পত্তির উল্লেখ করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করেই ইডি এখন অর্থপাচার এবং আয়ের বহির্ভূত সম্পত্তির দিকটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনও জানাতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর প্রভাব শুধুমাত্র রাজারহাট-গোপালপুর বা নিউটাউন এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তদন্তকারীদের দাবি, 2011 সালের পর তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলে গুরুত্ব পেতে শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক কাজে তাঁকে বিশেষ দায়িত্বে দেখা যেত বলে তদন্তকারীদের হাতে তথ্য এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু রাজারহাট-নিউটাউন নয়, উত্তর 24 পরগনার একাধিক এলাকা, এমনকি বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের দেখভাল এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও দেবরাজ চক্রবর্তীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই তাঁর আর্থিক লেনদেনের পরিধি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইডির তদন্তকারীরা মনে করছেন, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধুমাত্র আয়ের বহির্ভূত সম্পত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এলাকায় তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। ফলে এই অভিযোগগুলির সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেন বা অর্থপাচারের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

তদন্তে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ইডি। দেবরাজ চক্রবর্তীর মাধ্যমে কার কার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছত, তাঁর মাথার উপর কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয় ছিল কি না, এবং যে অর্থ বিভিন্ন স্তরে বণ্টন হতো বলে অভিযোগ, সেই অর্থের প্রকৃত উৎস কী— এই সমস্ত বিষয়ই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

ইডি সূত্রের দাবি, এই এফআইআর দায়েরের মাধ্যমে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তির দলিল এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি ও সংস্থাগুলিকেও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের ইঙ্গিত।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনে বর্ণিত অভিযোগগুলি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

  1. অদিতি মুন্সীর স্বামী বিধাননগরের প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ গ্রেফতার
  2. অদিতির আগাম জামিন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট, গ্রেফতারির আশঙ্কা দেবরাজের