SIR শুনানিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের
বিএলও অ্যাপে নতুন দু’টো অপশন যোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে৷

Published : January 9, 2026 at 7:59 PM IST
কলকাতা, 9 জানুয়ারি: পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পোর্টাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই পোর্টালে আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক থাকা ফোন নম্বর দিয়ে লগ ইন করে ই-সাইন করে সব ডকুমেন্ট জমা দিতে পারবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তবে এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা ভেবে করা হয়নি৷ সারা দেশের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR)-এর কাজে এই পোর্টাল ব্যবহৃত হবে।
এছাড়াও শুনানিতে আসা নিয়ে কিছু ভোটারকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ এই নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে সরকারি কর্মী, পিএসইউ, ব্যাংক-এর কর্মচারী যাঁরা কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন এবং সেনা ও আধাসেনায় ভিনরাজ্যে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের শুনানিতে আসা বাধ্যতামূলক নয়। শুনানি পরিবারের সদস্যরা যথাযোগ্য কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে ই-সাইনকে মান্যতা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলার বাইরে যাঁরা পড়তে গিয়েছেন এবং কাজের জন্য যাঁরা বাইরে রয়েছেন বা চিকিৎসার জন্য রাজ্যে বাইরে গিয়েছেন, তাঁদেরও শুনানিতে আসতে হবে না। এই ক্ষেত্রে ফুলপ্রুফ ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র পরিবারের সদস্যরাই জমা দিতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, এর পরও এই ক্যাটাগরির ভোটারদের শুনানি কেন্দ্রে যদি কোনও বিএলও বাধ্য করেন, তাহলে সেই বুথ লেভেল অফিসারের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন।

অন্যদিকে এদিন আবারও বিএলও অ্যাপে যুক্ত করা হয়েছে আরও দু’টি নতুন অপশন। এই বিষয়ে ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহ থেকে 94 লক্ষ ভোটারের শুনানি শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছেন প্রজেনি লিংকিংয়ে সমস্যা এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় থাকা ভোটাররা৷ তার আগেই বিএলও অ্যাপে আবার যুক্ত করা হয়েছে নতুন দু’টি অপশন। একটি হচ্ছে কোয়ালিটি চেক অফ ইলেক্টরস ফটো আর একটি হল ডিসক্রিপেন্সি ম্যাপিং। অর্থাৎ ভোটারের ছবি ঠিকঠাক দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা কোনও ভোটারের ছবি বাদ গিয়েছে কি না, সেগুলোকে আবার দেখে পুনরায় আপলোড করতে হবে এবং ম্যাপিং-এর ক্ষেত্রে কোথাও কোনও সমস্যা বা ভুল হয়েছে কি না, সেটাও বিএলও-দের খতিয়ে দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘শুনানি পর্ব যখন একেবারে শেষের দিকে এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি 94 লক্ষ মানুষের যে শুনানি শুরু হবে, ঠিক তার আগে নতুন সব অপশন যুক্ত করা হচ্ছে। তাহলে কি নির্বাচন কমিশন কোনোরকম চিন্তাভাবনা না-করেই এই কাজে নেমে গিয়েছিল? কারণ, এখনও পর্যন্ত 13 থেকে 14 বার বিএলও অ্যাপে নতুন নতুন অপশন যুক্ত করা হচ্ছে। এই যে নতুন সব অপশন যুক্ত করা হচ্ছে, এই নিয়ে কিন্তু বিএলও-দের কোনোরকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। এইভাবে বিএলও-রা বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের ওপর নতুন করে কাজের বোঝা চাপছে।’’

