জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী ! ভোট বয়কটের ডাক আসানসোলে
জেলা সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরই মধ্যে আসানসোলের একটি গ্রামে ভোট বয়কটের ডাক দিলেন স্থানীয়রা ৷

Published : December 29, 2025 at 6:27 PM IST
|Updated : December 29, 2025 at 9:50 PM IST
আসানসোল, 29 ডিসেম্বর: 'জল নাই, ভোট নাই।' আসানসোল পুরনিগমের 58 নম্বর ওয়ার্ডে এমনই দাবি উঠল। গত তিন মাস ধরে বাসিন্দারা নিয়মিত পানীয় জল পাচ্ছেন বলে দাবি। আর তাই বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরের আগে আসানসোলের জগতডিহি গ্রামে বাসিন্দারা দাবি তুললেন, যদি জলের স্থায়ী সমাধান না-হয় তাহলে ভোট বয়কট করবেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে আসানসোল পুরনিগমের ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় নোনিয়াকে ফোন করা হলে তিনি ইটিভি ভারতকে বলেন "আমি ইতিমধ্যেই পুরনিগমে জল নিয়ে এলাকার মানুষের সমস্যার কথা বিস্তারিত জানিয়েছি। স্থায়ী সমাধান করার চেষ্টা চলছে।" তিনি জানান, কীভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷
সোমবার শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফর। প্রথমে ঠিক ছিল কলকাতা থেকে রওনা হয়ে দুর্গাপুরে এসে রাত্রিনিবাস করবেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ায় একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে কলকাতা থেকে সরাসরি বাঁকুড়ায় চলে যান মমতা ৷
এদিকে তাঁর আগে আসানসোলের একটি গ্রামে উঠল ভোট বয়কটের স্লোগান। আসানসোল পুরনিগমের 58 নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত জগতডিহি গ্রামে বাসিন্দারা পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন ৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত তিন মাস ধরে অনিয়মিত জল পাচ্ছেন তাঁরা। একদিন জল আসছে তো, তিন দিন আসছে না। ফলে পানীয় জলটুকু তাঁরা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতেই বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ৷

তাঁদের আরও দাবি, বাড়ির অন্যান্য কাজকর্মের জন্য এবং পানীয় জলের জোগাড় করতে দেড় থেকে দু'কিলোমিটার দূরে অন্য ওয়ার্ড থেকে জল নিয়ে আসতে হচ্ছে। এনিয়ে, স্থানীয় বাসিন্দা আন্না মাজি বলেন, "আমরা তিন বছর আগে পুরনিগমের হাউস কানেকশন নেওয়ার জন্য 3 হাজার টাকা করে পুরনিগমে জমা দিয়েছি। কিন্তু তারপরও আমরা জলের কানেকশন পাইনি। বাধ্য হয়ে বেআইনিভাবে জলের কানেকশন করার চেষ্টা করছিলাম।" সে কথা জানতে পেরে প্রশাসনের কর্তারা গ্রামে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা ৷ প্রশাসনের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভও দেখান কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ৷
তিনি আরও বলেন, "জল-সমস্যার স্থায়ী সমাধান যদি না-হয় তাহলে আগামিদিনে ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে। সমস্ত নেতা থেকে মন্ত্রীদের আমরা হুঁশিয়ারি দিতে চাই।" অন্য আরেক বাসিন্দা সঞ্জয় দাসের কথায়, "জল না-পেলে আমরা ভোট বয়কট করব। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর তাঁদেরকে জল আনতে যেতে হয় দূরের গ্রামে। সেটা কারও পক্ষে সম্ভব হয় না। তলু বাধ্য হয়ে জলের জন্য আমাদের এতটা দূর যেতে হয় ৷ পুরনিগম জলের ট্যাঙ্কার পাঠালেও তা নিয়মিত আসে না। সেই কারণেই পানীয় জলের সমস্যা মেটে না ৷ পানীয় জল যদি না-পাই আমরা ভোট দিতে যাব না।"

