এবার পুজোয় ঢাকের শব্দে উত্তাল হতে চলেছে পার্ক স্ট্রিট, অ্যালেন পার্কে প্রথম দুর্গাপুজো
বড়দিনের উৎসব এবং পার্ক স্ট্রিট কার্নিভালের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত এই জায়গায় এবছর প্রথমবার দুর্গাপুজোর আয়োজন হতে চলেছে। বিশেষ প্রতিবেদন মনোজিৎ দাসের ৷

Published : August 30, 2026 at 10:30 AM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: বছরভর এই পাঁচটা দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকা বাঙালির কাউন্টডাউন আর সময়ের অপেক্ষা । দুর্গাপুজো আর 50 দিনও বাকি নেই ৷ এবার শহরের পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক এবার নতুন পরিচয় পেতে চলেছে । তাই পার্ক স্ট্রিট চত্বরের অ্যালেন পার্ককে কেন্দ্র করে এখন অন্য এক উন্মাদনা মানুষজনের মধ্যে। সেখানে তৈরি হচ্ছে বিরাট মণ্ডপ। হতে চলেছে প্রথমবারের জন্য দুর্গাপুজো।
এই পুজোর আয়োজন করেছে কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘ। মণ্ডপ ও মাতৃ প্রতিমার রূপ দেবেন খ্যাতনামা শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রতিবার বছর শেষে 25 ডিসেম্বর থেকে 1 জানুয়ারি অর্থাৎ বড়দিন থেকে বর্ষবিদায় কিংবা ইংরেজি নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয় এই পার্ক স্ট্রিটে ৷ সেখানে এই সময়কালে আলোর রোশনাইয়ে লোকসমাগমে এক অন্য পরিবেশ তৈরি হয়।
দুর্গাপুজোয় মানুষজন পরিবার নিয়ে আসেন, এই চত্বরে থাকা একের পর এক রেস্তোরাঁয় লাইন দেন, খাওয়া-দাওয়া করেন । কিন্তু সেই আলোকজ্জ্বল উৎসবমুখর কলকাতায় যেন এই পার্ক স্ট্রিট কিছু খামতি থেকে যায়। এবার সেই খামতি মেটাবে কলকাতার সনাতনী সঙ্ঘ। তারা এবার পার্ক স্ট্রিট অ্যালেন পার্কে করতে চলেছে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো। বলা চলে উৎসবমুখর পার্ক স্ট্রিটে বৃত্ত পূর্ণ হবে।

সনাতনী সঙ্ঘের সম্পাদক সুব্রত দাস বলেন, "পুজো এলে এখানকার মানুষজন সব টিকিট কেটে বাইরে চলে যেতেন। এবার তাঁরা এই পুজোতেই অংশ নেবেন অর্থাৎ কলকাতাতেই থাকবেন। এতদিন বাঙালির শ্রেষ্ঠ দুর্গাপুজোর উৎসবে এই এলাকায় ভাটা পড়েছিল, তবে এবার তা মিটবে। বিরাট করে দুর্গাপুজো হবে ৷ এলাকার মানুষজন এই পুজোয় যুক্ত হবেন, হইহুল্লোড় করে কাটাবেন প্রতিটা দিন।"

ফুল প্যাকেজে এবার অ্যালেন পার্কের পুজো
- ঠাকুর দেখা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া পার্ক স্ট্রিটের আলোক উজ্জ্বল রাস্তায় সময় কাটানোর মতো দারুণ সুযোগ
- শুধু প্রথম বছর পুজো নয়, ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিন আছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান
- পুজোর আবহে এখানে দেখা মিলতে পারে মুম্বইয়ের নামজাদা অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শিল্পীদের
- বারাণসী থেকে আসছেন পুরোহিত
- তাঁর মন্ত্র উচ্চারণই হবে অষ্টমীর অঞ্জলি, হবে জাগরণ
- দশমীতে সিঁদুর খেলা

স্থানীয়দের বক্তব্য
- স্থানীয় রাকেশ শেনয় বলেন, "আমরা পার্ক স্ট্রিটে বড়দিন উদযাপন করতে আসি বা বছর শুরুর আনন্দে গা ভাসাই। তবে দুর্গাপুজোয় আমাদের এই জায়গায় কোনও প্রাণ থাকে না। এবছর আমরা অত্যন্ত উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছি। প্রথমবার দুর্গাপুজো হবে এখানে। একটা আলাদাই আনন্দ, একটা আলাদা উত্তেজনা যা মুখে বলে বোঝানো যাবে না।"
- আরেক স্থানীয় অরিন্দম বোস বলছেন, "পার্ক স্ট্রিটে আধুনিক কালচার দেখা যায় ৷ এবার সেখানে সনাতনের মেলবন্ধন ঘটবে। এটা একটা নতুনত্ব। তাই দুইয়ে মিলে একটা নতুন কিছু ঘটবে যা দেখার জন্য আমরা অত্যন্ত উদগ্রীব।"

শিল্পী কী বলছেন ?
শিল্পী সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছে ৷ সনাতনী সাবেকি ভাবনাকেই সম্মান জানিয়ে হবে মণ্ডপ ও মৃন্ময়ী প্রতিমার চিন্ময়ী রূপদান। আপাতত মণ্ডপের বাঁশ বাধার কাজ শুরু হয়েছে। কিছুদিন পর থেকে কাজ এগোবে।"

