ETV Bharat / state

দেশ জুড়ে চলছে হোলি উৎসব, কিন্তু বর্ধমানে দোল ! কেন এই নিয়ম

বর্ধমান শহরে একদিন পর পালিত হয় দোল উৎসব ৷ এর পিছনে রয়েছে 300 বছর পুরনো ইতিহাস ৷

Dol utsav
হোলিতে দোল উৎসব পালন হচ্ছে বর্ধমানে (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : March 4, 2026 at 2:43 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

বর্ধমান, 4 মার্চ: দেশজুড়ে যেখানে পালিত হচ্ছে হোলি উৎসব, সেখানে বর্ধমান শহরে পালিত হচ্ছে দোল উৎসব । আর দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে সাজোসাজো রব । বর্ধমান শহরের কার্জনগেট থেকে শুরু করে টাউনহল ময়দান, কিংবা রাজনন্দিনীর মাঠ-সহ একাধিক জায়গায় দিনভর চলছে দোল উৎসব পালন । কোথাও কোথাও আবার সন্ধে নাগাদ শুরু হবে অনুষ্ঠানও । তবে কেন একদিন পরে এই দোল উৎসব ? এর পিছনে আছে বর্ধমানের মহারাজাদের ইতিহাস ।

কেন বর্ধমানে একদিন পরে দোল ?

তখন বর্ধমানের রাজা ছিলেন মহাতাবচাঁদ । রাজবাড়ির নিয়ম ছিল প্রথম দিন দোল উৎসবের দিনে রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে দেবতাদের উদ্দেশ্যে আবির নিবেদন করা হবে । যেহেতু ওই দিন দেবতাদের আবির দেওয়া হতো সারাদিন ধরে চলে রাজবাড়িতে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফলে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যেতে । তাই আর কেউ সেদিন রং খেলত না । পরের দিন রং খেলায় মেতে উঠত শহরবাসী । আজ আর বর্ধমানে রাজা নেই । কিন্তু তাদের সম্মান জানিয়ে প্রায় 300 বছর ধরে সেই নিয়ম আজও পালন করে আসছে শহরবাসী । ফলে সারা দেশ যখন হোলি উৎসবে মেতে ওঠে, তখন বর্ধমান শহর মেতে ওঠে দোল উৎসবে ।

Dol utsav
বর্ধমানের দোল উৎসব (নিজস্ব ছবি)

বর্ধমান শহরে দোল উৎসব

আর এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে হাজারো দোকানে সেজে উঠেছে বর্ধমান শহরে । রং বেরঙের আবির আর রঙিন আলোর ঝলকানিতে দোল উৎসরের আগে থেকে শহর একটা অন্য রূপ পেয়েছে । শহরের বর্ধমান স্টেশন সংলগ্ন স্টেশন বাজার, চৌধুরী বাজার, মেহেদী বাগান, বিসি রোড, কার্জনগেট চত্বর কিংবা বিবেকানন্দ কলেজ মোড়-সহ বিভিন্ন জায়গায় দেদার বিক্রি হচ্ছে রং বেরঙের আবির, রঙিন পিচকিরি, বিভিন্ন ডিজাইনের মুখোশ, পরচুলা, ভূত রাক্ষস ছোটা ভীম, স্পাইডার ম্যান-সহ আরও কত কী মুখোশ ।

Dol utsav
রঙিন পিচকিরিরও ভালো বাজার আছে (নিজস্ব ছবি)

রাজ পুরোহিতের বক্তব্য

বর্ধমান রাজবাড়ির প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র । তিনি বলেন, "তখন বর্ধমানের মহারাজা ছিলেন মহাতাবচাঁদ । রাজবাড়ির কুল দেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ । এই লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে প্রথম দিনে অর্থাৎ দোলের দিন দেবতাদের উদ্দেশ্যে আবির নিবেদন করা হতো । আর যেহেতু সেদিন দেবতারা আবির মাখেন তাই আর রাজবাড়ির কেউ সেদিন রং খেলতেন না । সকলে রং খেলতেন পরের দিন । সেই নিয়মকে আজও বর্ধমানবাসী অনুসরণ করে আসছেন । ফলে বর্ধমানে দোল হয় একদিন পরে ।"

Dol utsav
বিভিন্ন ডিজাইনের মুখোশ, পরচুলা, বিক্রি হচ্ছে (নিজস্ব ছবি)

ইতিহাসবিদের দাবি

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা ইতিহাসবিদ ড. সর্বজিৎ যশ বলেন, "1830 সালে বর্ধমানের রাজা ছিলেন মহাতাবচাঁদ । রাজবাড়ির কুলদেবতা প্রতিষ্ঠিত আছে রাজবাড়ি সংলগ্ন বড়বাজার এলাকায় লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে । সেখানে রাধাকৃষ্ণ ছাড়াও অনেক দেবদেবীর মন্দির আছেন । দোল উৎসবের দিনে রাজবাড়ির সকলে দেবতাদের উদ্দেশ্যে আবির নিবেদন করতেন । চলতো সারাদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । আর যেহেতু ওইদিন দেবতাদের চরণে আবির দেওয়া হয় তাই কেউ পরস্পর পরস্পরকে আবিরে রাঙায় না । অপেক্ষা করে পরের দিন সকালের জন্য । বর্ধমানের রাজাদের সম্মান জানিয়ে আজও সেই নিয়ম পালন করে একদিন পরে দোল উৎসবে মেতে ওঠে বর্ধমানবাসী ।"

Dol utsav
দেদার বিক্রি হচ্ছে রং বেরঙের আবির (নিজস্ব ছবি)