ETV Bharat / state

শেষ সময়সীমা ! কলকাতার কিছু এলাকায় এখনও বাকি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক করল সিইও অফিস ৷ ভোটারদের ফর্ম পূরণে সাবধানতা অবলম্বন করতেও বলা হয়েছে ৷

SIR
কলকাতার কিছু এলাকায় এখনো বাকি এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 18, 2025 at 1:21 PM IST

6 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 18 নভেম্বর: গত সপ্তাহের মধ্যে এনুমারেশন বা গণনা ফর্ম বিতরণের কাজ শেষ করার সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ৷ তবুও কলকাতা-সহ রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় এখনও বাকি রয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজ । এমনটাই জানিয়েছে সিইও অফিস ৷

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের তরফে প্রথমে বলা হয়েছিল, গত 10 থেকে 11 নভেম্বরের মধ্যে সারা রাজ্যে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণের কাজ শেষ করতে হবে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও'দের । তবে যেহেতু এত সংখ্যক ফর্ম প্রিন্টিংয়ে বেশ কিছুটা সময় লেগে গিয়েছিল, তাই প্রথম দিকে বিতরণের কাজ তেমন একটা গতি পায়নি । এছাড়াও বিএলও'রাও জানিয়েছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এত ফর্ম বিতরণের কাজের ফলে তাঁদের উপর অত্যাধিক চাপ পড়ছে ৷ তাই সব দিকে বিবেচনা করেই গত সপ্তাহান্তে ফর্ম বিতরণের কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সিইও দফতরের তরফে ।

বিএলও ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক

তবে দেখা যাচ্ছে, শহরের একাধিক এলাকায় বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতা বিভিন্ন জায়গায় এখনও বিএলও'রা ফর্ম বিতরণ করেননি । যদিও অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে জমা করার সুযোগ রয়েছে ৷ তবুও অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পরেও বিএলও'কে তার ভেরিফিকেশন করতে হবে ৷ এর জন্য সেই অনলাইনে জমা পড়া ফর্মের ভোটারের বাড়িতেও যেতে হবে বিএলও'কে ।

এনুমারেশন ফর্ম বিলি বাকি

যদিও দেখা যাচ্ছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বেশ কিছু জায়গার মতো কলকাতারও কয়েকটি এলাকায় বিএলওরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম দেননি । স্বাভাবিকভাবেই বেশ চিন্তায় দিন কাটছে সেইসব এলাকার ভোটারদের । তবে এই বিষয়টি নজরে আসার পরেই তৎপর হয় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ৷ সংশ্লিষ্ট এলাকার ইআরও'দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে ৷ এলাকার সব ভোটারদের বাড়িতে যাতে বিএলওরা যান সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন সিইও ।

ফর্ম পূরণে সাহায্যে যোগাযোগ

তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা প্রয়োজন, যদি কোনও এলাকায় বিএলও ভোটারদের বাড়ি গিয়ে ফর্ম না দিয়ে থাকেন, কিংবা একজন ভোটার গণনা ফর্ম পেয়েছেন এবং কীভাবে তা পূরণ করবেন বিএলও বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছেন ৷ তা সত্ত্বেও ফর্ম পূরণের সময় কোথাও বুঝতে সমস্যা বা বিভ্রান্তি থাকলে ECINET অ্যাপের মাধ্যমে যেমন 'বুক কল উইথ বিএলও' করে তাঁর সঙ্গে কথা বলা যাবে ৷ তেমনই 1950 ও 033-2231-0850 এই দুটি টোল ফ্রি নম্বরে সকাল সাড়ে 10টা থেকে বিকেল সাড়ে 5টার মধ্যে যোগাযোগ করতে পারবেন ভোটাররা । অথবা 9830078250 এই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করতে পারেন । ceo-election-wb@nic.in নিজের নাম, বিধানসভা এলাকার নাম, পার্ট নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর লিখে ইমেইলও করতে পারবেন তাঁরা ।

SIR
এনুমারেশন ফর্ম (নিজস্ব ছবি)

বিএলও'কে সহায়তা বিএলএ-2'র

যদি বিএলএ-2-রা ফিলাপ করা এনুমারেশন ফর্ম নিয়েও আসেন, সেক্ষেত্রেও বিএলও-দেরকে সশরীরে ভোটারদের বাড়িতে যেতেই হবে । নির্বাচন কমিশনের নিয়মে রয়েছে, সহায়তা করার জন্য বিএলএ-2'রা প্রত্যেক দিন সর্বোচ্চ 50টি করে পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে এসে বিএলও-র কাছে জমা দিতে পারবেন । সেক্ষেত্রে হয়তো বিএলও-দের ভোটারদের বাড়ি যেতে হবে না ৷ তবে বিএলও-দেরকে এনুমারেশন ফর্মে সই করতে হবে এবং বিএলএ-2'রা এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে আসার সময়ে ভোটারদের দিয়ে সাদা কাগজে এই মর্মে লেখাবে যে, বিএল-2 এর সামনে ওই ভোটার ফর্ম ফিলাপ করেছেন তাঁরা এবং নির্ভুল তথ্য দিয়েছেন ।

এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যের এনুমারেশন ফর্ম বিতরণের কাজ প্রায় 99 শতাংশ হয়ে গিয়েছে । শুধু ফর্ম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কাজই নয়, বরং ইতিমধ্যেই 80 লক্ষ ফর্মের ডিজিটাইজেশনও সম্পূর্ণ । মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সোমবার বলেছেন, "28 অক্টোবর পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রায় সকল ভোটারের কাছে এসআইআর-এর অংশ হিসেবে এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে । রাজ্যের প্রতিটি ভোটারের কাছ থেকে এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ এবং ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা 26 নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে । পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ।"

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ইআরও'দের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে সহায়তা করার জন্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সহায়তা হবে এবং দক্ষতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷

SIR
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (নিজস্ব ছবি)

ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরও জানান, যেসব এলাকায় ভোটার সংখ্যা 1200-এর বেশি, সেখানে বর্ধিত কাজের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত বিএলও মোতায়েন করা হয়েছে । রাজ্য সরকারের কাছে খোলা দরপত্রের মাধ্যমে 1000 ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে ৷ কিন্তু এই নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যের অনুমোদন না মেলায় সেই কাজ এখনও বাকি রয়েছে ।

সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, "ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের পর বিএলওদের কাজের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে ৷ যার ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং আরও দক্ষতার সঙ্গে হবে ৷"

ফর্ম ফিলাপ প্রসঙ্গে সাবধানতা

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে জারি করা এক প্রেস বিবৃতিতে ভোটারদের সাবধানতার সঙ্গে ফর্মগুলি পূরণ করতে বলা হয়েছে এবং এনুমারেশন ফর্ম ফিলাপ করতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতেও বলা হয়েছে । প্রতিটি ফর্মে একটি কিউআর কোড রয়েছে এবং ফর্মে ভোটারকে পূর্ণ স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপও দিতে হবে ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যে কোনও ভুল তথ্য ফর্মে একটি লাইন দিয়ে কেটে দিতে হবে ৷ একই সারিতে দেওয়া ফাঁকা জায়গায় সংশোধন করে ফের লিখে দিতে হবে । পরিযায়ী শ্রমিক বা অন্যরা স্বাক্ষর করতে অক্ষম হলে একই পরিবারের অন্য একজন যার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তিনি তাদের পক্ষে স্বাক্ষর করতে পারবেন ৷ তবে স্বাক্ষরকারীর পুরো নাম এবং আবেদনকারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকতে হবে ফর্মে ৷

ফর্মের দুটি কপি পূরণ করতে হবে । বিএলও স্বাক্ষরিত একটি কপি সংগ্রহ করবেন এবং দ্বিতীয় বিএলও স্বীকৃত কপিটি আবেদনকারী বা ভোটারের পরিবারের সদস্যের কাছে রাখতে হবে । আবেদনকারীর বাড়ি পরিদর্শনের সময় বিএলও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটারের ছবিও তুলে রাখবেন । এনুমারেশন ফর্মে একটি ছবি লাগানো ঐচ্ছিক ৷ বরাদ্দকৃত স্থানের সঙ্গে মানানসই যে কোনও বর্তমান ছবি ব্যবহার করা যেতে পারে ।

প্রতারণার ভয়

সিইও'র অফিস ভোটারদের সতর্ক করে বলেছে, নির্বাচন কমিশন বা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় কখনও এসআইআর বা কোনও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠাবে না । নাগরিকদের এই ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং ভোটার-সম্পর্কিত সমস্ত প্রক্রিয়ার জন্য কেবল সরকারি আধিকারিকদের উপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ।

(সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য-সহ)