পর্যটন মরশুমে পাহাড়ে তীব্র যানজটে ভোগান্তি, পড়ুয়াদের জন্য এবার বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা
পর্যটকদের ভিড়ে প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়া পাহাড়ের আট কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুম-দার্জিলিং পথে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে এই বিশেষ পরিষেবা ।

Published : May 28, 2026 at 6:04 PM IST
দার্জিলিং, 28 মে: গরমের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়েছে দার্জিলিং-এ ৷ পর্যটনের মরশুমে পাহাড়ে তীব্র যানজটের মুখে পড়তে হয় স্থানীয়দের ৷ গাড়ির অভাবে চলাফেরা মুশকিল হয়ে পড়ে ৷ এই পরিস্থিতি থেকে পাহাড়ের স্কুলপড়ুয়াদের মুক্তি দিতে নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। পর্যটকদের ভিড়ে প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়া পাহাড়ের আট কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুম-দার্জিলিং পথে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে এই বিশেষ পরিষেবা ।
দার্জিলিং পাহাড়ের ঘুম হল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল, যেখানে শিলিগুড়ি, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিকের মতো জায়গা থেকে আসা সমস্ত রাস্তা এসে মিলিত হয় । বর্তমানে পর্যটন মরশুম চলায় এই আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই শিক্ষার্থীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে । দিনের পর দিন দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না, আবার ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার জন্য ট্যাক্সির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ।

স্থানীয় অভিভাবক বিমলা রাই বলেন, "সকালে কোনওমতে গাড়ি পাওয়া গেলেও, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার লড়াইটা অসহ্য হয়ে ওঠে । পর্যটকদের ভিড়ে ট্যাক্সিগুলো সব বুকড থাকে, ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় পায়ে হেঁটেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় ।"
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও জিটিএ'র অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য সকাল ও বিকেলে বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে । ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, "প্রশাসন আমাদের কাছে অনুরোধ করেছে যাতে পড়ুয়াদের জন্য যদি কোনও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় । আমরা আলোচনা করে বিশেষ পরিষেবার কথা চিন্তা করেছি । আগামী সপ্তাহ থেকে বিশেষ পরিষেবা চালু করা হবে । তবে এখনই ভাড়ার কথা কিছু ঠিক করা হয়নি । সেটা দ্রুত নির্ধারণ করা হবে ।"

জানা গিয়েছে, ভোর 6:15 মিনিটে ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে ট্রেন যাত্রা করবে । আবার বিকেল 5:30 মিনিটে দার্জিলিং থেকে ঘুম ফেরার জন্য ট্রেন ছাড়বে । সেই ট্রেনেই পড়ুয়াদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে । পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে এই পরিষেবা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে প্রদান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । আগামী সপ্তাহ থেকেই এই পরিষেবা শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে ।

পাহাড়ের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছিলেন, পর্যটকদের জন্য 'জয় রাইড' পরিষেবা সাময়িকভাবে কমিয়ে সেই পথে স্কুলের জন্য ট্রেন চালু করা হোক । তবে ডিএইচআর পরিচালক ঋষভ চৌধুরী এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন । তিনি জানান, 'জয় রাইড' পরিষেবা ডিএইচআর-এর রাজস্বের প্রধান উৎস । 1999 সালে ইউনেস্কো কর্তৃক 'বিশ্ব ঐতিহ্য' (World Heritage) শিরোপা পাওয়া এই রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পর্যটক টানার প্রয়োজন অনস্বীকার্য ।

তিনি আরও জানান, "2025-26 অর্থবছরে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে 2,15,432 জন । তার আগে 2024-25 সালে ছিল 1,83,003 জন এবং আয় 22.12 কোটি থেকে বেড়ে 25.37 কোটি টাকায় পৌঁছেছে । জয় রাইড বা ডিএইচআর-এর ঐতিহ্যগত কাঠামোর সঙ্গে কোনও প্রকার আপোস করা হলে ইউনেস্কোর হেরিটেজ শিরোপা পুনরায় পর্যালোচনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে । যা পাহাড়ের অর্থনীতির জন্য সুখকর হবে না ।"
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে এর আগে লেবং এবং দাওয়াইপানির ওপর দিয়ে বিকল্প সড়কের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বহু বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সেই প্রকল্প বাস্তব রূপ পায়নি । দার্জিলিং ও তিস্তার সংযোগস্থলে লেবং থেকে তৃতীয় মাইল পর্যন্ত নতুন রাস্তা তৈরির পরিকল্পনাও এখনও বিশবাঁও জলে রয়েছে ।
এমন প্রেক্ষাপটে, পাহাড়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে এই নতুন ট্রেন পরিষেবা একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে । পাহাড়ের দৈনন্দিন জনজীবন সচল রাখতে ডিএইচআর-এর এই উদ্যোগ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয় ।

