দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডে জুড়ল বাংলার নাম, মুর্শিদাবাদে অভিযান NIA ও গুজরাত এটিএসের
দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডের তদন্তে বুধবার মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে হানা দেয় এনআইএ ও গুজরাত এটিএস৷ সেখানে মইনুল হাসানের বাড়িতে চলে অভিযান৷

Published : November 12, 2025 at 9:09 PM IST
কলকাতা, 12 নভেম্বর: দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ-কাণ্ডে এবার জড়িয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের নামও৷ এই ঘটনার তদন্তে এবার বাংলায় হানা দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) ও গুজরাত এটিএস (অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড)৷ সূত্র মারফত এই খবর পাওয়া গিয়েছে৷
ওই সূত্র জানিয়েছে যে বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে অভিযান চালায় এনআইএ ও গুজরাত এটিএস৷ সেখানকার নিমগ্রামে অভিযান চালানো হয়৷ সেখানে মইনুল হাসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আচমকাই হানা দেয় এনআইএ-এর একটি দল। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়৷ তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়৷ তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়৷
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নামে সত্যি এক ব্যক্তি সেখানে থাকেন এবং সেই মইনুল পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের জন্য তিনি কখনও দিল্লি, কখনও মুম্বই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের সূত্রে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সময় কিছু জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তা কীভাবে হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে আসেনি।
এনআইএ সূত্রের খবর, মইনুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। আর তাদের খোঁজেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ধারণা, দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মুর্শিদাবাদের একাধিক ব্যক্তির সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে সবদিক খতিয়ে দেখছে এনআইএ-ও বাইরের রাজ্যের পুলিশ।
উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলাতেই অতীতে একাধিকবার জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের প্রমাণ মিলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আনসারুল্লা বাংলা টিম (ABT)-এর কয়েকজন সদস্যকে এখান থেকেই গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। পরে অসম-সহ আরও কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের ডেরার খোঁজ মেলে, উদ্ধার হয় প্রচুর অস্ত্রও।
তদন্তকারীদের দাবি, এবারও সেই জঙ্গি চক্রের সঙ্গেই কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে 15 জনকে আটক করা হয়েছে এবং চার চিকিৎসকের নামও উঠে এসেছে, যাদের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা।
সূত্রের খবর, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের থেকে একাধিক সামগ্রী পাওয়ার পর সেই সূত্র ধরে এই ঘটনার সঙ্গে মুর্শিদাবাদের যোগ পাওয়া যায়৷ জানা গিয়েছে, নিজেদের জঙ্গি মডিউল আরও সক্রিয় করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে একাধিক বাংলাদেশিকে এদেশ তথা এরাজ্যে ভুয়ো আইডি বানিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ভুয়ো আইডি তৈরি কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷

