'মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে' বারুইপুরে কাকলি-ঋতব্রতরা, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা সায়নীর
ঘটনাস্থলে যেতেই পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বচসা হয় ৷ পরে একা সায়নী ঘোষকে একা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

Published : July 7, 2026 at 1:49 PM IST
বারুইপুর, 7 জুলাই: প্রায় 72 ঘণ্টা পর বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় সরব হল 'ঋতব্রত তৃণমূল' ৷ সঙ্গী তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজন সাংসদও ৷ মঙ্গলবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ৷ ছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যরা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসেছেন বলে সাফ জানালেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ৷
তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বচসা শুরু হয়ে যায়। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ায় শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয় পুলিশ। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ৷ পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন সায়নী।
পরে তিনি বলেন, "আমি পরিবারের সকলের সঙ্গে দেখা করেছি ৷ কথা বলেছি। যখন কেউ প্রাণ হারান বা কোনও শিশুর মৃত্যু হয়, তখন সেই বেদনা আমরাও অনুভব করি। আমরা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এটাই প্রত্যাশা করি—সত্যনিষ্ঠ এবং যথাযথ তদন্ত করা হোক। যারা দোষী, তাদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।"
সায়নী আরও বলেন, "আপনারা জানেন যে, মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে ৷ শেষ দেখে ছাড়বে সরকার। যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এতে দু-তিন বা চারজন ব্যক্তি জড়িত, কিন্তু আসলে এটি একটি বিশাল চক্র। ভবিষ্যতে আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মাত্র দু'মাস আগে একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কোনও দলই এমনটা চায় না ৷ বিজেপি, তৃণমূল বা কংগ্রেস—কোনও দলের মুখ্যমন্ত্রীই ধর্ষণ বা এমন ঘটনা চান না। কিন্তু এমন কোনও ঘটনা ঘটলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ৷ তাই আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর উচিত বিষয়টি সঠিকভাবে পরিচালনা করা ৷ এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সকলের কঠোরতম শাস্তি, এমনকী মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা।"
যদিও প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যদের কাউকেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ ৷ বাকি সদস্যরা বাইরেই অপেক্ষা করেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীই তাঁদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, "এমন নৃশংস অপরাধের ঘটনায় রাজ্য সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।"
তিনি আরও জানান, এই কঠিন সময়ে শোকাহত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায় এবং তদন্ত দ্রুত শেষ হয়, সেই বিষয়েও সরকার নজর রাখছে বলে জানান তিনি। কাকলির কথায়, "এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি ৷ যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি করছি ৷ এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে চাই আমরা। এটা আমারও লড়াই।"
উল্লেখ্য, বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজাও অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীদলগুলিও ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার তৃণমূলের এই প্রতিনিধিদলের সফর রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে গোটা ঘটনায় তদন্ত জোরকদমে চলছে। প্রশাসনের দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

