ETV Bharat / state

শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সুকনায় ‘টয়ট্রেন ডে’ সেলিব্রেশন, হেরিটেজ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিল ডিএইচআর

নর্থ বেঙ্গল পেইন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে শিল্পকলা ও নান্দনিক সংস্কৃতির মাধ্যমে টয়ট্রেনের দেড় শতক ছুঁইছুঁই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।

Toy Train Day Celebration
দ্বিতীয় টয়ট্রেন ডে সেলিব্রেশন (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2026 at 6:43 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

শিলিগুড়ি, 4 জুলাই: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসকে স্মরণ করে শিলিগুড়ির সুকনা রেলস্টেশনে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো 145তম ‘টয়ট্রেন ডে’। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে শনিবার সুকনা স্টেশনে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রেলপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ।

নর্থ বেঙ্গল পেইন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে শিল্পকলা ও নান্দনিক সংস্কৃতির মাধ্যমে টয়ট্রেনের দেড় শতক ছুঁইছুঁই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বর্ণাঢ্য উৎসবে অন্যতম আকর্ষণ ছিল খুদে ও তরুণ শিল্পীদের নিয়ে একটি ‘বসো ও আঁকো’ প্রতিযোগিতা, বিশিষ্ট শিল্পীদের লাইভ আর্ট সেশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ক্যানভাসে রঙের ছোঁয়ায় ও সুরের মূর্ছনায় শিল্পীরা দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরেন। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে এই টয়ট্রেনটি দার্জিলিং পাহাড়ের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত।

সুকনায় ‘টয়ট্রেন ডে’ সেলিব্রেশন (ইটিভি ভারত)

এই দ্বিতীয় বর্ষের ‘টয় ট্রেন ডে’ উদযাপন কমিটির সভাপতি সঞ্জয় দে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত প্রতিযোগী, সাধারণ মানুষ এবং সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন যে, "এই ধরনের কর্মসূচি আমাদের সমৃদ্ধ রেল ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" 1879 থেকে 1881 সালের মধ্যে নির্মিত এই ন্যারো-গেজ রেলওয়েটি 1999 সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থলের মর্যাদা পায়, যা আজ বিশ্ব পর্যটনে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ৷

Toy Train Day Celebration
সুকনায় ‘টয়ট্রেন ডে’ সেলিব্রেশন (ইটিভি ভারত)

এই বিশেষ দিনে টয় ট্রেনের আধুনিকীকরণ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, 1881 সালের 4 জুলাই দার্জিলিং পর্যন্ত প্রথম টয়ট্রেন চলেছিল এবং সেই উপলক্ষ্যে গত দু'বছর ধরে নর্থ বেঙ্গল প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সুকনায় ‘টয়ট্রেন ডে’ পালন করা হচ্ছে ৷ পাহাড় কেটে, স্টেশন ও ট্র্যাক-সহ এই পুরো প্রজেক্টটি মাত্র 2 বছরে শেষ করা হয়েছিল ৷ এটি শুধু ট্যুরিস্ট ট্রেন নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ ট্রেন। তিনি আরও জানান, মে 2026-এ দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে 3 কোটি 95 লক্ষ টাকা আয় করেছিল এবং জুন 2026-এ সেই রেকর্ড ভেঙে 3 কোটি 98 লক্ষ টাকার আয় হয়েছে ৷ যা প্রমাণ করে এই ট্রেনের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে ৷

Toy Train Day Celebration
হেরিটেজ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিল ডিএইচআর (ইটিভি ভারত)

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ডিরেক্টর জানান, আগামী দিনে নতুন ট্রেন ও উন্নত সুবিধা আনা হবে ৷ ইতিমধ্যেই বহরে 3টি নতুন ডিজেল লোকোমোটিভ এসেছে ৷ পাশাপাশি, স্টিম ইঞ্জিনের ওভারহলিং বা সার্ভিসিং বছরে দু'বারের জায়গায় এখন তিন বার করা হচ্ছে, যাতে আরও বেশি ট্রেন চালানো যায়। ট্রেনের ধারণক্ষমতা ও যান্ত্রিক পারদর্শিতা বাড়ানোর জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ৷

Toy Train Day Celebration
সুকনা স্টেশনে শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠল টয়ট্রেন (ইটিভি ভারত)

পাশাপাশি পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত হেরিটেজ স্টেশন এবং রেলওয়ে বিল্ডিংগুলোকে তাদের আগের মূল রূপে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এর জন্য আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তালিকাভুক্ত আর্কিটেক্টদের দিয়ে একটি ডিটেইল্ড প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। বর্ষাকালে রেললাইন সচল রাখা ও ধস নামার সমস্যা স্থায়ীভাবে মেটাতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লাগাতার আলোচনা চলছে ৷ যেহেতু সড়ক ও রেললাইন পাশাপাশি চলে, তাই দুই পক্ষ মিলে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে ৷ সময় 2 থেকে 4 বছর লাগলেও এমন স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এই রুটে আর কখনও ধস বা ল্যান্ডস্লিপের সমস্যা না-হয়।

Toy Train Day Celebration
‘বসো ও আঁকো’ প্রতিযোগিতা (ইটিভি ভারত)