দার্জিলিং টয়ট্রেন জয়রাইডে সুখবর, বাড়ছে সান্ধ্যকালীন পরিষেবা ও যাত্রী আসন
দার্জিলিং-ঘুম রুটে দু'টি নতুন সান্ধ্যকালীন বা ইভনিং জয়রাইড পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা ডিএইচআর-এর ৷ ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি শুভদীপ রায় নন্দীর বিশেষ প্রতিবেদন ৷

Published : June 17, 2026 at 2:47 PM IST
দার্জিলিং, 17 জুন: শৈলরানির সৌন্দর্যে অনেকাংশ জুড়ে রয়েছে টয়ট্রেন ৷ ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পেয়েছে 145 বছরের দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ৷ পাহাড়ের বাঁকে ‘কু ঝিক ঝিক’ আওয়াজ তুলে মন্থর গতিতে এগিয়ে যাওয়া এই 'খেলনা গাড়ি' পর্যটকদের কাছে এক নস্টালজিয়া ৷
ভরা পর্যটনের মরশুমে পর্যটকদের অত্যধিক চাপ এবং টিকিটের চাহিদা মাথায় রেখে দার্জিলিং হিমালয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ৷ ডিএইচআর এবার দার্জিলিং-ঘুম রুটে দু'টি নতুন সান্ধ্যকালীন বা ইভনিং জয়রাইড পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছে ৷ পাশাপাশি, প্রতিদিন যাত্রী বহনের ক্ষমতাও 150টি আসন বাড়ানো হয়েছে ৷

1870 সালে ব্রিটিশ আমলে প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে টয়ট্রেন চালানো হয় ৷ শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের পাহাড়কে টয়ট্রেনের মাধ্যমে যুক্ত করার জন্য ওই উদ্যোগের 9 বছর পর অর্থাৎ 1879 সালে বাণিজ্যিকভাবে চালানোর জন্য কাজ শুরু হয় ৷ এরও দু’বছর পর অর্থাৎ 1881 সালের 4 জুলাই, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিঙের উদ্দেশে গড়িয়েছিল প্রথম টয়ট্রেনের চাকা ৷
বর্তমানে পাহাড়ের কোলে পর্যটকদের জন্য প্রতিদিন 13টি জয়রাইড চলাচল করে। এই জনপ্রিয় ট্রেনযাত্রার জন্য বর্তমানে স্টিম ইঞ্জিনের জয়রাইডের ভাড়া ধার্য করা হয়েছে 1310 টাকা এবং ডিজেল চালিত জয়রাইডের ভাড়া 800 টাকা ৷ ডিএইচআর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরীর জানিয়েছেন, আগামী 21 জুনের পর থেকে এই নতুন সান্ধ্যকালীন পরিষেবাগুলো চালু হতে পারে ৷ কারণ সেই সময় দিনের আলো দীর্ঘ থাকায় ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। প্রস্তাবিত নতুন সান্ধ্যকালীন জয়রাইডগুলো সন্ধ্যা 5:45 নাগাদ যাত্রা শুরু করবে এবং সন্ধ্যা 7টার মধ্যে ফিরে আসবে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন (স্টিম) এবং ডিজেল লোকোমোটিভ—উভয় মাধ্যমেই এই ট্রেনগুলো চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে ৷

পর্যটকদের চাহিদার কথা তুলে ধরে ঋষভ চৌধুরী জানান যে, জয়রাইডগুলোর জন্য পর্যটকদের মধ্যে বিপুল চাহিদা রয়েছে এবং অনেক পর্যটকই টিকিট না-পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন, যা কর্তৃপক্ষ হতে দিতে চায় না। তিনি আরও জানান, চলতি বছর পর্যটকদের চাহিদা সমস্ত প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়েছে, যেখানে বহু পর্যটক প্রায় দুই মাস আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখছেন, অথচ অনেকে এখনও কনফার্ম টিকিটের অপেক্ষায় আছেন ৷
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলোও। হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল এই বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "ডিএইচআর-এর এই সিদ্ধান্ত দার্জিলিংয়ের পর্যটন মানচিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। সন্ধ্যায় জয়রাইড পর্যটকদের কাছে বাড়তি পাওনা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে পর্যটনের প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উন্নত হবে।"

শুধুমাত্র নতুন পরিষেবা চালু করাই নয়, যাত্রী চাপ সামলাতে বিদ্যমান পরিষেবার সক্ষমতাও বাড়িয়েছে ডিএইচআর। অধিকর্তা জানান, প্রতিদিন আরও 150 জন অতিরিক্ত যাত্রী যাতে ভ্রমণ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৷ গত 1 জুন থেকে পাঁচটি ডিজেল-চালিত জয়রাইডে একটি করে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে, এর ফলে ট্রেনগুলো এখন তিনটি কোচের বদলে চারটি কোচ নিয়ে চলাচল করছে। দার্জিলিং বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে এই নতুন ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই এক স্বস্তির খবর ৷

