'আলোচনায় বসুন', রাজ্যপালের পর মুখ্যসচিবকে চিঠি ডিএ আন্দোলন মঞ্চের
সপ্তম বেতন কমিশন, এআইসিপিআই অনুযায়ী মহার্ঘ্য ভাতা-সহ একাধিক দাবিতে আলোচনার জন্য এর আগে রাজ্যপালকে চিঠি লেখা হয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ৷

Published : January 7, 2026 at 8:24 PM IST
কলকাতা, 7 জানুয়ারি: ভোটমুখী বাংলায় রাস্তায় নেমে আন্দোলনের তেজ আরও বাড়ানোর বার্তা ইতিমধ্যেই দিয়েছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা ৷ তবে ময়দানে নামার আগে সরকারের উপর লাগাতার চাপ সৃষ্টি করে চলেছে যৌথ মঞ্চ ৷ একাধিক দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যপালের পর এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ৷
চিঠিতে বলা হয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন, অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইন্ডেক্স (AICPI) অনুযায়ী মহার্ঘ্য ভাতা, নিয়মিতকরণ এবং অবিলম্বে শূন্যপদ গঠন ইত্যাদি বিষয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারা ৷ সেই সঙ্গে, রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিবকে চিঠির শুরুতেই সংগঠনের তরফে অভিনন্দনও জানানো হয় ৷
চিঠিতে 2023 সাল থেকে এআইসিপিআই অনুসারে মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান-সহ বিভিন্ন দাবি পূরণের জন্য অবস্থান বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয় । আন্দোলনকারীরা জানান, মুখ্যসচিবের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় সংগঠন ৷ চিঠিতে আলোচনার বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয় আন্দোলনকারীদের তরফে ৷ সেগুলি হল-

- কর্মচারী ও শিক্ষকরা যাতে ন্যায্য ও সংশোধিত বেতন সুবিধা পেতে পারেন, সেইজন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা।
- ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশের দ্বিতীয় অংশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা, যা এখনও বিচারাধীন এবং এর ফলে কর্মীদের মনোবল নিম্নমুখী হয়েছে ৷ ফলে, কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং জনসেবা প্রদানের মান বিরূপভাবে প্রভাবিত হয়েছে ।
- সকল যোগ্য চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ ৷ বছরের পর বছর ধরে যাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে চাকরি করছেন কিন্তু চাকরির নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক পরিষেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ।
- এআইসিপিআই অনুযায়ী মহার্ঘ্য ভাতা জমা হওয়ার তারিখ থেকে প্রদান এবং এই বিষয়ে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায় সরকার কর্তৃক গ্রহণযোগ্যতা, কেন্দ্রীয় এবং বেশিরভাগ রাজ্য-স্বীকৃত নিয়মের সঙ্গে সমতা নিশ্চিত করা ৷ পাশাপাশি, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে কর্মচারীদের সুরক্ষা প্রদান ।
- সরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় 6 লক্ষ শূন্যপদ রয়েছে ৷ সেই পদে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং সময়বদ্ধ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূরণ করা ।
এই প্রসঙ্গে যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, "এই বিষয়গুলি সরাসরি হাজার হাজার কর্মচারী, শিক্ষক এবং তাঁদের পরিবারের জীবিকা, মর্যাদা এবং মনোবলের সঙ্গে জড়িত । আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, এই বিষয়গুলি রাজ্যের ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে ৷ সেই কারণে এই বিষয়ে সহানুভূতিশীল এবং জরুরি বিবেচনার প্রয়োজন । নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের মতামত উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলে আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকব ।" তিনি আরও বলেন, "মুখ্যসচিবের কাছ থেকে এই বিষয় ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা রাখছি । তবে, না-পাওয়া গেলে আমাদের পরিকল্পনা মতোই পথে নামব ।"

