ETV Bharat / state

কল্যাণীতে বর্ধিত অধিবেশনে বসছে CPIM, হবে বিধানসভায় ব্যর্থতার চুলচেরা বিশ্লেষণ

এই অধিবেশনকে ঘিরে ঋত্বিক সদন সংলগ্ন এলাকার নাম দেওয়া হয়েছে 'সীতারাম ইয়েচুরি নগর' এবং অধিবেশনস্থলের মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মঞ্চ' ।

CPIM
মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 27, 2026 at 2:25 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 26 অগস্ট: 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে 29 ও 30 অগস্ট কল্যাণীর ঋত্বিক সদনে বর্ধিত অধিবেশনে বসছে সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি ।

30 অগস্ট অধিবেশন শেষে একটি জনসভা হওয়ার কথা । এই অধিবেশনে থাকবেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক তথা পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ সাত জন পলিটব্যুরো সদস্য এবং রাজ্য নেতৃত্বের উপস্থিত থাকবেন ।

সিপিএম সূত্রের খবর, 29-30 অগস্টের এই অধিবেশন শুধু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না । ভোটার তালিকা, সম্ভাব্য পুরভোট এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন অভিমুখ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই বামেদের আগামী দিনের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

এই অধিবেশনকে ঘিরে ঋত্বিক সদন সংলগ্ন এলাকার নাম দেওয়া হয়েছে 'সীতারাম ইয়েচুরি নগর' এবং অধিবেশনস্থলের মঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে 'বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মঞ্চ' । দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রস্তুতি, প্রচার, নির্বাচনী ফলাফল এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে পর্যালোচনা চলছে । জেলা ও বিভিন্ন গণসংগঠনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী দিনে আন্দোলন ও সাংগঠনিক কাজের অভিমুখ নির্ধারণ করা হবে বর্ধিত অধিবেশনে ।

তবে, এবারের বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও বিস্তৃত । বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা পর্বে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচার চালিয়ে আসছে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী দলগুলি । বামেদের অভিযোগ, প্রায় 27 লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে । আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে । সেই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের মতো পুরভোটেও এই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরছে বামপন্থীরা ।

বামেদের প্রশ্ন, যদি কোনও নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বা তাঁর ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক ও নাগরিক ভবিষ্যৎ কী হবে ? এই প্রশ্নকে সামনে রেখে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচার ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

এর পাশাপাশি, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক গাফিলতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সরব সিপিআই(এম)। বিভিন্ন সরকারি ক্ষেত্রে দুর্নীতি বা চুরি এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের উপর হামলা ও আক্রমণের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বাম নেতৃত্ব । তাদের অভিযোগ, একাধিক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হচ্ছে না ।

এই পরিস্থিতিতে কল্যাণীর বর্ধিত অধিবেশন সিপিআই(এম)-এর কাছে আগামী দিনের রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে । ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, সম্ভাব্য পুরনির্বাচন, প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলার মতো বিষয়গুলি আগামী দিনের আন্দোলনের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, গত রাজ্য সম্মেলনের পর দেড় বছরে সংগঠন ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে দলের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হবে । পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্দোলনের রূপরেখা, সংগঠনকে শক্তিশালী করার পদ্ধতি এবং বিভিন্ন গণসংগঠনে নেতৃত্ব ও কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে । পাশাপাশি রাজ্য কমিটিতে কয়েকজন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।