দাদাশ্বশুরের 'শয্যাসঙ্গী' হওয়ার চাপ ! নাবালিকার রহস্যমৃত্যুতে কবর থেকে দেহ তোলার নির্দেশ
প্রেম করে বিয়ে, তারপরই করুণ পরিণতি ৷ মৃত নাবালিকার মায়ের একটাই দাবি, "যারা আমার মেয়েকে খুন করেছে, তাদের প্রত্যেকের কঠোরতম শাস্তি হোক ।"

Published : June 4, 2026 at 3:56 PM IST
মালদা, 4 জুন: প্রেম করে বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করেছিলেন । সংসার করার স্বপ্ন নিয়েই স্বামীর ঘরে পা রেখেছিলেন 16 বছরের এক নাবালিকা । কিন্তু সেই স্বপ্ন যে এত দ্রুত দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি । অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিকৃত মানসিকতার শিকার হতে হয় ওই নাবালিকাকে । দাদাশ্বশুরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হত বলে অভিযোগ । শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাঁর । প্রায় দেড় মাস পরে মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে এক অভিযুক্তকে । ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার রতুয়া 1 নম্বর ব্লকে ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে বাবাকে হারান ওই নাবালিকা । ভিক্ষা করে কোনওমতে তিন সন্তানকে মানুষ করছিলেন তাঁর মা । সেই সময় প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে নাবালিকার । প্রায় 6 মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন দু'জনে । প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ ।
মৃতার মায়ের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মেয়ের উপর অমানবিক অত্যাচার শুরু হয় । শুধু তাই নয়, দাদাশ্বশুরের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্যও তাঁকে চাপ দেওয়া হত । এরই মধ্যে একদিন জামাই ফোন করে এক লক্ষ টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ । টাকা না দিলে মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি ।
গত 18 এপ্রিল হঠাৎ খবর আসে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে । ছুটে গিয়ে মেয়ের গলায় কালশিটের দাগ দেখতে পান মা । তাঁর অভিযোগ, তখনই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে ভয় দেখায় এবং পুলিশে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় । আতঙ্কে এতদিন মুখ খুলতে পারেননি তিনি ।
অবশেষে গ্রামের এক শুভানুধ্যায়ীর পরামর্শে গত 31 মে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার মা । স্বামী, দাদাশ্বশুর-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে । অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে দাদাশ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । যদিও বাকি অভিযুক্তরা পলাতক । তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে ।
তদন্তের স্বার্থে কবর থেকে নাবালিকার দেহ তুলে ময়নাতদন্তের আবেদন জানানো হয় আদালতে । প্রথমে 48 ঘণ্টার মধ্যে দেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেওয়া হলেও প্রশাসনিক কারণে পরে আগামী শনিবারের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে চাঁচল মহকুমা আদালতের পকসো বিশেষ আদালত । আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কমিটির উপস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও করা হবে ।
পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু হয়েছে । এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে । আদালতের নির্দেশ মেনে কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে ।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । মৃত নাবালিকার মায়ের একটাই দাবি, "যারা আমার মেয়েকে খুন করেছে, তাদের প্রত্যেকের কঠোরতম শাস্তি হোক ।"

