ETV Bharat / state

দড়ি বেঁধে 'শাস্তি' ! অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘোরানো নিয়ে পুলিশের ভূমিকায় বিতর্ক

বিরোধীদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হচ্ছে, যা শুধু মানবাধিকারের পরিপন্থী নয়, আইনের শাসনের ধারণাকেও আঘাত করছে ।

police
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, অধীর চৌধুরী ও রঞ্জিত সুর (নিজস্ব চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : May 30, 2026 at 7:58 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 30 মে: অপরাধী ধরতে পুলিশের কঠোরতা নিয়ে আপত্তি নেই । কিন্তু সেই কঠোরতা যদি আইনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রকাশ্য অপমানের রূপ নেয়, তবে কি তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পক্ষে গ্রহণযোগ্য ? হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে, কখনও বা অর্ধনগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনা সামনে আসতেই সেই প্রশ্নই এখন জোরালো ।

বিরোধী রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন থেকে শুরু করে আইনজীবী মহল, সকলেই এই ঘটনাকে ঘিরে সরব । তাঁদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে অপদস্থ করা হচ্ছে, যা শুধু মানবাধিকারের পরিপন্থী নয়, আইনের শাসনের ধারণাকেও আঘাত করছে ।

সিপিএম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, "অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা হোক, তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বিচার শুরু হওয়ার আগেই কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো একেবারেই মধ্যযুগীয় মানসিকতা। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং স্বৈরাচারী প্রবণতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ।"

একই সুর কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর গলাতেও । তাঁর কথায়, "অপরাধ করলে শাস্তি হবে, জেল হবে, প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে । তার জন্য দেশের আইন ও আদালত রয়েছে । কিন্তু কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করাই যদি শাস্তির বিকল্প হয়ে ওঠে, তবে আইনের শাসন কোথায় ?"

সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনও সরাসরি সংবিধানের 21 নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, হেফাজতে থাকা ব্যক্তি বা অভিযুক্তেরও মানবিক মর্যাদা রক্ষার অধিকার রয়েছে । ডিকে বসু মামলা-সহ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে পুলিশি ক্ষমতার সীমারেখা স্পষ্ট করা হয়েছে । সেই নির্দেশিকার সঙ্গে এই ধরনের আচরণের কোনও সঙ্গতি নেই বলেই দাবি তাদের ।

মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের অভিযোগ আরও তীব্র । সংগঠনের নেতা রঞ্জিত শূর বলেন, "যত বড় অপরাধের অভিযোগই থাকুক না কেন, কাউকে অন্তর্বাস পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানোর অধিকার পুলিশের নেই । এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন ।"

বিরোধীদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলার নামে 'পাবলিক শেমিং' এর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে । এর ফলে আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার বদলে তাৎক্ষণিক অপমানকেই শাস্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে । ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে । সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনায় জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন । আগামী 5 জুন সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ।